০৯:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোগীদের ওষুধ নেই, রাতের আঁধারে পুড়ল মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ওষুধ!

মো. শাহরিয়ার রাজিবপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
  • প্রকাশ : ১০:৪০:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 11

চর রাজিবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কয়েক বস্তা ওষুধ ধ্বংসের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

মো. শাহরিয়ার রাজিবপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি ওষুধ ব্যবস্থাপনা নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার রাতে হাসপাতাল চত্বরে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাওয়া কয়েক বস্তা সরকারি ওষুধ পুড়িয়ে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হাসপাতালের কর্মকর্তা ডা. সারওয়ার জাহানকে ঘিরে ধরেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের প্রায়ই প্রয়োজনীয় সরকারি ওষুধ না থাকার কথা বলা হয়। দরিদ্র রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হলেও একই হাসপাতালে সরকারি ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে নষ্ট হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

অভিযোগ রয়েছে, সোমবার রাতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধগুলো ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়া হলে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওষুধ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে জবাবদিহি দাবি করেন।

এদিকে, ডা. সারওয়ার জাহানের বিরুদ্ধে নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকার অভিযোগও রয়েছে। কয়েকজন চিকিৎসকের দাবি, তার পরিবর্তে লুৎফর রহমান নামে এক ব্যক্তি হাজিরায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে থাকেন। এছাড়া প্রশিক্ষণ ও মিটিংয়ের চিঠি সম্পাদনা করে অনুপস্থিতির বিষয়টি আড়াল করার অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

৫০ শয্যার এই হাসপাতালটি চরাঞ্চলের হাজারো মানুষের চিকিৎসার অন্যতম ভরসা। স্থানীয়দের প্রশ্ন—রোগীদের যখন প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয় না, তখন সরকারি ওষুধ কীভাবে কয়েক বস্তা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে নষ্ট হলো?

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ মজুত, সময়মতো বিতরণ না করা এবং হাসপাতালের ওষুধ ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখতে প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Please Share This Post in Your Social Media

রোগীদের ওষুধ নেই, রাতের আঁধারে পুড়ল মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ওষুধ!

প্রকাশ : ১০:৪০:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

চর রাজিবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কয়েক বস্তা ওষুধ ধ্বংসের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

মো. শাহরিয়ার রাজিবপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি ওষুধ ব্যবস্থাপনা নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার রাতে হাসপাতাল চত্বরে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাওয়া কয়েক বস্তা সরকারি ওষুধ পুড়িয়ে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হাসপাতালের কর্মকর্তা ডা. সারওয়ার জাহানকে ঘিরে ধরেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের প্রায়ই প্রয়োজনীয় সরকারি ওষুধ না থাকার কথা বলা হয়। দরিদ্র রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হলেও একই হাসপাতালে সরকারি ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে নষ্ট হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

অভিযোগ রয়েছে, সোমবার রাতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধগুলো ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়া হলে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওষুধ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে জবাবদিহি দাবি করেন।

এদিকে, ডা. সারওয়ার জাহানের বিরুদ্ধে নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকার অভিযোগও রয়েছে। কয়েকজন চিকিৎসকের দাবি, তার পরিবর্তে লুৎফর রহমান নামে এক ব্যক্তি হাজিরায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে থাকেন। এছাড়া প্রশিক্ষণ ও মিটিংয়ের চিঠি সম্পাদনা করে অনুপস্থিতির বিষয়টি আড়াল করার অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

৫০ শয্যার এই হাসপাতালটি চরাঞ্চলের হাজারো মানুষের চিকিৎসার অন্যতম ভরসা। স্থানীয়দের প্রশ্ন—রোগীদের যখন প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয় না, তখন সরকারি ওষুধ কীভাবে কয়েক বস্তা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে নষ্ট হলো?

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ মজুত, সময়মতো বিতরণ না করা এবং হাসপাতালের ওষুধ ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখতে প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।