০১:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিআই পণ্যের তালিকা করার নির্দেশ হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
  • প্রকাশ : ০৮:৪৪:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / 45

বাংলাদেশের যেসব পণ্য ভৌগলিক নির্দেশক বা জিআই সনদ পাওয়ার যোগ্য, তার তালিকা করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
সোমবার এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আগামী ১৯ মার্চের ওই তালিকা দাখিল করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
একইসঙ্গে জিআই পণ্যের তালিকা তৈরি ও রেজিস্ট্রেশন করতে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানাতে রুল জারি করা হয়েছে।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সারোওয়াত সিরাজ শুক্লা।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ১৯ মার্চের মধ্যে সব জিআই পণ্যের তালিকা দাখিল করতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এ ছাড়া জিআই পণ্যের তালিকা তৈরি ও রেজিস্ট্রেশন করতে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানাতে বাণিজ্য সচিব, কৃষি সচিব, সংস্কৃতি সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি
ভারত টাঙ্গাইল শাড়িকে নিজেদের দাবি করে জিআই পণ্য হিসেবে ঘোষণা করার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। এরপর কিছুদিন আগে টাঙ্গাইল শাড়িকে জিআই পণ্যের স্বীকৃতি দেয় শিল্প মন্ত্রণালয়।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সব জিআই পণ্যের তালিকা তৈরির নির্দেশনা চেয়ে রোববার জনস্বার্থে এ রিট মামলা করেন সারোওয়াত সিরাজ শুক্লা।
ভৌগলিক নির্দেশক (জিওগ্রাফিক্যাল ইনডিকেশন- জিআই) হচ্ছে- একটি প্রতীক বা চিহ্ন, যা পণ্য ও সেবার উৎস, গুণাগুণ ও সুনাম ধারণ ও প্রচার করে।
কোনো দেশের আবহাওয়া ও পরিবেশ যদি কোনো পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব রাখে, সেই দেশের সংস্কৃতির সাথে যদি বিষয়টি সম্পর্কিত হয়, তাহলে সেটিকে সে দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পেটেন্ট ডিজাইন অ্যান্ড ট্রেড মার্কস অধিদপ্তর জিআই নিবন্ধন দেয়। ২০১৩ সালে বাংলাদেশে এ সংক্রান্ত আইন এবং ২০১৫ সালে বিধিমালা হয়।
২০১৬ সালে বাংলাদেশের প্রথম ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের স্বীকৃতি পায় জামদানি। এরপর ইলিশ, ক্ষীরশাপাতি আম, ঢাকাই মসলিন, রংপুরের শতরঞ্জি, রাজশাহী সিল্ক, দিনাজপুরের কাটারিভোগ, নেত্রকোণার বিজয়পুরের সাদামাটি, বাংলাদেশের কালিজিরা চাল, বাগদা চিংড়ি এবং রাজশাহী-চাপাইনবাগঞ্জের সুস্বাদু ফজলি আম এ স্বীকৃতি পায়।
গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের মোট ২১টি পণ্য জিআই হিসেবে নিবন্ধিত হলেও মোট ১৪টি পণ্যের জন্য নতুন করে আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া, আবেদনের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে আরও দুটি পণ্য।
ইন্টারন্যাশনাল প্রোপার্টি রাইটস অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউআইপিও) নিয়ম মেনে শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্টস, ডিজাইন অ্যান্ড ট্রেডমার্ক অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) জিআই সনদ দেয়।

Please Share This Post in Your Social Media

জিআই পণ্যের তালিকা করার নির্দেশ হাইকোর্টের

প্রকাশ : ০৮:৪৪:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

বাংলাদেশের যেসব পণ্য ভৌগলিক নির্দেশক বা জিআই সনদ পাওয়ার যোগ্য, তার তালিকা করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
সোমবার এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আগামী ১৯ মার্চের ওই তালিকা দাখিল করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
একইসঙ্গে জিআই পণ্যের তালিকা তৈরি ও রেজিস্ট্রেশন করতে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানাতে রুল জারি করা হয়েছে।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সারোওয়াত সিরাজ শুক্লা।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ১৯ মার্চের মধ্যে সব জিআই পণ্যের তালিকা দাখিল করতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এ ছাড়া জিআই পণ্যের তালিকা তৈরি ও রেজিস্ট্রেশন করতে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানাতে বাণিজ্য সচিব, কৃষি সচিব, সংস্কৃতি সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি
ভারত টাঙ্গাইল শাড়িকে নিজেদের দাবি করে জিআই পণ্য হিসেবে ঘোষণা করার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। এরপর কিছুদিন আগে টাঙ্গাইল শাড়িকে জিআই পণ্যের স্বীকৃতি দেয় শিল্প মন্ত্রণালয়।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সব জিআই পণ্যের তালিকা তৈরির নির্দেশনা চেয়ে রোববার জনস্বার্থে এ রিট মামলা করেন সারোওয়াত সিরাজ শুক্লা।
ভৌগলিক নির্দেশক (জিওগ্রাফিক্যাল ইনডিকেশন- জিআই) হচ্ছে- একটি প্রতীক বা চিহ্ন, যা পণ্য ও সেবার উৎস, গুণাগুণ ও সুনাম ধারণ ও প্রচার করে।
কোনো দেশের আবহাওয়া ও পরিবেশ যদি কোনো পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব রাখে, সেই দেশের সংস্কৃতির সাথে যদি বিষয়টি সম্পর্কিত হয়, তাহলে সেটিকে সে দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পেটেন্ট ডিজাইন অ্যান্ড ট্রেড মার্কস অধিদপ্তর জিআই নিবন্ধন দেয়। ২০১৩ সালে বাংলাদেশে এ সংক্রান্ত আইন এবং ২০১৫ সালে বিধিমালা হয়।
২০১৬ সালে বাংলাদেশের প্রথম ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের স্বীকৃতি পায় জামদানি। এরপর ইলিশ, ক্ষীরশাপাতি আম, ঢাকাই মসলিন, রংপুরের শতরঞ্জি, রাজশাহী সিল্ক, দিনাজপুরের কাটারিভোগ, নেত্রকোণার বিজয়পুরের সাদামাটি, বাংলাদেশের কালিজিরা চাল, বাগদা চিংড়ি এবং রাজশাহী-চাপাইনবাগঞ্জের সুস্বাদু ফজলি আম এ স্বীকৃতি পায়।
গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের মোট ২১টি পণ্য জিআই হিসেবে নিবন্ধিত হলেও মোট ১৪টি পণ্যের জন্য নতুন করে আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া, আবেদনের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে আরও দুটি পণ্য।
ইন্টারন্যাশনাল প্রোপার্টি রাইটস অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউআইপিও) নিয়ম মেনে শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্টস, ডিজাইন অ্যান্ড ট্রেডমার্ক অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) জিআই সনদ দেয়।