১২:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন রোধে মহাপরিকল্পনা নেওয়া হবে: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

মো. শাহরিয়ার রাজিবপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
  • প্রকাশ : ০১:৫৯:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / 19

চিলমারী-রৌমারী-মোহনগঞ্জ ও কোদালকাটির ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন; প্রয়োজন অনুযায়ী জিও ব্যাগ স্থাপনের আশ্বাস

মো. শাহরিয়ার রাজিবপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

ব্রহ্মপুত্র নদের অব্যাহত ভাঙনে কুড়িগ্রামের চিলমারী, রৌমারী ও চর রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদ, ফসলি জমি ও বসতভিটা হুমকির মুখে পড়েছে। নদীর তীব্র স্রোতে প্রতিদিনই ভাঙছে নদীতীর। এতে ভিটেমাটি ও জীবিকা হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষ।

ভাঙনকবলিত এসব এলাকার পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি। পরিদর্শনকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে নদীভাঙনের ভয়াবহতা ও তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন তিনি।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী জিও ব্যাগ স্থাপনের পাশাপাশি নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। জনবসতি, ঘরবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করে। নদীর প্রবল স্রোতে একের পর এক ফসলি জমি, বসতভিটা ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক পরিবার তাদের জমি ও বসতভিটা হারিয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে আরও বহু পরিবারকে বসতভিটা হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

নদীতীরবর্তী মানুষের অভিযোগ, ভাঙন প্রতিরোধে বিভিন্ন সময়ে সাময়িক উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হচ্ছে না। নদীর গতিপথ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছে। ফলে স্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

তাদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জিও ব্যাগ স্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি নদীতীর সংরক্ষণ, নদীশাসন এবং গুরুত্বপূর্ণ জনপদ রক্ষায় একটি কার্যকর মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “নদী শুধু আমাদের জমি কেড়ে নিচ্ছে না, বাপ-দাদার ভিটামাটিও কেড়ে নিচ্ছে। এই মাটির সঙ্গে আমাদের জীবন, জীবিকা ও স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ভিটাটুকু হারালে আমাদের সামনে অনিশ্চয়তা ছাড়া আর কিছু থাকবে না।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, নদীভাঙনের কারণে প্রতিবছরই নতুন করে জমি ও বসতভিটা হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়। ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বাড়ছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর সরেজমিন পরিদর্শন ও আশ্বাসে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু আশ্বাসে সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত জিও ব্যাগ স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম শুরু হবে। একই সঙ্গে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন থেকে চিলমারী, রৌমারী ও কোদালকাটির জনপদ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

নদীতীরবর্তী মানুষের এখন একটাই প্রত্যাশা—ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পাবে তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, জীবিকা এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মের স্মৃতিবিজড়িত বাপ-দাদার ভিটেমাটি।

Please Share This Post in Your Social Media

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন রোধে মহাপরিকল্পনা নেওয়া হবে: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ : ০১:৫৯:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

চিলমারী-রৌমারী-মোহনগঞ্জ ও কোদালকাটির ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন; প্রয়োজন অনুযায়ী জিও ব্যাগ স্থাপনের আশ্বাস

মো. শাহরিয়ার রাজিবপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

ব্রহ্মপুত্র নদের অব্যাহত ভাঙনে কুড়িগ্রামের চিলমারী, রৌমারী ও চর রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদ, ফসলি জমি ও বসতভিটা হুমকির মুখে পড়েছে। নদীর তীব্র স্রোতে প্রতিদিনই ভাঙছে নদীতীর। এতে ভিটেমাটি ও জীবিকা হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষ।

ভাঙনকবলিত এসব এলাকার পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি। পরিদর্শনকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে নদীভাঙনের ভয়াবহতা ও তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন তিনি।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী জিও ব্যাগ স্থাপনের পাশাপাশি নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। জনবসতি, ঘরবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করে। নদীর প্রবল স্রোতে একের পর এক ফসলি জমি, বসতভিটা ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক পরিবার তাদের জমি ও বসতভিটা হারিয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে আরও বহু পরিবারকে বসতভিটা হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

নদীতীরবর্তী মানুষের অভিযোগ, ভাঙন প্রতিরোধে বিভিন্ন সময়ে সাময়িক উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হচ্ছে না। নদীর গতিপথ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছে। ফলে স্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

তাদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জিও ব্যাগ স্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি নদীতীর সংরক্ষণ, নদীশাসন এবং গুরুত্বপূর্ণ জনপদ রক্ষায় একটি কার্যকর মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “নদী শুধু আমাদের জমি কেড়ে নিচ্ছে না, বাপ-দাদার ভিটামাটিও কেড়ে নিচ্ছে। এই মাটির সঙ্গে আমাদের জীবন, জীবিকা ও স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ভিটাটুকু হারালে আমাদের সামনে অনিশ্চয়তা ছাড়া আর কিছু থাকবে না।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, নদীভাঙনের কারণে প্রতিবছরই নতুন করে জমি ও বসতভিটা হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়। ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বাড়ছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর সরেজমিন পরিদর্শন ও আশ্বাসে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু আশ্বাসে সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত জিও ব্যাগ স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম শুরু হবে। একই সঙ্গে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন থেকে চিলমারী, রৌমারী ও কোদালকাটির জনপদ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

নদীতীরবর্তী মানুষের এখন একটাই প্রত্যাশা—ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পাবে তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, জীবিকা এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মের স্মৃতিবিজড়িত বাপ-দাদার ভিটেমাটি।