০২:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদ্যুতের ‘ভেলকিবাজি ’ দিনে-রাতে প্রায় ১০ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন।

এইচ,এম আওলাদ জেলা প্রতিনিধি-গোপালগঞ্জ।
  • প্রকাশ : ০২:০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / 17

এইচ,এম আওলাদ জেলা প্রতিনিধি-গোপালগঞ্জ।
***********************
তীব্র গরমের মধ্যে গোপালগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দিন-রাত মিলিয়ে প্রায় ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকারঅভিযোগ করছেন বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকেরা। কখন বিদ্যুৎ যাবে আর কখন আসবে—তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু সময়   বিদ্যুৎ আসার পর আবার অল্প সময়ের মধ্যেই চলে যাচ্ছে। এভাবে বারবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন গ্রাহকেরা।

প্রচণ্ড গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলেও গোপালগঞ্জ জেলার পাঁচ উপজেলা—সদর, মুকসুদপুর, টুঙ্গিপাড়া, কোটালীপাড়া ও কাশিয়ানীতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিল।  জুলাই মাসেও গোপালগঞ্জে এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিংয়ের অভিযোগ ওঠে। গ্রাহকদের   অভিযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহে দীর্ঘ সময়ের ঘাটতি থাকলেও মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে কোনো ছাড় নেই। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় এর আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি মিটারের রিডিংয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বিলের অভিযোগও ওঠে।

এ নিয়ে বিপাকে পড়েন বিপুলসংখ্যক পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহক। একাধিক গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“বিদ্যুৎ থাকে না, কিন্তু বিল ঠিকই আসে। দিনে-রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। লোডশেডিংয়ের নির্দিষ্ট সময়সূচি থাকলে অন্তত প্রয়োজনীয় কাজগুলো পরিকল্পনা করে করা যেত।”ঘন ঘন বিদ্যুৎ   বিভ্রাটের কারণে ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ফ্রিজ, কম্পিউটার, ফটোকপি, অনলাইনভিত্তিক ব্যবসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসায়ীরা বিকল্প হিসেবে জেনারেটর বা ব্যাটারি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন, এতে বাড়ছে অতিরিক্ত খরচ। অন্যদিকে   শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাতেও বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার্থী ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বাড়ছে।

গোপালগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকেরা পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কাছে লোডশেডিংয়ের কারণ প্রকাশ, এলাকাভিত্তিক নির্দিষ্ট সময়সূচি জানানো এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।তাদের প্রশ্ন—বিদ্যুৎ সরবরাহে এত ঘাটতি থাকলে গ্রাহকদের আগে থেকে জানানো হচ্ছে না কেন? আর দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার পরও যদি নিয়মিত বিল পরিশোধ করতে হয়, তাহলে গ্রাহকসেবা নিয়ে কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা কোথায়? বিদ্যুৎ  সংকটের কারণ হিসেবে জাতীয় পর্যায়ের সরবরাহ ঘাটতি থাকতে পারে—তবে গোপালগঞ্জের গ্রাহকদের প্রত্যাশা, অন্তত স্বচ্ছ তথ্য, নির্ধারিত লোডশেডিং সূচি এবং দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Please Share This Post in Your Social Media

বিদ্যুতের ‘ভেলকিবাজি ’ দিনে-রাতে প্রায় ১০ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন।

প্রকাশ : ০২:০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

এইচ,এম আওলাদ জেলা প্রতিনিধি-গোপালগঞ্জ।
***********************
তীব্র গরমের মধ্যে গোপালগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দিন-রাত মিলিয়ে প্রায় ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকারঅভিযোগ করছেন বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকেরা। কখন বিদ্যুৎ যাবে আর কখন আসবে—তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু সময়   বিদ্যুৎ আসার পর আবার অল্প সময়ের মধ্যেই চলে যাচ্ছে। এভাবে বারবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন গ্রাহকেরা।

প্রচণ্ড গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলেও গোপালগঞ্জ জেলার পাঁচ উপজেলা—সদর, মুকসুদপুর, টুঙ্গিপাড়া, কোটালীপাড়া ও কাশিয়ানীতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিল।  জুলাই মাসেও গোপালগঞ্জে এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিংয়ের অভিযোগ ওঠে। গ্রাহকদের   অভিযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহে দীর্ঘ সময়ের ঘাটতি থাকলেও মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে কোনো ছাড় নেই। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় এর আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি মিটারের রিডিংয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বিলের অভিযোগও ওঠে।

এ নিয়ে বিপাকে পড়েন বিপুলসংখ্যক পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহক। একাধিক গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“বিদ্যুৎ থাকে না, কিন্তু বিল ঠিকই আসে। দিনে-রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। লোডশেডিংয়ের নির্দিষ্ট সময়সূচি থাকলে অন্তত প্রয়োজনীয় কাজগুলো পরিকল্পনা করে করা যেত।”ঘন ঘন বিদ্যুৎ   বিভ্রাটের কারণে ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ফ্রিজ, কম্পিউটার, ফটোকপি, অনলাইনভিত্তিক ব্যবসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসায়ীরা বিকল্প হিসেবে জেনারেটর বা ব্যাটারি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন, এতে বাড়ছে অতিরিক্ত খরচ। অন্যদিকে   শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাতেও বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার্থী ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বাড়ছে।

গোপালগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকেরা পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কাছে লোডশেডিংয়ের কারণ প্রকাশ, এলাকাভিত্তিক নির্দিষ্ট সময়সূচি জানানো এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।তাদের প্রশ্ন—বিদ্যুৎ সরবরাহে এত ঘাটতি থাকলে গ্রাহকদের আগে থেকে জানানো হচ্ছে না কেন? আর দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার পরও যদি নিয়মিত বিল পরিশোধ করতে হয়, তাহলে গ্রাহকসেবা নিয়ে কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা কোথায়? বিদ্যুৎ  সংকটের কারণ হিসেবে জাতীয় পর্যায়ের সরবরাহ ঘাটতি থাকতে পারে—তবে গোপালগঞ্জের গ্রাহকদের প্রত্যাশা, অন্তত স্বচ্ছ তথ্য, নির্ধারিত লোডশেডিং সূচি এবং দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।