চৌগাছায় পৃথক ঘটনায় ২৪ ঘণ্টায় তিনজনের আত্মহত্যা
- প্রকাশ : ০৯:৪৪:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
- / 76
যশোরের চৌগাছায় ২৪ ঘণ্টায় পৃথক ঘটনায় এক গৃহবধূসহ তিনজন আত্মহত্যা করেছেন বলে পরিবার দাবি করেছে। নিহত গৃহবধূর ১৭ মাস বয়সী শিশু কন্যা মারাত্মক অসুস্থ হয়ে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল চারটা থেকে মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল চারটার মধ্যে এসব আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, গৃহবধূ জেসমিন আক্তার (৩৫), কৃষক আব্দুল খালেক (৫০) এবং যানবাহন শ্রমিক বায়েজিদ হোসেন (১৮)। চৌগাছা উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের পেটভরা গ্রামের ইউপি সদস্য শামীম রেজা বলেন, পেটভরা গ্রামের সিরাজুল ইসলামের মেয়ে জেসমিন আক্তারের চার বছর আগে উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের সাদিপুর গ্রামের মুক্তার হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয়। তাদের জেরিন (১৭মাস) নামে একটি মেয়ে রয়েছে।
এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য ছিল। সোমবার সন্ধ্যায় জেসমিনের শ্বশুর বাড়ি থেকে সংবাদ আসে জেসমিন ও তার মেয়ে জেরিন ঘাস পোড়া পাউডার খেয়েছে। তখন তাদের উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসক।
সেখানে জেসমিনের অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা মঙ্গলবার সকালে খুলনায় রেফার করেন। তবে জেসমিনের শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে খুলনায় না নিয়ে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যায়। জেসমিনের বাবার বাড়ির লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে আমিসহ মঙ্গলবার বিকেল চারটার কিছু আগে সাদিপুর গ্রামে গেলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে যায়।
সেখান থেকে আমরা উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি জানান, জেসমিনের ১৭মাস বয়সী কন্যা জেরিন আশঙ্কাজনক অবস্থায় যশোর ২৫০শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার সিংহঝুলি ইউনিয়নের বলিদাপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেকের অভাব-অনটনের কারণে স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকতো। মঙ্গলবার সকালেও পারিবারিক বিষয়ে স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে বিবাদ হয়। পরে তিনি বাড়ি থেকে ধানের ক্ষেতে গিয়ে সকাল ১০টার দিকে ধানে দেয়া কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। মাঠে কাজ করা অন্য কৃষকরা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর যশোর ২৫০শয্যা হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
যানবাহন শ্রমিক বায়েজিদ হোসেন উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের মাড়ুয়া গ্রামের মৃত-মুক্তার আলীর ছেলে। অতি দরিদ্র পরিবারের বায়েজিদ স্থানীয় ইঞ্জিন চালিত যানবাহন আলমসাধু চালক ছিলো। বছরখানেক আগে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে সে কিছুটা মানসিক ভারসাম্য হারায়। এরপর থেকে কাজ করতো না।
মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে যা রোজগার করতো তাতেই চলতো আর নিজে এখনে ওখানে ঘুরে বেড়াতো। সোমবার দুপুরে খাওয়ার সময় মা কাজ করার কথা বলে বকাঝকা করলে অভিমানে ঘরের আড়ার সঙ্গে একটি গায়ে দেওয়া চাদর দিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। মায়ের চিৎকারে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে বিকাল সাড়ে চারটায় তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, পৃথক অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।




















