০৯:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বালিয়াকান্দিতে প্রসূতি ও নবজাতককে চিকিৎসায় অবহেলা ও নার্সের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

আক্কাস আলী খান রাজবাড়ী প্রতিনিধি।
  • প্রকাশ : ০২:১৭:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 2

আক্কাস আলী খান রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে প্রসূতি ও নবজাতককে চিকিৎসায় অবহেলা ও অপচিকিৎসার কারণে গুরুতর অবস্থায় পড়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক সিনিয়র স্টাফ নার্সের বিরুদ্ধে বালিয়াকান্দি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মোঃ রিংকু মিয়া।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রিংকু মিয়ার বোন আখি খাতুন (২১) সন্তান প্রসবের ব্যথা উঠলে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সের পরামর্শে তাকে হাসপাতালে রাখা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরদিন ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে সিনিয়র স্টাফ নার্স কল্পনা রানী প্রসূতিকে দেখে নরমাল ডেলিভারি হবে বলে আশ্বস্ত করেন।

পরিবারের সদস্যরা প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন করানোর জন্য ছাড়পত্র চাইলে নরমাল ডেলিভারি করানোর বিষয়ে পুনরায় আশ্বস্ত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার প্রসূতিকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাকে হাসপাতাল থেকে নিতে বাধা দেওয়া হয় এবং নিয়ে গেলে সিঁড়িতেই সন্তান প্রসব হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা বলা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই দিন বেলা আনুমানিক ২টার দিকে নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে সন্তান প্রসব হলেও প্রসূতি ও নবজাতকের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাদের দ্রুত ফরিদপুরে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

পরিবারের দাবি, ফরিদপুরের জায়েদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা জানান, সন্তান প্রসবের সময় প্রসূতির শরীরের এক পাশে গুরুতর ক্ষত হয়েছে এবং সেখানে ১৮ থেকে ২০টি সেলাই প্রয়োজন হয়েছে। অন্যদিকে নবজাতকের মাথায় আঘাতের কারণে রক্ত জমাট এবং বাম হাতেও আঘাত রয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে শিশুটি গুরুতর অবস্থায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার ক্ষেত্রে অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে মা ও নবজাতকের এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে তাদের চিকিৎসায় বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে বলেও অভিযোগকারীর দাবি।

এ ঘটনায় মোঃ রিংকু মিয়া বালিয়াকান্দি থানায় কল্পনা রানীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। অভিযোগপত্রে ঘটনার সাক্ষী থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সিনিয়র স্টাফ নার্স কল্পনা রানী কিংবা বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা ও চিকিৎসাসেবায় কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রব তালুকদার বলেন, এবিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

বালিয়াকান্দিতে প্রসূতি ও নবজাতককে চিকিৎসায় অবহেলা ও নার্সের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

প্রকাশ : ০২:১৭:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আক্কাস আলী খান রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে প্রসূতি ও নবজাতককে চিকিৎসায় অবহেলা ও অপচিকিৎসার কারণে গুরুতর অবস্থায় পড়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক সিনিয়র স্টাফ নার্সের বিরুদ্ধে বালিয়াকান্দি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মোঃ রিংকু মিয়া।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রিংকু মিয়ার বোন আখি খাতুন (২১) সন্তান প্রসবের ব্যথা উঠলে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সের পরামর্শে তাকে হাসপাতালে রাখা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরদিন ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে সিনিয়র স্টাফ নার্স কল্পনা রানী প্রসূতিকে দেখে নরমাল ডেলিভারি হবে বলে আশ্বস্ত করেন।

পরিবারের সদস্যরা প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন করানোর জন্য ছাড়পত্র চাইলে নরমাল ডেলিভারি করানোর বিষয়ে পুনরায় আশ্বস্ত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার প্রসূতিকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাকে হাসপাতাল থেকে নিতে বাধা দেওয়া হয় এবং নিয়ে গেলে সিঁড়িতেই সন্তান প্রসব হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা বলা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই দিন বেলা আনুমানিক ২টার দিকে নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে সন্তান প্রসব হলেও প্রসূতি ও নবজাতকের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাদের দ্রুত ফরিদপুরে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

পরিবারের দাবি, ফরিদপুরের জায়েদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা জানান, সন্তান প্রসবের সময় প্রসূতির শরীরের এক পাশে গুরুতর ক্ষত হয়েছে এবং সেখানে ১৮ থেকে ২০টি সেলাই প্রয়োজন হয়েছে। অন্যদিকে নবজাতকের মাথায় আঘাতের কারণে রক্ত জমাট এবং বাম হাতেও আঘাত রয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে শিশুটি গুরুতর অবস্থায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার ক্ষেত্রে অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে মা ও নবজাতকের এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে তাদের চিকিৎসায় বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে বলেও অভিযোগকারীর দাবি।

এ ঘটনায় মোঃ রিংকু মিয়া বালিয়াকান্দি থানায় কল্পনা রানীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। অভিযোগপত্রে ঘটনার সাক্ষী থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সিনিয়র স্টাফ নার্স কল্পনা রানী কিংবা বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা ও চিকিৎসাসেবায় কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রব তালুকদার বলেন, এবিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।