দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে পোষ্ট অফিসের ডাকবাক্স
- প্রকাশ : ০৩:৫৪:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অগাস্ট ২০১৮
- / 147
বিদেশ গিয়া বন্ধু তুমি আমায় ভুইলোনা, চিঠি দিয়ো পত্র দিয়ো জানাইয়ো ঠিকানা”
একটা সময় ছিলো যখন দূর দেশে কর্মরত স্বামীর কাছ থেকে পাঠানো টাকা আর চিঠির খবর নিতে সময় হওয়ার আগেই ছেলেকে মা পাঠাতেন ডাকঘরে। মানুষ ডাকযোগে চিঠিপত্র, টাকা, দলিলাদি দেশের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে প্রেরণ করত। দূর-দূরান্ত থেকে কত শত আনন্দ বেদনার খবর যে বয়ে নিয়ে আসত চিঠি। প্রিয়জনের চিঠি, সন্তানের চিঠি, মা-বাবার চিঠি কত চিঠির জন্য কত অগণিত মানুষের নিত্য কাটত কত অগণিত অপেক্ষার প্রহর তার কোনো কূল-কিনারা নেই। চিঠির অপেক্ষার তর সইতে না পেরে কখনো কখনো মানুষ চলে যেত ডাকঘরে। ডাক পিয়ন কোন পাড়া-মহল্লায় গেলে মানুষ ছুটে এসে ডাক পিয়নের কাছে জিজ্ঞাসা করতো তার কোন চিঠিপত্র এসেছে কিনা। আবার অনেকে কাকডাকা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতো কখন ডাক পিয়ন আসবে। চিঠি ছিল গ্রামবাংলা এমনকি শহুরে জীবনের অংশ। প্রতিদিনকার জীবনের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ছিল ডাকঘর আর রানার।
মোবাইল, ইন্টারনেট, ফেসবুকসহ তথ্যপ্রযুক্তির নানাবিধ ব্যবহারে মানুষের জীবন থেকে দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে চিঠি আর চিঠিকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ড। প্রযুক্তির যুগে জন্ম নেয়া নতুন প্রজন্মের অভিজ্ঞতায়ই নেই চিঠি লেখা আর খাম খুলে প্রিয়জনের হাতে লেখা চিঠি পড়া, আপনজনের চিঠির জন্য অপেক্ষার মধুর আনন্দ বেদনার মুহুর্ত। অথচ হাতে লেখা চিঠিই ছিল শত বছর ধরে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। দেশের বিভিন্নস্থানে গাছে, দেয়ালে, ষ্টেশনে, ফ্লাটফর্মে ডাকবাক্স চোখে পড়তো। বিভিন্ন ডাকঘর ও উপ-ডাকঘরের সামনে পাশাপাশি থাকতো আলাদা ডাকবক্স। একটি দেশে বিতরণের জন্য, অন্যটি বিদেশে বিতরণের জন্য। ডাক বিভাগের লোকজন দিনে একবার ডাকবাক্স খুলে চিঠিপত্র সংগ্রহ করে নিত এবং সঠিক সময়ে নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছে দিতো সে চিঠি। সরকারি বিভিন্ন সেবাসংস্থা, বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিও বছরে লাখ লাখ চিঠি বিতরণ করে। এসবের মধ্যে অনেক চিঠি তারা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বিতরণ করেন। ব্যক্তিগত চিঠি প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই কদর কমে গেছে চিঠির বাক্সগুলোর।


























