০৭:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
উইঘুর মুসলিমদের উপর নির্যাতনের অভিযোগে চীন সরকারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে মার্কিন প্রতিবেদনে
সারাবাংলা২৪নিউজ ডেস্ক,ঢাকা
- প্রকাশ : ১২:৩৪:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২০
- / 85
অনলাইন ডেস্ক
চীন তার সংখ্যালঘু গোষ্ঠী বিশেষত উত্তর- পশ্চিম জিনজিয়াং প্রদেশের উইঘুর মুসলিম, খ্রিস্টান, তিব্বতি বৌদ্ধ এবং ফালুন গং অনুশীলনকারীদের উপর তীব্র ধর্মীয় নিপীড়ন চালাচ্ছে, বলে দাবি করা হয়েছে মার্কিন পরররাষ্ট্র দফতর কর্তৃক প্রকাশিত এক বার্ষিক প্রতিবেদন।
বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় স্বাধীনতার উপর করা এই জরিপে উঠে এসেছে, ‘চীনে নাগরিকদের ধর্মীয় বিশ্বাসের স্বাধীনতা রয়েছে কিন্তু রাষ্ট্র ধর্মীয় অনুশীলনকে সীমাবদ্ধ করেছে ‘ সাধারণ ধর্মীয় কর্মকাণ্ড’ এর মাধ্যমে এবং সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অনুশীলনকে ‘সাধারণ’ হিসেবে গণ্য করে না। চীনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং ‘চীন কমিউনিস্ট পার্টির সকল সদস্যকে নিরপেক্ষ মার্কসবাদী হতে হবে’ এমন আদেশ জারি করলেও চীন সরকার নাগরিকদের ধর্মীয় কার্যকলাপ এবং বিশ্বাসের স্বাধীনতাকে রাষ্ট্র এবং সিসিপি’র স্বার্থবীরোধী মনে করে এবং তার উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রেখেছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বেইজিং মূলত পাঁচটি ধর্মকে স্বীকৃতি দিয়ে থাকে, যথা- বৌদ্ধ, তাও, ইসলাম, প্রোটেস্টানিজম এবং ক্যাথলিক মতবাদ। এবং শুধুমাত্র এই পাঁচটি ধর্মের অনুসারীরা রাষ্ট্র অনুমোদিত ‘দেশপ্রেমিক ধর্মীয় সংঘ’ এর অন্তর্ভুক্ত, যেটি ধর্মগুলোকে সরকারিভাবে নিবন্ধন করার এবং উপাসনার অনুমতি দিয়ে থাকে।
মার্কিন সরকারের অনুমান, ২০১৭ সাল থেকে চীন সরকার উইঘুর, কাজাখ, হুন এবং অন্যান্য মুসলিম গোষ্ঠীর সদস্যদের পাশাপাশি উইঘুর খ্রিস্টানদেরকেও কেবলমাত্র তাদের জাতিগত ও ধর্মীয় পরিচয়ের জন্য বিচারবিহীনভাবে জিনজিয়াং এর অভ্যন্তরীণ শিবিরে আটকে রেখে দমন, নিপীড়ন, শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতন চালিয়ে আসছে।
রাজ্য সরকার আরো একটি তৃতীয় নথির কথা উদ্ধৃত করে, ‘কারাক্যাক্স তালিকা’ যেটি মূলত নভেম্বর মাসে ফাঁস হয়েছিল এবং পরে প্রকাশ্যে প্রকাশিত হয়। চীন সরকার প্রাথমিকভাবে হুতান প্রদেশের কারাকাক্স কাউন্টিতে চারটি পুনর্নির্মাণ কেন্দ্রে ধর্মীয় ভিত্তিতে সংখ্যালঘুদের বন্দী রেখেছিল। জিনজিয়াং কর্তৃপক্ষ মসজিদগুলোতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিল এবং রমজানে যুবসমাজকে রোজা রাখতে বাধা দিয়েছিল। মানবাধিকার সংঘ এবং আন্তর্জাতিক প্রচার মাধ্যমগুলোর দাবি, সরকার সাধারণের ধর্মীয় অনুশাসন পালনের উপর কড়া আক্রমণাত্মক নজরদারি রেখেছিল। স্যটেলাইট চিত্র এবং অন্যান্য উৎস থেকে জানা যায়, সরকার মসজিদ, কবরস্থান এবং অন্যান্য ধর্মীয় স্থানগুলিকে ধ্বংস করেছিল।
১৯৯৯ সালের একটি প্রতিবেদনে, চীনকে ‘আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা আইন ১৯৯৮’ এর আওতায় দেশটিতে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের দায়ে ‘ কান্ট্রি অব পার্টিকুলার কনসার্ন (সিপিসি)’ হিসেবে মনোনীত করা হয়। গত ১৮ ই ডিসেম্বর, মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব ‘পররাষ্ট্র আইন ১৯৯০ এবং ১৯৯১ (গণ আইন ১০১-২৪৬)’ এর ৪০২ (সি) (৫) ধারার অধীনে চীনকে পুনরায় ‘সিপিসি’ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ২ জুন আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা উন্নয়নের জন্য একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করার পরই প্রতিবেদনটি সামনে আসে। আদেশটিতে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি পরিকল্পনা করতে বলা হয় এবং এ বাবদ প্রতি বছর নূন্যতম ৫০ মিলিয়ন ডলার বাজেট ঘোষণা করা হয়।











