১০:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নীলকমল নদীর ওপর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে বাধ্য হচ্ছেন এলাকাবাসী।

মোঃ জাকির হোসেন ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি।
  • প্রকাশ : ০৭:১৬:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 18

জাতীয় সাপ্তাহিক অন্যায়ের প্রতিবাদ।

মোঃ জাকির হোসেন ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি।

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় নীলকমল নদীর ওপর নির্মিত একটি বাঁশের সাঁকো দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সংস্কারের অভাবে নড়বড়ে হয়ে পড়া এই সাঁকো দিয়েই কুটিচন্দ্রখানা ও সাবেক ছিট মহলের হাবিবপুর গ্রামসহ আশপাশের অন্তত তিন গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ প্রতিদিন চলাচল করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৩০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকোটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এর একাধিক বাঁশের চরাট ভেঙে গেছে। কোথাও কোথাও বড় বড় ফাঁক তৈরি হওয়ায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সাঁকোটি পিচ্ছিল হয়ে পড়ে, ফলে পা পিছলে পড়ে যাওয়ার ঘটনা নিত্যদিনের। এতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন স্কুলগামী শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্করা। ইতোমধ্যে একাধিক ছোটখাটো দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান হাবিব, আব্দুল মালেক, চাঁদনি, মেঘলা ও আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এই বাঁশের সাঁকোটিই তাদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। বাজারে যাওয়া, স্কুল-কলেজে যাতায়াত এমনকি চিকিৎসা সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও এই সাঁকো ব্যবহার করতে হয়। অসুস্থ রোগী পারাপারের সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অনেক সময় রোগীকে কাঁধে কিংবা খাটিয়ায় করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার করাতে হয়।

স্থানীয় শিক্ষার্থী অনিক ও আশিক জানান, প্রতিদিন এই সাঁকো দিয়েই তাদের স্কুল ও কলেজে যেতে হয়। বর্ষা মৌসুম কিংবা ভোরবেলার কুয়াশার সময় সাঁকো পার হওয়া আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হতে হয় তাদের। দ্রুত সাঁকোটি মেরামত করা হলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত অনেকটাই নিরাপদ হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

ফুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন ও রশিদ হারুন বলেন, বাঁশের সাঁকোটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এলাকাবাসীর দুর্ভোগের বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের সভায় আলোচনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সাঁকোটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মামুনুর রহমান জানান, নীলকমল নদীর ওই স্থানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের প্রস্তাব ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন ও বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোটি মেরামত অথবা সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

নীলকমল নদীর ওপর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে বাধ্য হচ্ছেন এলাকাবাসী।

প্রকাশ : ০৭:১৬:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

জাতীয় সাপ্তাহিক অন্যায়ের প্রতিবাদ।

মোঃ জাকির হোসেন ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি।

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় নীলকমল নদীর ওপর নির্মিত একটি বাঁশের সাঁকো দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সংস্কারের অভাবে নড়বড়ে হয়ে পড়া এই সাঁকো দিয়েই কুটিচন্দ্রখানা ও সাবেক ছিট মহলের হাবিবপুর গ্রামসহ আশপাশের অন্তত তিন গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ প্রতিদিন চলাচল করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৩০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকোটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এর একাধিক বাঁশের চরাট ভেঙে গেছে। কোথাও কোথাও বড় বড় ফাঁক তৈরি হওয়ায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সাঁকোটি পিচ্ছিল হয়ে পড়ে, ফলে পা পিছলে পড়ে যাওয়ার ঘটনা নিত্যদিনের। এতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন স্কুলগামী শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্করা। ইতোমধ্যে একাধিক ছোটখাটো দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান হাবিব, আব্দুল মালেক, চাঁদনি, মেঘলা ও আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এই বাঁশের সাঁকোটিই তাদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। বাজারে যাওয়া, স্কুল-কলেজে যাতায়াত এমনকি চিকিৎসা সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও এই সাঁকো ব্যবহার করতে হয়। অসুস্থ রোগী পারাপারের সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অনেক সময় রোগীকে কাঁধে কিংবা খাটিয়ায় করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার করাতে হয়।

স্থানীয় শিক্ষার্থী অনিক ও আশিক জানান, প্রতিদিন এই সাঁকো দিয়েই তাদের স্কুল ও কলেজে যেতে হয়। বর্ষা মৌসুম কিংবা ভোরবেলার কুয়াশার সময় সাঁকো পার হওয়া আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হতে হয় তাদের। দ্রুত সাঁকোটি মেরামত করা হলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত অনেকটাই নিরাপদ হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

ফুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন ও রশিদ হারুন বলেন, বাঁশের সাঁকোটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এলাকাবাসীর দুর্ভোগের বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের সভায় আলোচনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সাঁকোটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মামুনুর রহমান জানান, নীলকমল নদীর ওই স্থানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের প্রস্তাব ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন ও বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোটি মেরামত অথবা সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।