সীমান্তে অবকাঠামো ইস্যুতে জটিলতা: বাংলাদেশের রাস্তা মেরামতে বাধা, সময় চাইল ভারত।
- প্রকাশ : ১০:০৭:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
- / 30
জাতীয় সাপ্তাহিক অন্যায়ের প্রতিবাদ।
মোঃ জাকির হোসেন, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি।
পতাকা বৈঠকে ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় চাইল ভারত
ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কার কার্যক্রম আন্তর্জাতিক চুক্তি, প্রটোকল এবং সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধি-বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তার ব্যত্যয় ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রমে এক ধরনের দ্বৈতনীতি অনুসরণের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের সীমান্তসংলগ্ন খলিশাকোটাল গ্রামে সম্প্রতি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি কাঁচা রাস্তা মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাতে বাধা দেয়। এলাকাটি স্থানীয়দের বসতভিটার পাশেই অবস্থিত এবং দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
সীমান্ত সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক বিধি অনুযায়ী, শূন্যরেখা (জিরো লাইন) থেকে ১৫০ গজের মধ্যে কোনো ধরনের স্থায়ী বা অস্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ বা সংস্কারের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এই বিধিনিষেধ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হলেও ভারতের ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না।
কারণ, একই সীমান্তের অপর পাশে ভারতীয় অংশে পূর্ব থেকে বিদ্যমান একটি পাকা রাস্তার পাশে বর্তমানে ভেকু (এক্সকাভেটর) মেশিন ব্যবহার করে মাটি কেটে খাল খনন ও নতুন রাস্তা নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ওই পাকা রাস্তাটি অবিভক্ত বাংলার সময় থেকেই থাকলেও বর্তমানে সেখানে নতুন অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ পরিস্থিতিতে সীমান্তের ভারসাম্য ও আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন রক্ষার স্বার্থে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) ভারতীয় কার্যক্রমে আপত্তি জানায় এবং বাধা প্রদান করে। পরে বিষয়টি নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ভারতীয় পক্ষ চলমান কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে আগামী ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত সময় চেয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, সীমান্তে অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে ভারত একতরফাভাবে সুবিধা নিচ্ছে, অথচ বাংলাদেশের ন্যূনতম উন্নয়ন কার্যক্রমেও বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এতে সীমান্ত এলাকার মানুষের স্বাভাবিক চলাচল, কৃষিকাজ এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সীমান্ত সংশ্লিষ্ট এই পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা আন্তর্জাতিক চুক্তি ও সীমান্ত সংক্রান্ত বিধি-বিধান উভয় দেশের জন্য সমভাবে ও ন্যায্যভাবে প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন।










