০৮:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাকরির প্রলোভনে সৌদি পাঠিয়ে প্রতারণার অভিযোগ

আক্কাস আলী খান রাজবাড়ী প্রতিনিধি।
  • প্রকাশ : ০১:২৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 2

দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা, নারী আসামি গ্রেপ্তার

আক্কাস আলী খান
রাজবাড়ী প্রতিনিধি,

রাজবাড়ীর কালুখালীতে সৌদি আরবে ভালো চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তিনজনকে বিদেশে পাঠানোর নামে ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া এবং পরে প্রতারণা ও মানবপাচারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার পর মোছাঃ আমেনা বেগম (৩০) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর মোছাঃ সেলিনা (৩৫) নামে এক গৃহবধূ বাদী হয়ে কালুখালী থানায় মামলাটি করেন। মামলায় খান শাহিদুল (৩৫) ও তার স্ত্রী মোছাঃ আমেনা বেগমকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি মানবপাচার ও চোরাচালান দমন আইন, ২০২৬-এর ৬(২)/৭ ধারায় রুজু করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মামলা দায়েরের পর একই দিন দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে আমেনা বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হলে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী সেলিনার স্বামী আরাফাত শিকদার বেকার থাকায় তাকে বিদেশে পাঠানোর জন্য বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন তিনি। একপর্যায়ে জানতে পারেন, মামলার প্রধান আসামি খান শাহিদুল সৌদি আরবে লোক পাঠানোর কাজ করেন। পরে স্বামীকে সৌদি আরবে পাঠানোর বিষয়ে শাহিদুলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন সেলিনা।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, শাহিদুল সৌদি আরবে ভালো ভিসা ও চাকরি দেওয়ার কথা বলে জনপ্রতি ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে গত ১৫ মে বিকেলে শাহিদুলের বসতঘরে বসে বাদী ও আরও দুই ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে মোট ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা আসামিদের দেওয়া হয়।

এরপর আরাফাত শিকদার, মোঃ নিশাদ খান (২৭) ও জাবেদ শেখ (২২) নামে তিনজনকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। তবে সেখানে যাওয়ার পর তাদের প্রতিশ্রুত চাকরি না দিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘোরানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বাদী। একপর্যায়ে আরাফাত শিকদারকে অন্য এক দালালের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

বাদী সেলিনা অভিযোগ করে বলেন, আসামিরা প্রতারণার মাধ্যমে টাকা নিয়ে তার স্বামীসহ তিনজনকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছেন। সৌদি আরবে পাঠানোর পর তাদের দালালের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। সেখানে ভুক্তভোগীদের একটি কক্ষে আটকে রেখে নির্যাতন এবং ঠিকমতো খাবার না দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
সেলিনা আরও দাবি করেন, তার স্বামীসহ একইভাবে আরও প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন ব্যক্তি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তাদেরও সৌদি আরবে পাঠানোর পর বিভিন্ন দালালের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি আমার স্বামীসহ সব ভুক্তভোগীকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালুখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলার ২ নম্বর আসামি মোছাঃ আমেনা বেগমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

Please Share This Post in Your Social Media

চাকরির প্রলোভনে সৌদি পাঠিয়ে প্রতারণার অভিযোগ

প্রকাশ : ০১:২৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা, নারী আসামি গ্রেপ্তার

আক্কাস আলী খান
রাজবাড়ী প্রতিনিধি,

রাজবাড়ীর কালুখালীতে সৌদি আরবে ভালো চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তিনজনকে বিদেশে পাঠানোর নামে ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া এবং পরে প্রতারণা ও মানবপাচারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার পর মোছাঃ আমেনা বেগম (৩০) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর মোছাঃ সেলিনা (৩৫) নামে এক গৃহবধূ বাদী হয়ে কালুখালী থানায় মামলাটি করেন। মামলায় খান শাহিদুল (৩৫) ও তার স্ত্রী মোছাঃ আমেনা বেগমকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি মানবপাচার ও চোরাচালান দমন আইন, ২০২৬-এর ৬(২)/৭ ধারায় রুজু করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মামলা দায়েরের পর একই দিন দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে আমেনা বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হলে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী সেলিনার স্বামী আরাফাত শিকদার বেকার থাকায় তাকে বিদেশে পাঠানোর জন্য বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন তিনি। একপর্যায়ে জানতে পারেন, মামলার প্রধান আসামি খান শাহিদুল সৌদি আরবে লোক পাঠানোর কাজ করেন। পরে স্বামীকে সৌদি আরবে পাঠানোর বিষয়ে শাহিদুলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন সেলিনা।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, শাহিদুল সৌদি আরবে ভালো ভিসা ও চাকরি দেওয়ার কথা বলে জনপ্রতি ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে গত ১৫ মে বিকেলে শাহিদুলের বসতঘরে বসে বাদী ও আরও দুই ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে মোট ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা আসামিদের দেওয়া হয়।

এরপর আরাফাত শিকদার, মোঃ নিশাদ খান (২৭) ও জাবেদ শেখ (২২) নামে তিনজনকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। তবে সেখানে যাওয়ার পর তাদের প্রতিশ্রুত চাকরি না দিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘোরানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বাদী। একপর্যায়ে আরাফাত শিকদারকে অন্য এক দালালের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

বাদী সেলিনা অভিযোগ করে বলেন, আসামিরা প্রতারণার মাধ্যমে টাকা নিয়ে তার স্বামীসহ তিনজনকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছেন। সৌদি আরবে পাঠানোর পর তাদের দালালের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। সেখানে ভুক্তভোগীদের একটি কক্ষে আটকে রেখে নির্যাতন এবং ঠিকমতো খাবার না দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
সেলিনা আরও দাবি করেন, তার স্বামীসহ একইভাবে আরও প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন ব্যক্তি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তাদেরও সৌদি আরবে পাঠানোর পর বিভিন্ন দালালের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি আমার স্বামীসহ সব ভুক্তভোগীকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালুখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলার ২ নম্বর আসামি মোছাঃ আমেনা বেগমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।