০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইয়াবার করাল গ্রাস: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে অভিযোগ।

নরসিংদী প্রতিনিধি।
  • প্রকাশ : ০২:২৩:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ জুন ২০২৫
  • / 51

জাতীয় সাপ্তাহিক অন্যায়ের প্রতিবাদ।

নরসিংদীর প্রতিনিধি।

নরসিংদী শহর ও আশপাশের এলাকাগুলোতে মাদকের ছড়াছড়ি আজ আর গোপন কোনো বিষয় নয়। বিশেষ করে ইয়াবার ব্যবহারে নারীদের অংশগ্রহণ দিন দিন আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। শহরের অভিজাত হোটেল-মোটেল, দামি রেস্টুরেন্ট ও বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে কথিত ইউনিভার্সিটি ও কলেজে পড়ুয়া ছাত্রীরা পুরুষ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার ছলে ইয়াবা সেবন করছে—যা এখন ওপেন সিক্রেট।

এদিকে মাদকের বিস্তারে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও নির্লিপ্ততা চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “মাদকদ্রব্য আটক করা পুলিশের মূল দায়িত্ব নয়। আমাদের আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে। আমরা শুধু মাদক উদ্ধারে সহযোগিতা করি। মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য আলাদা ডিপার্টমেন্ট রয়েছে।”

এই “আলাদা ডিপার্টমেন্ট” অর্থাৎ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) বিরুদ্ধে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। স্থানীয় সূত্র বলছে, তারা অভিযান চালানোর বদলে প্রতিটি মাদক স্পট থেকে মাসিক চাঁদা (মান্থলি) উত্তোলন করে থাকে। নরসিংদীর অনেক এলাকাবাসী, এমনকি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, “মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর একটি ব্যর্থ প্রতিষ্ঠান। তারা শুধু মাস শেষে মান্থলি তুলে চলে যায়। বাস্তবে কোনো কার্যকর অভিযান বা সফলতা নেই।”

মাদক ব্যবসার ঘাঁটি হয়ে উঠেছে নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকা:

বানিয়াচল, খালপাড়, বানু, আনার ন্যাংটা, জরিনা, বিউটি

পৌরসভা পিছনে: মৌলি, অলি, সুরভী, মিতালী, আলিফ

হাজীপুর: গনিবাইদ্যা, স্বপন
নরসিংদী পুলিশ সুপার অফিসের সংলগ্ন এলাকায় গুলিতে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা,সহ দেশী,বিদেশী মদ, ফেন্সিডিল। টাওয়াদীতে কাসেম ডাঃ ও শফিক ডাঃ সুফিয়া ,হামজা,ও অনেকেই।
কাউরিয়া পাড়া: সহিল, তুহিন মাধবদী: ডাক্তার বাবুল, কাওসার, সেফল, রেলওয়ে কলোনি ও চৈতা পাড়া: শাহাবুদ্দি, শাহাজাদী, মনুর বউ।এসব এলাকায় বাংলা মদ, ইয়াবা, গাঁজা সহজলভ্য পণ্যে পরিণত হয়েছে। হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক—এমনটাই জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

জুলাই আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা, একাধিক সমন্বয়ক বলছে: “বর্তমানে নরসিংদীতে মাদকের সয়লাব চলছে। এর মূল কারণ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নিষ্ক্রিয়তা ও দুর্নীতি। তাদের পরিবর্তন করতেই হবে—আমরাই পরিবর্তন করব।”

সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত এই ডিপার্টমেন্ট পুনর্গঠন করতে হবে। পাশাপাশি পুলিশ ও প্রশাসনের সমন্বয়ে গঠন করতে হবে টাস্কফোর্স, যারা মাসিক চাঁদা নয়, বরং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাস্তব পদক্ষেপ নেবে।

নরসিংদীতে মাদক এখন শুধু যুব সমাজের নয়, নারীদেরও ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী প্রজন্ম চরম অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হবে। এখনই সময়, প্রশাসন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পুলিশকে সমন্বিতভাবে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

