০৯:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫৪ বছরের স্বৈরশাসনকে লাল কার্ড দেখাতে নারায়ণগঞ্জে জামাতের ১১ দলীয় বিশাল জনসভা।

মোঃ আশরাফ আলী, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি। 
  • প্রকাশ : ১২:৩০:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 23

জাতীয় সাপ্তাহিক অন্যায়ের প্রতিবাদ।

মোঃ আশরাফ আলী, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি। 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড ট্রাক স্টেশন এলাকায় এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই সমাবেশে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।প্রধান অতিথি বক্তব্যে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন,

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নৈতিকতার ভিত্তিতে এমনভাবে চালু করা হবে, যাতে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার সকল শিক্ষার্থী সমন্বিত শিক্ষার আলোকে শিক্ষিত হয়ে জাতিকে পরিচালনা করতে সক্ষম হবে। তারা সততা ও যোগ্যতার মাধ্যমে স্বাধীনতার লাল-সবুজের পতাকার দেশকে পরিচালনা করবে, উৎপাদন, ব্যাংক, অর্থনীতি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে এবং বাংলাদেশের পতাকাকে বিশ্বের বুকে সমুন্নত করবে।

তিনি আরও বলেন, রাজধানীর হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত পলিটিক্যাল সামিটে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক, বুদ্ধিজীবী, সিভিল সোসাইটি ও অর্থনীতিবিদরা উপস্থিত ছিলেন। তারা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পরিকল্পনা দেখে বিস্মিত হয়েছেন এবং প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, বিগত দিনে বিএনপি সরকারের অনেক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি, যেমন কৃষকের সার, কার্ড ইত্যাদি। মানুষ এসব ব্যর্থ পরিকল্পনা আর গ্রহণ করে না।

তাই জনগণকে একবার নতুন নেতৃত্বের পরীক্ষা করার সুযোগ দেওয়া উচিত। অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার আরও বলেন, ১১-দলীয় জোটের মাধ্যমে নতুন মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সততা-নিষ্ঠার রাষ্ট্র গঠন করা হবে। সকল নাগরিককে হরতাল, দাঙ্গা বা হিংসার পরিবর্তে স্থিতিশীল, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও মানবিকভাবে পরিচালিত রাষ্ট্র গড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে বিএনপি ও অন্যান্য দলের পক্ষ থেকে হিংসাত্মক আচরণ, ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।

শেরপুরে জামায়াত কে নেতা শহীদ করেছে। সাইবার হামলার প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও জনগণকে সতর্ক করে বলা হয়েছে—নিজেদের শক্তি ও ভোটের মাধ্যমে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় অংশ নিতে হবে। তিনি জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের ১১-দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং ভোট দিয়ে তাদের বিজয়ী করার দায়িত্ব অর্পণ করেন।আজ অনুষ্ঠিত বিশাল জনসমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আব্দুল জব্বার বলেন, ৫ আগস্টের পর আমরা মনে করেছিলাম স্বৈরশাসনের অবসান চিরতরে ঘটেছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হলেও আমরা দেখেছি, একটি দল শেরপুরে আমাদের এক ভাইকে শহীদ করেছে। অথচ ওই আন্দোলনে আমাদের অসংখ্য ভাই শহীদ হয়েছেন, অনেকে পঙ্গু হয়েছেন, দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন এবং এখনও বহু মানুষ অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন। তিনি বলেন, যারা মানুষ হত্যার রাজনীতি করে, বাংলার জনগণ তাদের লাল কার্ড দেখাবে। নারায়ণগঞ্জে বিগত শাসনামলে গুলি করে মানুষ হত্যা করা হয়েছে, গুম করা হয়েছে, চালানো হয়েছে জুলুম-নির্যাতন। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—আমরা আর কোনো ফ্যাসিবাদী সিদ্ধান্ত কিংবা শাসনব্যবস্থা চাই না। ফ্যাসিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠা ঠেকাতে আমরা গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা আর কোনো দলকে নারায়ণগঞ্জকে সন্ত্রাসের নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে দেব না। আমরা লড়াই করেছি, সংগ্রাম করেছি, জেল খেটেছি, এমনকি জীবন দিয়েছি। তাই ক্ষমতার মোহে অন্ধ না হওয়ার জন্য সবাইকে সতর্ক করছি—নচেৎ জনগণ কাউকে ছাড় দেবে না। মাওলানা আব্দুল জব্বার বলেন, যারা নারী স্বাধীনতার নামে আমাদের মা-বোনদের বোরকা ও নেকাব খুলে ফেলতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আগামী ১২ তারিখ ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে লাল-সবুজের ডাকাতদের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি দলের প্রধান বলছেন জামায়াত নাকি মিথ্যা কথা বলে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—জামায়াত কখনো মিথ্যা বলে না।

