সিজারের পর পেটে গজ রাখার অভিযোগ, চার মাস ধরে সিসিইউতে মিডওয়াইফ
- প্রকাশ : ০২:২২:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 3

আক্কাস আলী খান রাজবাড়ী প্রতিনিধি,
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় পেটের ভেতরে গজ (মব) রেখে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিথী আক্তার নামে এক ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ গত চার মাস ধরে নানা জটিলতায় ভুগছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী বিথী আক্তার রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের তমিজউদ্দীন মৃধার মেয়ে। তিনি ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে স্বামীর সঙ্গে গোয়ালন্দের জামতলা এলাকায় বসবাস করছেন।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার হয়। ওই অস্ত্রোপচারের সময় তার পেটের ভেতরে গজ (মব) রেখে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বিষয়টি ধরা পড়ে বলে তিনি দাবি করেন। প্রায় দুই মাস পর তাকে পুনরায় বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করাতে হয়। এ সময় পেটের নাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জটিল অস্ত্রোপচার ও বাইপাস সার্জারি করা হয় বলেও দাবি তার।
বিথী আক্তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, তিনি নিজে একজন ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ হওয়া সত্ত্বেও চিকিৎসাসেবায় এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। গত চার মাস ধরে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। তার দাবি, আগে তার ওজন ছিল ৬১ কেজি; বর্তমানে তা কমে ৩৯ কেজিতে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও জানান, চার মাস ধরে নিজের নবজাতক সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারছেন না। এমনকি সন্তানকে কোলে নেওয়ার মতো শারীরিক সক্ষমতাও তার নেই। বর্তমানে হৃদ্যন্ত্রসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় তিনি সিসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানান।
বিথী আক্তার তার স্ট্যাটাসে বলেন, ‘আমি একজন নার্স। আমার সঙ্গেই যদি এমন অবস্থা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের কী হবে?’ তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত হিসেবে চিকিৎসক ডা. তামান্না ও ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. অরবিন্দের নাম উল্লেখ করেছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
বিথী আক্তার জানান, ঘটনার স্বপক্ষে চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র ও আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এসব নথিপত্রের ভিত্তিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায় নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তিনি ও তার পরিবার।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা অভিযোগটি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, ভুক্তভোগীর উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত, দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।



















