১০:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রকাশ্যে মাদকের হাট, ৭ দিনের উচ্ছেদ নোটিশ এক মাসেও কার্যকর হয় নাই ।

রাজবাড়ী প্রতিনিধি।
  • প্রকাশ : ০২:৩১:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
  • / 3

জাতীয় সাপ্তাহিক অন্যায়ের প্রতিবাদ।

রাজবাড়ী প্রতিনিধি।

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া পোড়াভিটা এখন যেন মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের ঘোষণা, অভিযান ও ৭ দিনের উচ্ছেদ নোটিশ—সবকিছুকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এখনও সেখানে প্রতিদিন প্রকাশ্যে বসছে মাদকের হাট। স্থানীয়দের প্রশ্ন – কার ছত্রছায়ায় চলছে এই অবৈধ সাম্রাজ্য?

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দৌলতদিয়া পোড়াভিটায় মাদকসেবীদের ভিড় লেগেই থাকে। হেরোইন, ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা ও দেশি-বিদেশি মদ—সবই সহজলভ্য। প্রতিদিন শত শত মাদকসেবী এখানে এসে লাইন দিয়ে মাদক সংগ্রহ করছে। অথচ প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো নজরদারি নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক ডজন প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ীর নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে এই অবৈধ বাজার। মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালনা করা হলেও মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

গত ৮ মার্চ রাজবাড়ী পৌরসভা দৌলতদিয়া পোড়াভিটায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য ৭ দিনের নোটিশ প্রদান করে। কিন্তু এক মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এতে হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পোড়াভিটা ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষ চলাফেরা করতেই ভয় পান। ছিনতাই, হয়রানি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম বেড়ে গেছে আশঙ্কাজনক হারে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের ধরার পরিবর্তে সাধারণ মানুষকেই হয়রানি করা হচ্ছে।

৩৭ বছরের পুরনো মাদকের আস্তানা
১৯৮৮ সালে দৌলতদিয়া যৌনপল্লী আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার পর ওই জায়গাটি ‘পোড়াভিটা’ নামে পরিচিতি পায়। এরপর থেকেই সেখানে গড়ে ওঠে অবৈধ স্থাপনা এবং শুরু হয় মাদক ব্যবসা, যা প্রায় ৩৭ বছর ধরে চলছে।

এই এলাকা থেকে প্রতিদিন রাজবাড়ীসহ আশপাশের জেলা—মাদারীপুর, ফরিদপুর, পাবনা, মানিকগঞ্জ এমনকি ঢাকার সাভারেও পাইকারি মাদক সরবরাহ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডও বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা চিহ্নিত অপরাধীরা এখানে আশ্রয় নেয়। গত পাঁচ বছরে একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, যার মধ্যে গত ২২ জুন মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত দ্বন্দ্বে নিহত হন নজরুল নামে এক যুবক।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, “মাদকবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে, বিষয়টি নিয়ে সভায় আলোচনা হবে।”

অন্যদিকে জেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু আবদুল্লাহ জাহিদ জানান,
“প্রতিদিন অভিযান চলছে, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জনমনে প্রশ্ন, সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি এবং উচ্চ পর্যায়ের কঠোর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কেন বন্ধ হচ্ছে না দৌলতদিয়া পোড়াভিটার মাদক ব্যবসা? কারা দিচ্ছে এই অবৈধ কার্যক্রমের আশ্রয়-প্রশ্রয়?

স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চাইলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই মাদক বাণিজ্য বন্ধ করা সম্ভব। কিন্তু দীর্ঘ ৩৭ বছরেও তা সম্ভব না হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে, সমস্যা কি শুধুই প্রশাসনিক ব্যর্থতা, নাকি এর পেছনে রয়েছে শক্তিশালী কোনো সিন্ডিকেট?