ইয়াবার করাল গ্রাস: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে অভিযোগ।

প্রকাশ : ০২:২৩:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ জুন ২০২৫

জাতীয় সাপ্তাহিক অন্যায়ের প্রতিবাদ।

নরসিংদীর প্রতিনিধি।

নরসিংদী শহর ও আশপাশের এলাকাগুলোতে মাদকের ছড়াছড়ি আজ আর গোপন কোনো বিষয় নয়। বিশেষ করে ইয়াবার ব্যবহারে নারীদের অংশগ্রহণ দিন দিন আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। শহরের অভিজাত হোটেল-মোটেল, দামি রেস্টুরেন্ট ও বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে কথিত ইউনিভার্সিটি ও কলেজে পড়ুয়া ছাত্রীরা পুরুষ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার ছলে ইয়াবা সেবন করছে—যা এখন ওপেন সিক্রেট।

এদিকে মাদকের বিস্তারে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও নির্লিপ্ততা চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “মাদকদ্রব্য আটক করা পুলিশের মূল দায়িত্ব নয়। আমাদের আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে। আমরা শুধু মাদক উদ্ধারে সহযোগিতা করি। মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য আলাদা ডিপার্টমেন্ট রয়েছে।”

এই “আলাদা ডিপার্টমেন্ট” অর্থাৎ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) বিরুদ্ধে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। স্থানীয় সূত্র বলছে, তারা অভিযান চালানোর বদলে প্রতিটি মাদক স্পট থেকে মাসিক চাঁদা (মান্থলি) উত্তোলন করে থাকে। নরসিংদীর অনেক এলাকাবাসী, এমনকি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, “মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর একটি ব্যর্থ প্রতিষ্ঠান। তারা শুধু মাস শেষে মান্থলি তুলে চলে যায়। বাস্তবে কোনো কার্যকর অভিযান বা সফলতা নেই।”

মাদক ব্যবসার ঘাঁটি হয়ে উঠেছে নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকা:

বানিয়াচল, খালপাড়, বানু, আনার ন্যাংটা, জরিনা, বিউটি

পৌরসভা পিছনে: মৌলি, অলি, সুরভী, মিতালী, আলিফ

হাজীপুর: গনিবাইদ্যা, স্বপন
নরসিংদী পুলিশ সুপার অফিসের সংলগ্ন এলাকায় গুলিতে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা,সহ দেশী,বিদেশী মদ, ফেন্সিডিল। টাওয়াদীতে কাসেম ডাঃ ও শফিক ডাঃ সুফিয়া ,হামজা,ও অনেকেই।
কাউরিয়া পাড়া: সহিল, তুহিন মাধবদী: ডাক্তার বাবুল, কাওসার, সেফল, রেলওয়ে কলোনি ও চৈতা পাড়া: শাহাবুদ্দি, শাহাজাদী, মনুর বউ।এসব এলাকায় বাংলা মদ, ইয়াবা, গাঁজা সহজলভ্য পণ্যে পরিণত হয়েছে। হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক—এমনটাই জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

জুলাই আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা, একাধিক সমন্বয়ক বলছে: “বর্তমানে নরসিংদীতে মাদকের সয়লাব চলছে। এর মূল কারণ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নিষ্ক্রিয়তা ও দুর্নীতি। তাদের পরিবর্তন করতেই হবে—আমরাই পরিবর্তন করব।”

সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত এই ডিপার্টমেন্ট পুনর্গঠন করতে হবে। পাশাপাশি পুলিশ ও প্রশাসনের সমন্বয়ে গঠন করতে হবে টাস্কফোর্স, যারা মাসিক চাঁদা নয়, বরং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাস্তব পদক্ষেপ নেবে।

নরসিংদীতে মাদক এখন শুধু যুব সমাজের নয়, নারীদেরও ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী প্রজন্ম চরম অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হবে। এখনই সময়, প্রশাসন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পুলিশকে সমন্বিতভাবে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।