০৮:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বালিয়াকান্দীর বিলধামুক গ্রামে এক পরিবারের ছয় হাফেজ

আক্কাস আলী খান রাজবাড়ী প্রতিনিধি।
  • প্রকাশ : ০২:২১:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 1

আক্কাস আলী খান রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের বিলধামু গ্রামে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে একটি পরিবার। একই পরিবারের ছয় সন্তানই পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করে হাফেজে কোরআন হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজন বর্তমানে মুফতি হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দ্বীনি শিক্ষার খেদমতে নিয়োজিত রয়েছেন। অপর দুই সন্তানও ইসলামী শিক্ষায় অধ্যয়নরত। একই পরিবারের ছয় সন্তানের এমন অর্জনে পরিবারটির পাশাপাশি গর্বিত এলাকাবাসীও।

জানা গেছে, মরহুম হাজি মোঃ আজিমউদ্দিন মন্ডল (রহ.)-এর বড় ছেলে হাজি মোঃ তোফাজ্জল হোসেন। তিনি অবসরপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা। তাঁর ছয় সন্তানই পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেছেন। ছোটবেলা থেকেই সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে পরিবারটির পক্ষ থেকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সন্তানদের অধ্যবসায় ও পরিবারের সহযোগিতায় একে একে ছয় সন্তানই হাফেজে কোরআন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

পরিবারের বড় সন্তান মোঃ ইলিয়াস হোসেন নারুয়া ইউনিয়নের কোনাগ্রাম জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মোঃ জোবায়ের হোসেন ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে মুহতামিম হিসেবে কর্মরত। মোঃ ইউসুফ ঢাকায় একটি কিতাবখানায় দায়িত্ব পালন করছেন। আর মোঃ ইউনুস ঢাকার কেরানীগঞ্জের নতুন রায়ের চর জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অপর দুই সন্তান মোঃ উমায়ের শরীয়তপুরে ইসলামী শিক্ষায় অধ্যয়নরত। আর মোঃ উজায়ের ঢাকার ইসলামপুরে ‘জালালাইন’ অধ্যয়ন করছেন।
স্থানীয়রা জানান, একই পরিবারের ছয় সন্তানই কোরআনের হাফেজ হওয়া এলাকায় খুবই বিরল ঘটনা। এ কারণে পরিবারটি স্থানীয়ভাবে বিশেষভাবে পরিচিতি পেয়েছে। সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষায় সম্পৃক্ততা এবং তাঁদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সন্তানদের হিফজ সম্পন্ন করার পেছনে বাবা-মায়ের ত্যাগ, সন্তানদের নিয়মিত অধ্যবসায় এবং দ্বীনি শিক্ষার প্রতি পরিবারের গভীর আগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সন্তানদের কোরআন শিক্ষা ও দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের সুযোগ করে দিতে পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে সচেতনভাবে কাজ করেছে।

হাজি মোঃ তোফাজ্জল হোসেনের পরিবারের এ অর্জন শুধু একটি পরিবারের আনন্দের বিষয় নয়, বরং স্থানীয়ভাবে দ্বীনি শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। ভবিষ্যতে সন্তানদের মাধ্যমে দ্বীন ও মানবতার কল্যাণে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে পরিবারটি।

Please Share This Post in Your Social Media

বালিয়াকান্দীর বিলধামুক গ্রামে এক পরিবারের ছয় হাফেজ

প্রকাশ : ০২:২১:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আক্কাস আলী খান রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের বিলধামু গ্রামে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে একটি পরিবার। একই পরিবারের ছয় সন্তানই পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করে হাফেজে কোরআন হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজন বর্তমানে মুফতি হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দ্বীনি শিক্ষার খেদমতে নিয়োজিত রয়েছেন। অপর দুই সন্তানও ইসলামী শিক্ষায় অধ্যয়নরত। একই পরিবারের ছয় সন্তানের এমন অর্জনে পরিবারটির পাশাপাশি গর্বিত এলাকাবাসীও।

জানা গেছে, মরহুম হাজি মোঃ আজিমউদ্দিন মন্ডল (রহ.)-এর বড় ছেলে হাজি মোঃ তোফাজ্জল হোসেন। তিনি অবসরপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা। তাঁর ছয় সন্তানই পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেছেন। ছোটবেলা থেকেই সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে পরিবারটির পক্ষ থেকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সন্তানদের অধ্যবসায় ও পরিবারের সহযোগিতায় একে একে ছয় সন্তানই হাফেজে কোরআন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

পরিবারের বড় সন্তান মোঃ ইলিয়াস হোসেন নারুয়া ইউনিয়নের কোনাগ্রাম জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মোঃ জোবায়ের হোসেন ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে মুহতামিম হিসেবে কর্মরত। মোঃ ইউসুফ ঢাকায় একটি কিতাবখানায় দায়িত্ব পালন করছেন। আর মোঃ ইউনুস ঢাকার কেরানীগঞ্জের নতুন রায়ের চর জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অপর দুই সন্তান মোঃ উমায়ের শরীয়তপুরে ইসলামী শিক্ষায় অধ্যয়নরত। আর মোঃ উজায়ের ঢাকার ইসলামপুরে ‘জালালাইন’ অধ্যয়ন করছেন।
স্থানীয়রা জানান, একই পরিবারের ছয় সন্তানই কোরআনের হাফেজ হওয়া এলাকায় খুবই বিরল ঘটনা। এ কারণে পরিবারটি স্থানীয়ভাবে বিশেষভাবে পরিচিতি পেয়েছে। সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষায় সম্পৃক্ততা এবং তাঁদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সন্তানদের হিফজ সম্পন্ন করার পেছনে বাবা-মায়ের ত্যাগ, সন্তানদের নিয়মিত অধ্যবসায় এবং দ্বীনি শিক্ষার প্রতি পরিবারের গভীর আগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সন্তানদের কোরআন শিক্ষা ও দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের সুযোগ করে দিতে পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে সচেতনভাবে কাজ করেছে।

হাজি মোঃ তোফাজ্জল হোসেনের পরিবারের এ অর্জন শুধু একটি পরিবারের আনন্দের বিষয় নয়, বরং স্থানীয়ভাবে দ্বীনি শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। ভবিষ্যতে সন্তানদের মাধ্যমে দ্বীন ও মানবতার কল্যাণে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে পরিবারটি।