স্থানীয়দের জোর দাবি, দ্রুত কার্যকর অভিযান চালিয়ে দৌলতদিয়া পোড়াভিটাকে মাদকমুক্ত করা হোক।

Please Share This Post in Your Social Media

প্রকাশ্যে মাদকের হাট, ৭ দিনের উচ্ছেদ নোটিশ এক মাসেও কার্যকর হয় নাই ।

প্রকাশ : ০২:৩১:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় সাপ্তাহিক অন্যায়ের প্রতিবাদ।

রাজবাড়ী প্রতিনিধি।

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া পোড়াভিটা এখন যেন মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের ঘোষণা, অভিযান ও ৭ দিনের উচ্ছেদ নোটিশ—সবকিছুকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এখনও সেখানে প্রতিদিন প্রকাশ্যে বসছে মাদকের হাট। স্থানীয়দের প্রশ্ন – কার ছত্রছায়ায় চলছে এই অবৈধ সাম্রাজ্য?

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দৌলতদিয়া পোড়াভিটায় মাদকসেবীদের ভিড় লেগেই থাকে। হেরোইন, ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা ও দেশি-বিদেশি মদ—সবই সহজলভ্য। প্রতিদিন শত শত মাদকসেবী এখানে এসে লাইন দিয়ে মাদক সংগ্রহ করছে। অথচ প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো নজরদারি নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক ডজন প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ীর নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে এই অবৈধ বাজার। মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালনা করা হলেও মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

গত ৮ মার্চ রাজবাড়ী পৌরসভা দৌলতদিয়া পোড়াভিটায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য ৭ দিনের নোটিশ প্রদান করে। কিন্তু এক মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এতে হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পোড়াভিটা ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষ চলাফেরা করতেই ভয় পান। ছিনতাই, হয়রানি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম বেড়ে গেছে আশঙ্কাজনক হারে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের ধরার পরিবর্তে সাধারণ মানুষকেই হয়রানি করা হচ্ছে।

৩৭ বছরের পুরনো মাদকের আস্তানা
১৯৮৮ সালে দৌলতদিয়া যৌনপল্লী আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার পর ওই জায়গাটি ‘পোড়াভিটা’ নামে পরিচিতি পায়। এরপর থেকেই সেখানে গড়ে ওঠে অবৈধ স্থাপনা এবং শুরু হয় মাদক ব্যবসা, যা প্রায় ৩৭ বছর ধরে চলছে।

এই এলাকা থেকে প্রতিদিন রাজবাড়ীসহ আশপাশের জেলা—মাদারীপুর, ফরিদপুর, পাবনা, মানিকগঞ্জ এমনকি ঢাকার সাভারেও পাইকারি মাদক সরবরাহ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডও বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা চিহ্নিত অপরাধীরা এখানে আশ্রয় নেয়। গত পাঁচ বছরে একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, যার মধ্যে গত ২২ জুন মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত দ্বন্দ্বে নিহত হন নজরুল নামে এক যুবক।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, “মাদকবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে, বিষয়টি নিয়ে সভায় আলোচনা হবে।”

অন্যদিকে জেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু আবদুল্লাহ জাহিদ জানান,
“প্রতিদিন অভিযান চলছে, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জনমনে প্রশ্ন, সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি এবং উচ্চ পর্যায়ের কঠোর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কেন বন্ধ হচ্ছে না দৌলতদিয়া পোড়াভিটার মাদক ব্যবসা? কারা দিচ্ছে এই অবৈধ কার্যক্রমের আশ্রয়-প্রশ্রয়?

স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চাইলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই মাদক বাণিজ্য বন্ধ করা সম্ভব। কিন্তু দীর্ঘ ৩৭ বছরেও তা সম্ভব না হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে, সমস্যা কি শুধুই প্রশাসনিক ব্যর্থতা, নাকি এর পেছনে রয়েছে শক্তিশালী কোনো সিন্ডিকেট?

স্থানীয়দের জোর দাবি, দ্রুত কার্যকর অভিযান চালিয়ে দৌলতদিয়া পোড়াভিটাকে মাদকমুক্ত করা হোক।