০৪:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
নোয়াখালীতে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির বিভিন্ন অনিয়ম দুদকে অভিযোগ
সারাবাংলা২৪নিউজ ডেস্ক,ঢাকা
- প্রকাশ : ০৩:১৪:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২০
- / 48
মোজাম্মেল হক, নোয়াখালী
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিরন অর রশিদের বিরুদ্ধে গত ৪ বছর ধরে সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর প্রায় আড়াইশ ভুয়া কার্ড দেখিয়ে চাল উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় দুদকের (দুর্নীতি দমন কমিশন) চেয়ারম্যান বরাবর ওই ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি ইকবাল হোসেন চৌধুরী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগটি দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় নোয়াখালী তদন্ত করছেন।লিখিত ওই অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোনাইমুড়ী উপজেলার ৭ নং বজরা ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর আওতায় হত দরিদ্রদের জন্য ১০ টাকা কেজি দরে প্রতি পরিবারে ৩০ কেজি করে বছরে পাঁচ মাস চাল দেয়ার কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়। এ কর্মসূচীর আওতায় বজরা ইউনিয়নে ৮৪২ জন হতদরিদ্রের তালিকা চুড়ান্ত করে তাদের জাতীয় পরিচয় পত্র দেখে কার্ড দেওয়া হয়। ৮৪২ জন কার্ডধারীর মধ্যে প্রায় আড়াইশ কার্ডধারী কাগজে কলমে থাকলেও তারা চাল পায়নি। অথচ ওই ভুয়া কার্ড দেখিয়ে মাস্টাররোলের মাধ্যমে ২৪৬ জনের চাল দীর্ঘ ৪ বছর যাবৎ উত্তোলন করে চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীরা তা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ জানা গেছে।অভিযোগে আরও বলা হয়, সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রনয়নে ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। নিয়মানুযায়ী প্রতি ওয়ার্ডে ৯৪ জন করে হতদরিদ্রের তালিকা চুড়ান্ত করার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান তার নিজ ওয়ার্ডে (৪নং ওয়ার্ড) ২২৩ জনকে তালিকা ভুক্ত করেছেন। যাদের মধ্যে একই পরিবারের দুই জনের নামও রয়েছে।
এদিকে চেয়ারম্যানের এসকল অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উক্ত তালিকা পুনঃযাচাই করান। এতে ২৪৬ টি কার্ডে অনিয়ম ধরা পড়ে বলে জানা গেছে।ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বজরা ইউনিয়নে সুবিধাভোগী নামের তালিকায় সমস্যাযুক্ত কার্ডধারীর সংখ্যা ১২ জন। তালিকার সাথে কার্ডের উপকার ভোগীর মিল নেই ৫ জনের। ২৫ জন কার্ডধারীর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি, চার বছরে একবার চাল উত্তোলনকারীর সংখ্যা ৫ জন, একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রী সুবিধাভোগীর সংখ্যা ১৩ জন। এ কর্মসূচীর আওতায় সুবিধা পাওয়ার অযোগ্য ৮ জন। কাগজে কলমে আছে কিন্তু কার্ড নেই এমন ১৪ জন। নিয়মিত চাল না পাওয়া কার্ডধারীর সংখ্যা ৪১ জন ও মৃত ব্যক্তির নামে কার্ড আছে ১২ টি।
এ ব্যাপারে বজরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিরন অর রশিদ বলেন, ‘তালিকা প্রনয়ণ করা হয়েছে ২০১৬ সালে । আমি এ তালিকা প্রণয়নের কাজ করিনি। অভিযোগকারী আমার প্রতিপক্ষের লোক’।
এ ব্যাপারে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় নোয়াখালীর উপ পরিচালক মো. জাহাঙ্গির আলম বজরা ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তার কার্যালয়ের একজন উপ সহকারী পরিচালক (ডিএডি) ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেছেন। কিছু কিছু অনিয়ম পাওয়া গেছে। তদন্ত এখনও চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে। তিনি আরও বলেন, ‘তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগীদের মাঝে আগামী কিস্তিতে চাল গবিতরণের সময় কার্ডগুলো ভালো করে তল্লাশি করা হবে।

























