সাবরিনার মাধ্যমেই করোনা পরীক্ষা কাজ পেয়েছিল জেকেজি
- প্রকাশ : ০৭:৪৮:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২০
- / 43
অনলাইন ডেস্ক
করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা জালিয়াতিতে জড়িত জেকেজি হেলথ কেয়ারের উত্থানের নেপথ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের বড় একটি চক্র কাজ করেছে বলে জানা গেছে। ওই চক্রের মাধ্যমেই জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যন ডা. সাবরিনা স্বাস্থ্য অধিদফতরের কাছ থেকে করোনা পরীক্ষার অনুমতি বাগিয়ে নেন। রিমান্ডে জেকেজিতে করোনা জালিয়াতির তিন মূলহোতাকে জিজ্ঞাসাবাদে চক্রের বেশ কিছু তথ্য গোয়েন্দাদের কাছে এসেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এসব তথ্য তারা এই মুহূর্তে প্রকাশ করছেন না। তারা তথ্যের সত্যতা যাচাই-বাছাই করছেন।
এদিকে শুক্রবার করোনা টেস্ট জালিয়াতির মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম মাসুদ-উর-রহমান, সাবরিনাকে আবারও দুই দিনে রিমান্ডের এ আদেশ দেন। এর আগে সাবরিনাকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিন দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার সাবরিনাকে আদালতে হাজির করে ফের পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ আদালতে রিমান্ড শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, মামলাটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত মামলা। আসামি সাবরিনা সরকারি চাকরিতে কর্মরত থেকেও বেসরকারি চাকরি করেছেন। করনাকালীন চরম এ দুর্যোগের সময় রোগীদের কাছ থেকে করোনার নমুনা সংগ্রহ করে আসামিরা তা পরীক্ষা না করে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতারণা করেছেন। এতে রোগীরা স্বাধীনভাবে ঘুরে আরও মানুষকে আক্রান্ত করেছেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ একান্ত প্রয়োজন।
অপরদিকে আসামিপক্ষে সাইফুজ্জামান (তুহিন), ওবায়দুল হাসান বাচ্চু, আবদুস সালাম প্রমুখ আইনজীবী আসামির রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানিতে তারা বলেন, আসামি একজন ডাক্তার ও বিসিএস ক্যাডার। আসামিকে এর আগে তিন দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। এরপর আসামিকে ফের রিমান্ডে নেয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। মামলাটি মিডিয়া ট্রায়াল। শুধু মিডিয়ার কারণে সাবরিনা ফেঁসে গেছেন। তা না হলে তিনি গ্রেফতারই হতেন না। এ ছাড়া তার স্বামী বা অন্য কেউ এর সঙ্গে জাড়িত থাকলে এর দায় তার ওপর দেয়া যাবে না। আর প্রতারণার জন্যই সাবরিনা তার স্বামী আরিফকে ডিভোর্স (তালাক) দিয়েছেন।
জবাবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ বলেন, আজ মিডিয়ার কারণে আসামিদের এমন জঘন্য অপকর্ম বাংলাদেশসহ সারা বিশ্ব দেখেছে। ন্যায়বিচার ও তদন্ত ত্বরান্বিত করতে মিডিয়ার অবদান রয়েছে।
জোবেদা খাতুন হেলথ কেয়ারের (জেকেজি) বিরুদ্ধে অভিযোগ- সরকারের কাছ থেকে বিনা মূল্যে নমুনা সংগ্রহের অনুমতি নিয়ে বুকিং বিডি ও হেলথ কেয়ার নামে দুটি সাইটের মাধ্যমে টাকা নিচ্ছিল এবং নমুনা পরীক্ষা ছাড়াই ভুয়া সনদ দিচ্ছিল জেকেজি। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ২২ জুন জেকেজির সাবেক গ্রাফিক্স ডিজাইনার হুমায়ুন কবীর হিরু ও তার স্ত্রী তানজিন পাটোয়ারীকে গ্রেফতার করা হয়।
সে করোনার ভুয়া সার্টিফিকেটের ডিজাইন তৈরি করত বলে হিরু জানায়। আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতেও হিরু জেকেজির জালিয়াতির কথা স্বীকার করেছে। এরপর ২৩ জুন জেকেজির সিইও আরিফুলসহ চারজন গ্রেফতার হয়। আর আরিফুলকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনার সম্পৃক্ততা উঠে আসে। তবে সাবরিনা নিজেকে জেকেজির চেয়ারম্যান নয় বরং প্রতিষ্ঠানটির কোভিড-১৯ বিষয়ক পরামর্শক বলে দাবি করেন।
জানা যায়, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে ৪৪টি বুথ স্থাপন করেছিল সাবরিনা-আরিফ দম্পতির জেকেজি হেলথ কেয়ার। নমুনা সংগ্রহের জন্য মাঠকর্মী নিয়োগ দেয়া ছিল। তাদের হটলাইন নম্বরে রোগীরা ফোন দিলে মাঠকর্মীরা বাড়ি গিয়েও নমুনা সংগ্রহ করতেন। আবার অনেককে জেকেজির বুথের ঠিকানা দেয়া হতো। এভাবে কর্মীরা প্রতিদিন গড়ে ৫০০ মানুষের নমুনা সংগ্রহ করতেন।





