বরং যারা বিদেশে বসে থেকেছেন, তারা দেশের মানুষের দুঃখ-কষ্ট বোঝেন না। জামায়াতে ইসলামী দেশের পক্ষে, জনগণের পক্ষে, সত্য ও ন্যায়-ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে তাদের অসংখ্য কেন্দ্রীয় নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের ভাইয়েরা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন, আর দেশের মানুষ জানে—জামায়াত সত্যের পক্ষেই কথা বলে। তিনি বলেন, ১২ই ফেব্রুয়ারি গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়ে এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করে এর উপযুক্ত জবাব দিতে হবে। আমাদের আমিরে জামায়াত বলেছেন—ডায়ালগে আসুন, উল্টোপাল্টা কথা বলবেন না।

নির্বাচনে যদি কোনো বক্তব্য থাকে, তা শালীন ও সুন্দরভাবে উপস্থাপন করুন। জনগণের মাঝে মিথ্যা বক্তব্য ছড়াবেন না। সবশেষে তিনি বলেন, আগামী দিনে ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১১-দলীয় জোটের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে আমাদের ভাইদের বিজয়ী করব, ইনশাআল্লাহ। ১২ তারিখ মজলুমদের বিজয়ের দিন হবে। নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনেই জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট বিজয় লাভ করবে।

অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামী আমির মোঃ মমিনুল সরকার, জেলা সেক্রেটারি মোঃ হাফিজুর রহমান, এডভোকেট ইসরাফিল হোসেন (এডিশনাল পিপি, নারায়ণগঞ্জ জেলা কোর্ট ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আইন বিষয়ক সম্পাদক) এবং আবু সাঈদ মুন্না (সহকারী সেক্রেটারি, নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামী) বক্তব্য রেখেছেন। এছাড়া আরও অন্যান্য জেলা, মহানগর, থানা ও উপজেলার নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রেখেছেন।

নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে ১১-দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থীরা: নারায়ণগঞ্জ–১ (রূপগঞ্জ) মোঃ আনোয়ার হোসেন মোল্লা, নারায়ণগঞ্জ–২ (আড়াইহাজার) অধ্যাপক ইলিয়াস মোল্লা
নারায়ণগঞ্জ–৩ (সোনারগাঁ) ড. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া
নারায়ণগঞ্জ–৪ (ফতুল্লা–সিদ্ধিরগঞ্জ) এডভোকেট আলামিন
নারায়ণগঞ্জ–৫ (বন্দর) এবিএম সিরাজুল মামুন
নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার, সভাপতি মাওলানা আব্দুল জব্বার এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দের বক্তব্যে দেশের দুর্নীতি, দুঃশাসন ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার মাধ্যমে জনগণকে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী পদক্ষেপ নেওয়ার লক্ষ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

৫৪ বছরের স্বৈরশাসনকে লাল কার্ড দেখাতে নারায়ণগঞ্জে জামাতের ১১ দলীয় বিশাল জনসভা।

প্রকাশ : ১২:৩০:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাতীয় সাপ্তাহিক অন্যায়ের প্রতিবাদ।

মোঃ আশরাফ আলী, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি। 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড ট্রাক স্টেশন এলাকায় এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই সমাবেশে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।প্রধান অতিথি বক্তব্যে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন,

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নৈতিকতার ভিত্তিতে এমনভাবে চালু করা হবে, যাতে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার সকল শিক্ষার্থী সমন্বিত শিক্ষার আলোকে শিক্ষিত হয়ে জাতিকে পরিচালনা করতে সক্ষম হবে। তারা সততা ও যোগ্যতার মাধ্যমে স্বাধীনতার লাল-সবুজের পতাকার দেশকে পরিচালনা করবে, উৎপাদন, ব্যাংক, অর্থনীতি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে এবং বাংলাদেশের পতাকাকে বিশ্বের বুকে সমুন্নত করবে।

তিনি আরও বলেন, রাজধানীর হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত পলিটিক্যাল সামিটে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক, বুদ্ধিজীবী, সিভিল সোসাইটি ও অর্থনীতিবিদরা উপস্থিত ছিলেন। তারা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পরিকল্পনা দেখে বিস্মিত হয়েছেন এবং প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, বিগত দিনে বিএনপি সরকারের অনেক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি, যেমন কৃষকের সার, কার্ড ইত্যাদি। মানুষ এসব ব্যর্থ পরিকল্পনা আর গ্রহণ করে না।

তাই জনগণকে একবার নতুন নেতৃত্বের পরীক্ষা করার সুযোগ দেওয়া উচিত। অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার আরও বলেন, ১১-দলীয় জোটের মাধ্যমে নতুন মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সততা-নিষ্ঠার রাষ্ট্র গঠন করা হবে। সকল নাগরিককে হরতাল, দাঙ্গা বা হিংসার পরিবর্তে স্থিতিশীল, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও মানবিকভাবে পরিচালিত রাষ্ট্র গড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে বিএনপি ও অন্যান্য দলের পক্ষ থেকে হিংসাত্মক আচরণ, ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।

