জাপানে মায়ের আদর বঞ্চিত নিঃসঙ্গ বানর ‘পাঞ্চ’
- প্রকাশ : ০২:১৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 6
জাতীয় সাপ্তাহিক অন্যায়ের প্রতিবাদ।
হৃদয় চন্দ্র দাস। আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
জাপানের টোকিও শহরের অদূরে ইচিকাওয়া সিটি চিড়িয়াখানায় জন্ম নেওয়া সাত মাস বয়সি এক ম্যাকাক (মাঝারি আকারের বাদামী বা ধূসর রঙের) বানর বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট তারকায় পরিণত হয়েছে। ‘পাঞ্চ’ নামের এই বানরটি জন্মের পরপরই মায়ের আদর থেকে বঞ্চিত হয়। চিড়িয়াখানার কর্মী ও একটি খেলনা পুতুলের সান্নিধ্যে বেড়ে ওঠা নিঃসঙ্গ পাঞ্চ এখন ধীরে ধীরে নিজস্ব বানর সম্প্রদায়ের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছে।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ ও মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্যমতে, গত বছরের জুলাই মাসে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে এক কঠিন প্রসবের পর পাঞ্চের জন্ম হয়। এরপরই তার মা তাকে ত্যাগ করে। সে ছিল তার মায়ের প্রথম সন্তান। জন্মের পর থেকে চিড়িয়াখানার কর্মীদের পরম যত্নে বড় হতে থাকে সে।
গত জানুয়ারিতে তাকে ‘মাঙ্কি মাউন্টেন’ নামের মূল বানরদের ঘেরাটোপে ফিরিয়ে আনা হয়। কিন্তু মায়ের সঙ্গ না থাকায় দলের অন্য সদস্যদের সঙ্গে মিশতে বেশ বেগ পেতে হয় তাকে। বড় বানরদের কাছে গেলে তারা তাকে সরিয়ে দিত। নিঃসঙ্গ পাঞ্চের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য কর্মীরা তাকে একটি ওরাংওটাং আকৃতির খেলনা পুতুল দেয়। এই পুতুলটিই হয়ে ওঠে তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু। পুতুলটিকে জড়িয়ে ধরে পুরো মাঙ্কি মাউন্টেন ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বজুড়ে নেটিজেনদের হৃদয় গলে যায়।
#HangInTherePunch হ্যাশট্যাগটি দ্রুত ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে যায়। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অস্থিরতার মাঝে পাঞ্চের মিষ্টি আর আদুরে স্বভাব অনেকের কাছেই এক টুকরো আনন্দের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এক নেটিজেন আবেগাপ্লুত হয়ে মন্তব্য করেন, ‘আমার জীবনের লক্ষ্য এখন পাঞ্চকে ওই ভয়ংকর বানরদের কাছ থেকে উদ্ধার করে নিজের সন্তান বানানো।’
তবে স্বস্তির খবর হলো, পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটতে শুরু করেছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া নতুন ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছে, পাঞ্চ এখন আর একা নয়। সে অন্য বানরদের পিঠে চড়ছে, তাদের সঙ্গে বসছে, পরিচর্যা পাচ্ছে এবং আলিঙ্গনও করছে। এ বিষয়ে ইচিকাওয়া সিটি সরকারের চিড়িয়াখানা ও উদ্ভিদ উদ্যান বিভাগের প্রধান তাকাশি ইয়াসুনাগা জানান, “প্রথমদিকে অন্য বানরদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলে পাঞ্চ কিছুটা ভীত ছিল। তবে এখন সে ধীরে ধীরে মানিয়ে নিচ্ছে। তার মধ্যে এখন একটি সক্রিয় ও নির্ভীক ব্যক্তিত্ব গড়ে উঠেছে এবং সে নিজ থেকেই অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে।”
তিনি আরও জানান, পাঞ্চের মা বর্তমানে অন্য বানরদের সঙ্গেই ‘মাঙ্কি মাউন্টেন’-এ রয়েছে। জাপানি ম্যাকাক বানরদের মধ্যে প্রথম শাবক ত্যাগ করার ঘটনা খুব একটা অস্বাভাবিক নয়।পাঞ্চের এই হৃদয়স্পর্শী গল্প তাকে বর্তমানে ইচিকাওয়া সিটি চিড়িয়াখানার সবচেয়ে বড় আকর্ষণে পরিণত করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহান্তে প্রায় আট হাজার দর্শনার্থী শুধু পাঞ্চকে একনজর দেখতে চিড়িয়াখানাটিতে ভিড় জমিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।










