জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উপলক্ষে নীলফামারীতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা
- প্রকাশ : ০২:০৮:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
- / 14
মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, নিরাপদ মাছ নিশ্চিত ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে সচেতনতার আহ্বান
কৃষ্ণকুমার কুন্ডু, নীলফামারী প্রতিনিধি
নীলফামারী, ১৬ আগস্ট ২০২৬:
‘মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি করি, সমৃদ্ধ দেশ গড়ি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে নীলফামারীতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে এ কর্মসূচির মাধ্যমে জেলার মৎস্যসম্পদের উন্নয়ন, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, নিরাপদ মাছ উৎপাদন এবং মৎস্যজীবী ও মাছচাষিদের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
রোববার (১৬ আগস্ট) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়/নির্ধারিত স্থানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলার মৎস্যচাষি, মৎস্যজীবী, ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সংশ্লিষ্টরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। অনুষ্ঠানে মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জাতীয় মৎস্য পক্ষের তাৎপর্য ও জেলার মৎস্য খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে মৎস্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ এবং মানুষের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও মৎস্য খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
তাই পরিকল্পিতভাবে মাছ চাষ, দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, জলাশয় সংরক্ষণ, পোনা মাছ অবমুক্তকরণ, মাছের প্রজনন মৌসুমে নিষিদ্ধ জাল ও ক্ষতিকর পদ্ধতিতে মাছ ধরা বন্ধ এবং মৎস্য আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে মৎস্যসম্পদের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব। একই সঙ্গে মাছচাষিদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে মৎস্যচাষিদের উদ্দেশে বলা হয়, উন্নত জাতের পোনা, আধুনিক চাষ পদ্ধতি, সঠিক মাত্রায় খাদ্য ও পানি ব্যবস্থাপনা এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব। পাশাপাশি ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত মাছ নিশ্চিত করতে উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
আলোচনা সভায় জেলার মৎস্য খাতের সম্ভাবনা, সমস্যা ও করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক কর্মসূচি, মাছ চাষে উদ্বুদ্ধকরণ এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়, জাতীয় মৎস্য পক্ষ শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়; বরং মৎস্যসম্পদের সুরক্ষা, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি মৎস্যচাষি, মৎস্যজীবী ও সাধারণ জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে।
এ সময় জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, মৎস্যচাষি, মৎস্যজীবী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।




















