০৪:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাস্ক-পিপিই কেনায় দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করছে দুদক

সারাবাংলা২৪নিউজ ডেস্ক,ঢাকা
  • প্রকাশ : ১০:১৭:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২০
  • / 64

অনলাইন ডেস্ক

করোনাভাইরাস মহামারির প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় চিকিৎসক, নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় মাস্ক ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তাসামগ্রী পিপিই কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ লক্ষ্যে অভিযোগ সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। শিগগির কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সভায় এ বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দুদক সূত্র বিষয়টি জানিয়েছে।   

এ প্রসঙ্গে রোববার দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এন-৯৫ মাস্ক ও পিপিই ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রতারণার খবর এসেছে। কমিশন এ সংক্রান্ত তথ্য, প্রতিবেদন সংরক্ষণ করছে। কমিশনের গোয়েন্দা ইউনিটকেও এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের হটলাইন নম্বরে (১০৬) স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির আরও কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাস্ক-পিপিই কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে তাদের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় তদন্ত শুরু করেছে বলে জেনেছি। দুদক আইনী প্রক্রিয়ায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনটি সংগ্রহ করবে। এরপর কমিশন সভায় এই অনিয়ম, দুর্নীতির সব তথ্য যাচাই করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

দুদক চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘মাস্ক-পিপিই’র মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী চিকিৎসক, নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মীদের জীবনের রক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই এ সংক্রান্ত অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়া হয়েছে এবং অভিযোগটি অনুসন্ধানের জন্য দ্রুততার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাব শুরুর দিকেই ওইসব সামগ্রীর ক্রয় প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ ধরনের কেনাকাটায় অনিয়ম-দুর্নীতি-জালিয়াতির  ঘটনা ঘটলে দুদক আইনি ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। এক্ষেত্রেও কমিশন সেটাই করছে।’   

তিনি জানান, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে রাজধানীর বড় বড় হাসপাতালে কেনাকাটাসহ নানা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সেগুলোও যাচাই-বাছাই করে আমলে নেওয়া হবে। স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি দমনে দুদকের একটি প্রাতিষ্ঠানিক টিমও কাজ করেছে।

ক্যাসিনো কাণ্ড: সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘করোনার কারণে দুর্নীতিবাজদের  প্রতি নমনীয় হওয়ার  সুযোগ নেই।’ দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচিত ক্যাসিনো কাণ্ডের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রমে কোনোরূপ শৈথিল্য দেখা দেবে কি-না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে এই কথা বলেন তিনি।

দুদক চেয়ারম্যান আরও বলনে, ‘ক্যাসিনো কাণ্ডে যে সব অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়েছে সেগুলোর অনুসন্ধান, তদন্তের ক্ষেত্রে শৈথিল্যের কোনো সুযোগ নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে তদন্ত সম্পন্ন করতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে একটু বেশি সময় লাগতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুবিধা অনুযায়ী কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারাও নিরলসভাবে কাজ করছে। আশা করা হচ্ছে, তদন্ত সম্পন্ন করেই অভিযুক্তদের আইন আমলে আনা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

মাস্ক-পিপিই কেনায় দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করছে দুদক

প্রকাশ : ১০:১৭:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২০

অনলাইন ডেস্ক

করোনাভাইরাস মহামারির প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় চিকিৎসক, নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় মাস্ক ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তাসামগ্রী পিপিই কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ লক্ষ্যে অভিযোগ সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। শিগগির কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সভায় এ বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দুদক সূত্র বিষয়টি জানিয়েছে।   

এ প্রসঙ্গে রোববার দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এন-৯৫ মাস্ক ও পিপিই ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রতারণার খবর এসেছে। কমিশন এ সংক্রান্ত তথ্য, প্রতিবেদন সংরক্ষণ করছে। কমিশনের গোয়েন্দা ইউনিটকেও এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের হটলাইন নম্বরে (১০৬) স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির আরও কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাস্ক-পিপিই কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে তাদের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় তদন্ত শুরু করেছে বলে জেনেছি। দুদক আইনী প্রক্রিয়ায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনটি সংগ্রহ করবে। এরপর কমিশন সভায় এই অনিয়ম, দুর্নীতির সব তথ্য যাচাই করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

দুদক চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘মাস্ক-পিপিই’র মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী চিকিৎসক, নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মীদের জীবনের রক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই এ সংক্রান্ত অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়া হয়েছে এবং অভিযোগটি অনুসন্ধানের জন্য দ্রুততার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাব শুরুর দিকেই ওইসব সামগ্রীর ক্রয় প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ ধরনের কেনাকাটায় অনিয়ম-দুর্নীতি-জালিয়াতির  ঘটনা ঘটলে দুদক আইনি ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। এক্ষেত্রেও কমিশন সেটাই করছে।’   

তিনি জানান, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে রাজধানীর বড় বড় হাসপাতালে কেনাকাটাসহ নানা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সেগুলোও যাচাই-বাছাই করে আমলে নেওয়া হবে। স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি দমনে দুদকের একটি প্রাতিষ্ঠানিক টিমও কাজ করেছে।

ক্যাসিনো কাণ্ড: সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘করোনার কারণে দুর্নীতিবাজদের  প্রতি নমনীয় হওয়ার  সুযোগ নেই।’ দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচিত ক্যাসিনো কাণ্ডের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রমে কোনোরূপ শৈথিল্য দেখা দেবে কি-না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে এই কথা বলেন তিনি।

দুদক চেয়ারম্যান আরও বলনে, ‘ক্যাসিনো কাণ্ডে যে সব অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়েছে সেগুলোর অনুসন্ধান, তদন্তের ক্ষেত্রে শৈথিল্যের কোনো সুযোগ নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে তদন্ত সম্পন্ন করতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে একটু বেশি সময় লাগতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুবিধা অনুযায়ী কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারাও নিরলসভাবে কাজ করছে। আশা করা হচ্ছে, তদন্ত সম্পন্ন করেই অভিযুক্তদের আইন আমলে আনা হবে।