নীলফামারীতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস পালিত
- প্রকাশ : ১০:৩১:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
- / 13
কৃষ্ণকুমার কুন্ডু, নীলফামারী প্রতিনিধি
‘প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে’—এই চিরন্তন সৃষ্টির স্মরণে নীলফামারীতে যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধায় পালিত হয়েছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস। ২২ শ্রাবণ বিশ্বকবির প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে নীলফামারী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় বিশেষ আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
সোমবার (১০ আগস্ট ২০২৬) বিকেল ৪টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক ও বাচ্চু প্রধান। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিল্পী, সাহিত্যপ্রেমী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং জেলা প্রশাসন, নীলফামারীর সহযোগিতায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে ও জেলা শিল্পকলা একাডেমি, নীলফামারীর ব্যবস্থাপনায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। আলোচনা সভায় বক্তারা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবন, সাহিত্যকর্ম, দর্শন এবং বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে তাঁর অসামান্য অবদান নিয়ে আলোচনা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তাঁর সাহিত্যকর্মে মানবতা, সাম্য, প্রেম, প্রকৃতি ও মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসার যে বার্তা রয়েছে, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। বিশেষ অতিথি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক বলেন, রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও দর্শন বাঙালির আত্মপরিচয়, সংস্কৃতি ও মানবিক চেতনার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাঁর সৃষ্টিকর্ম নতুন প্রজন্মকে মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনে অনুপ্রেরণা দেয়।
বিশেষ অতিথি বাচ্চু প্রধান বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টি শুধু একটি নির্দিষ্ট সময় বা প্রজন্মের জন্য নয়; তাঁর সাহিত্য ও দর্শন যুগের পর যুগ মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাঁর অমর সৃষ্টিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা আমাদের সাংস্কৃতিক দায়িত্ব।
আলোচনা সভায় বক্তারা আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু বাংলা সাহিত্যের কবি নন; তিনি বাঙালির চিন্তা, চেতনা, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কবিতা, গান, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্পসহ সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় তাঁর অসামান্য অবদান বাংলা সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে পরিবেশিত হয় রবীন্দ্রসংগীত, কবিতা ও কথামালা। শিল্পীদের কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথের অমর গান ও কবিতার পরিবেশনায় অনুষ্ঠানস্থলে সৃষ্টি হয় আবেগঘন ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশ।
আয়োজকরা জানান, রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও দর্শন প্রজন্মের পর প্রজন্মকে সত্য, সুন্দর, মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনের প্রেরণা দিয়ে আসছে। তাঁর প্রয়াণ দিবসে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে কবিগুরুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মাঝে তাঁর সৃষ্টিকর্ম ও জীবনদর্শন ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। গভীর শ্রদ্ধা, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে নীলফামারীতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবসের আয়োজন শেষ হয়।




