শেরপুরে জামায়াত কে নেতা শহীদ করেছে। সাইবার হামলার প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও জনগণকে সতর্ক করে বলা হয়েছে—নিজেদের শক্তি ও ভোটের মাধ্যমে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় অংশ নিতে হবে। তিনি জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের ১১-দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং ভোট দিয়ে তাদের বিজয়ী করার দায়িত্ব অর্পণ করেন।আজ অনুষ্ঠিত বিশাল জনসমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আব্দুল জব্বার বলেন, ৫ আগস্টের পর আমরা মনে করেছিলাম স্বৈরশাসনের অবসান চিরতরে ঘটেছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হলেও আমরা দেখেছি, একটি দল শেরপুরে আমাদের এক ভাইকে শহীদ করেছে। অথচ ওই আন্দোলনে আমাদের অসংখ্য ভাই শহীদ হয়েছেন, অনেকে পঙ্গু হয়েছেন, দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন এবং এখনও বহু মানুষ অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন। তিনি বলেন, যারা মানুষ হত্যার রাজনীতি করে, বাংলার জনগণ তাদের লাল কার্ড দেখাবে। নারায়ণগঞ্জে বিগত শাসনামলে গুলি করে মানুষ হত্যা করা হয়েছে, গুম করা হয়েছে, চালানো হয়েছে জুলুম-নির্যাতন। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—আমরা আর কোনো ফ্যাসিবাদী সিদ্ধান্ত কিংবা শাসনব্যবস্থা চাই না। ফ্যাসিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠা ঠেকাতে আমরা গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা আর কোনো দলকে নারায়ণগঞ্জকে সন্ত্রাসের নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে দেব না। আমরা লড়াই করেছি, সংগ্রাম করেছি, জেল খেটেছি, এমনকি জীবন দিয়েছি। তাই ক্ষমতার মোহে অন্ধ না হওয়ার জন্য সবাইকে সতর্ক করছি—নচেৎ জনগণ কাউকে ছাড় দেবে না। মাওলানা আব্দুল জব্বার বলেন, যারা নারী স্বাধীনতার নামে আমাদের মা-বোনদের বোরকা ও নেকাব খুলে ফেলতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আগামী ১২ তারিখ ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে লাল-সবুজের ডাকাতদের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি দলের প্রধান বলছেন জামায়াত নাকি মিথ্যা কথা বলে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—জামায়াত কখনো মিথ্যা বলে না।

বরং যারা বিদেশে বসে থেকেছেন, তারা দেশের মানুষের দুঃখ-কষ্ট বোঝেন না। জামায়াতে ইসলামী দেশের পক্ষে, জনগণের পক্ষে, সত্য ও ন্যায়-ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে তাদের অসংখ্য কেন্দ্রীয় নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের ভাইয়েরা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন, আর দেশের মানুষ জানে—জামায়াত সত্যের পক্ষেই কথা বলে। তিনি বলেন, ১২ই ফেব্রুয়ারি গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়ে এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করে এর উপযুক্ত জবাব দিতে হবে। আমাদের আমিরে জামায়াত বলেছেন—ডায়ালগে আসুন, উল্টোপাল্টা কথা বলবেন না।

নির্বাচনে যদি কোনো বক্তব্য থাকে, তা শালীন ও সুন্দরভাবে উপস্থাপন করুন। জনগণের মাঝে মিথ্যা বক্তব্য ছড়াবেন না। সবশেষে তিনি বলেন, আগামী দিনে ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১১-দলীয় জোটের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে আমাদের ভাইদের বিজয়ী করব, ইনশাআল্লাহ। ১২ তারিখ মজলুমদের বিজয়ের দিন হবে। নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনেই জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট বিজয় লাভ করবে।

অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামী আমির মোঃ মমিনুল সরকার, জেলা সেক্রেটারি মোঃ হাফিজুর রহমান, এডভোকেট ইসরাফিল হোসেন (এডিশনাল পিপি, নারায়ণগঞ্জ জেলা কোর্ট ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আইন বিষয়ক সম্পাদক) এবং আবু সাঈদ মুন্না (সহকারী সেক্রেটারি, নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামী) বক্তব্য রেখেছেন। এছাড়া আরও অন্যান্য জেলা, মহানগর, থানা ও উপজেলার নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রেখেছেন।

নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে ১১-দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থীরা: নারায়ণগঞ্জ–১ (রূপগঞ্জ) মোঃ আনোয়ার হোসেন মোল্লা, নারায়ণগঞ্জ–২ (আড়াইহাজার) অধ্যাপক ইলিয়াস মোল্লা
নারায়ণগঞ্জ–৩ (সোনারগাঁ) ড. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া
নারায়ণগঞ্জ–৪ (ফতুল্লা–সিদ্ধিরগঞ্জ) এডভোকেট আলামিন
নারায়ণগঞ্জ–৫ (বন্দর) এবিএম সিরাজুল মামুন
নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার, সভাপতি মাওলানা আব্দুল জব্বার এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দের বক্তব্যে দেশের দুর্নীতি, দুঃশাসন ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার মাধ্যমে জনগণকে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী পদক্ষেপ নেওয়ার লক্ষ্য প্রকাশ করা হয়েছে।