নারায়ণগঞ্জে বিএনপির চার, শাপলা কলির একটি জয়।
- প্রকাশ : ০৮:১৬:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 22
জাতীয় সাপ্তাহিক অন্যায়ের প্রতিবাদ।
মোঃ আশরাফ আলী,নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।
নারায়ণগঞ্জে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাঁচটি আসনে বিচ্ছিন্ন দুই একটি ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে ফলাফল ঘোষণা হয়। এতে বিএনপি চারটি আসনে জয় পায় এবং একটি আসনে ১১ দলীয় জোটের শাপলা কলির প্রার্থী বিজয়ী হন। ফলাফল ঘোষণার সময় একের পর এক চমক এবং স্নায়ুযুদ্ধের পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূইয়া, নজরুল ইসলাম আজাদ, বিএনপির আজহারুল ইসলাম মান্নান, জাতীয় নাগরিক পার্টির আব্দুল্লাহ আল আমিন এবং বিএনপির অ্যাডভোকেট আবুল কালাম।
নারায়ণগঞ্জ-১ রূপগঞ্জ বিপুল ভোটে জিতলেন দিপু ভূইয়া
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-১ রূপগঞ্জ আসনে চমক দেখিয়ে জিতেছেন মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূইয়া ধানের শীষ প্রতীকে। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯০,২৮৯ ভোট। অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ওয়াসিম উদ্দিন গণঅধিকার পরিষদ ২০৮ ভোট, মোহাম্মদ দুলাল স্বতন্ত্র ৪ ভোট, মোঃ আনোয়ার হোসেন মোল্লা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৯০,২৮৯ ভোট, মোঃ ইমদাদুল্লাহ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৭,১৩৭ ভোট, মোঃ মনিরুজ্জামান চন্দন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ২৫৮ ভোট
এবং মোঃ রেহান আফজাল ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ ২০২ ভোট। মোট ভোটার সংখ্যা ৪,০৪,৪১৫, ভোট পড়েছে ২,৫৩,৯৭১ এবং বাতিল ৪,৯৬৭। এই আসনে দিপু ভূইয়া আগে থেকেই বিশাল বিজয়ের জন্য সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলেন। নির্বাচনের আগে তিনি ইউনিয়ন গ্রাম ও অলিগলিতে উঠান বৈঠক, নারীদের সমাবেশ, শিক্ষক ও আলেমদের সঙ্গে সভা এবং রাজনৈতিক নেতাদের সাথে পরামর্শসহ ব্যাপক প্রচারণা সম্পন্ন করেন।
তবে এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী মোঃ আনোয়ার হোসেন মোল্লা ( দাঁড়ি পাল্লা) এবং জেলা শিবির সভাপতি মোঃ আকরাম হোসেন এর উপর ভোলাবো ইউনিয়নের চার তালুক ভোট কেন্দ্রে হামলা করা হয়েছে। এবং চনপাড়া,নাওড়া ছাড়াও বেশ কিছু জায়গায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-২ আড়াইহাজার আজাদের রেকর্ড ভোট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-২ আড়াইহাজার আসনে বিজয় অর্জন করেছেন বিএনপি ধানের শীষে নজরুল ইসলাম আজাদ। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ২৯১ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামের ইলিয়াস মোল্লা ৮১,৫৪৫ ভোট পেয়েছেন। অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন কামরুল মিয়া গণঅধিকার পরিষদ ১৪২ ভোট, মাওলানা মোঃ হাবিবুল্লাহ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৫,২৬৫ ভোট, মোঃ আতাউর রহমান খান স্বতন্ত্র ১৮,৭৪৪ ভোট, মোঃ আবু হানিফ হৃদয় বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি ২২৭ ভোট এবং মোঃ হাফিজুল ইসলাম বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ৩৫০ ভোট। মোট ভোটার ৩৫৯,৫৯৭, ভোট পড়েছে ২,৩০,০৭৩ এবং বাতিল ৩,৮৩৩। ভোটের হার ছিল ৬৫ দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ। নানা প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও তিনি ব্যাপক ব্যবধানে জয়ী হন।
নারায়ণগঞ্জ-৩ সোনারগাঁ সিদ্ধিরগঞ্জ জিতলেন মান্নান লড়েছেন ইকবাল
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি ধানের শীষে আজহারুল ইসলাম মান্নান ও জামায়াতে ইসলামের ড. ইকবাল হোসেন ভূইয়া হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেন। ড. ইকবাল সিদ্ধিরগঞ্জের ৬৭ কেন্দ্রে ৫১,৪৪৫ ভোট পান। মান্নান ৪৫,৮৪৫ ভোট পান। সোনারগাঁয়ের ১৪৩ কেন্দ্রে মান্নান ১,০৮,২৫৮ ভোট পান এবং ড. ইকবাল ৮০,৫৭৮ ভোট পান। অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন স্বতন্ত্র ৪,৭১৫ ভোট, মোঃ আলী বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি ১১,২৬৩ ভোট, মোঃ মনির হোসাইন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ৮০,১৩৮ ভোট, মোঃ ছালাউদ্দিন খোকা জাতীয় পার্টি ৭৯৬ ভোট, মোঃ শাহ আলম স্বতন্ত্র ৩৯,৩৮৩ ভোট, মোঃ সেলিম আহমেদ বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি ৬৩৯ ভোট, মোঃ সেলিম মাহমুদ বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল ৭৯৬ ভোট, মোঃ সুলাইমান দেওয়ান বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল ৩৬৬ ভোট এবং মোঃ ইছমাঈল হোসেন কাউছার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১৬,৬৩৯ ভোট।
নারায়ণগঞ্জ-৪ ফতুল্লা এনসিপির আল আমিন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ ফতুল্লা আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির আব্দুল্লাহ আল আমিন ১৭৭ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৬৫ কেন্দ্রে ১,০১,৩৩৬ ভোট পান। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী ৭৫,৯৭৭ ভোট পান। অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আনোয়ার হোসেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৭১৩ ভোট এবং ইকবাল হোসেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি ৪৭৫ ভোট। নানা প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে তিনি ভোটের মাঠে জয়ী হন।
নারায়ণগঞ্জ-৫ শহর বন্দর জিতেছেন কালাম হারেনি মামুন
নারায়ণগঞ্জ-৫ শহর বন্দর আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ১৬৪টি। মোট ভোটার সংখ্যা ৪,৮৯,৯১৬ এবং ভোটের হার ৫৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ। প্রাপ্ত ভোট ২,৬৬,৩৫৭। জয়ী হয়েছেন অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, যিনি ১,১৪,৭৯৯ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিরাজুল মামুন ১,০১,১৯৬ ভোট পেয়েছেন। অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মাকসুদ হোসেন ৩৪,১৫১ ভোট, মোঃ মাছুম বিল্লাহ ৭,৭০৮ ভোট, বাহাদুর শাহ ৪,৬৫০ ভোট, মন্টু চন্দ্র ঘোষ ১,৫৭৫ ভোট, তরিকুল ইসলাম ১,০২৩ ভোট, নাহিদ হোসেন ৬৪৩ ভোট, আবু নাঈম ৩৭০ ভোট এবং আমজাদ হোসেন ২৪২ ভোট। আবুল কালামের বিজয় নিশ্চিত করে শহর বন্দরে স্থিতিশীলতা ও ব্যাপক সমর্থনের প্রতিফলন দেখা গেছে।




















