জীবননগরে মাল্টা-পেয়ারা গাছ কেটে দেওয়ার অভিযোগ, ক্ষতি ৫ লাখ টাকা
- প্রকাশ : ০১:৫৩:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 2

স্টাফ রিপোর্টার :
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে লিজ নেওয়া জমিতে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে তোলা মাল্টা, পেয়ারা ও বেগুনের বাগান কেটে ও উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাগানের মালিক মো. নাজমুল হোসেন (৩৬)। এ ঘটনায় জীবননগর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নাজমুল হোসেন।
নাজমুল হোসেন জীবননগর উপজেলার পিয়ারাতলা উত্তরপাড়া এলাকার আলী হোসেনের ছেলে। তিনি আবুল কাশেমের কাছ থেকে লিজ নিয়ে সংশ্লিষ্ট জমিতে বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা লেবু ও পেয়ারা চাষের পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে বেগুন আবাদ করে আসছিলেন। ফসলের সুরক্ষায় জমির চারপাশে সিমেন্টের খুঁটি ও তার দিয়ে নিরাপত্তাবেষ্টনী নির্মাণ করেছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।
নাজমুলের অভিযোগ, জীবননগর উপজেলার খয়েরহুদা রিফুজিপাড়ার মৃত ইদ্রিস মণ্ডলের ছেলে জামাল উদ্দিন (৫৬) ওই জমি নিজেদের দাবি করে তাকে জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন।
অভিযোগে তিনি জানান, গত ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাগানটি দেখে তিনি বাড়িতে ফিরে যান। পরদিন ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টার দিকে পুনরায় বাগানে গিয়ে দেখতে পান, বাগানের মাল্টা লেবু ও পেয়ারা গাছসহ সাথী ফসলের বেগুন গাছগুলো কেটে ও উপড়ে ফেলা হয়েছে। একই সঙ্গে ফসলের নিরাপত্তার জন্য নির্মিত বেড়াটিও তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
নাজমুল হোসেনের দাবি, এতে তার প্রায় পাঁচ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। বাগানের এমন অবস্থা দেখে তিনি হতাশ হয়ে পড়েন। ঘটনাটি স্থানীয় লোকজন দেখেছেন ও শুনেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়ার পর থানায় অভিযোগ করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে জানান তিনি। অভিযোগে উল্লিখিত জমির পরিমাণ ৬৬ শতক। এর আরএস খতিয়ান নম্বর ১৪৩৫, দাগ নম্বর ৪৫৩২ এবং মৌজা নম্বর ২৯।
এদিকে, গত আগস্ট মাসে এ ঘটনায় জীবননগর থানায় আরও একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন নাজমুল হোসেন। তার অভিযোগ অনুযায়ী, জীবননগর উপজেলার খয়েরহুদা রিফুজিপাড়ার কলুরচারা মাঠে আবুল কাশেমের কাছ থেকে লিজ নেওয়া দুই বিঘা জমিতে তিনি বাণিজ্যিকভাবে পেয়ারা, মাল্টা ও সাথী ফসল হিসেবে বেগুন ও ঘাসের চাষ করে আসছিলেন। ফসলের নিরাপত্তার জন্য জমির চারপাশে সিমেন্টের খুঁটি ও তারের বেড়াও নির্মাণ করা হয়।
অভিযোগে নাজমুল হোসেন উল্লেখ করেন, গত ১৯ আগস্ট সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এনামুল হক (৪৫), সাইদ হোসেন (৩৫), জামাল হোসেন (৬০), কামাল হোসেন (৩৫) ও শহিদুল ইসলাম (৬২)সহ কয়েকজন লাঠিসোটা, দা ও কোদাল নিয়ে ওই জমিতে প্রবেশ করেন। পরে তারা বাগানের ফল ও সবজি গাছ কেটে এবং নিরাপত্তা বেড়া ভেঙে ও কেটে দেন। এতে তার প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নাজমুলের দাবি, ঘটনার প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা তাকে প্রকাশ্যে খুন ও জখমের হুমকি দেন। এমনকি জমিতে গেলে তাকে জবাই করে সেখানেই লাশ পুঁতে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, নাজমুল হোসেন বর্তমানে অভিযুক্তদের আপন ভাই নুর ইসলামের কাছ থেকে আরও চার বিঘা জমি লিজ নিয়ে সেখানে ফলন্ত মাল্টা ও কমলার বাগান করেছেন। ওই বাগানটিও একইভাবে কেটে দিয়ে তাকে নিঃস্ব করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। এতে তিনি আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন এবং যেকোনো সময় বাগানটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















