দৌলতদিয়ায় সারেংয়ের দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার আগেই অফিসে তালা
- প্রকাশ : ০১:২২:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 2

রুমে আটকা জামাকাপড় ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, অমানবিক জীবনযাপনের অভিযোগ
আক্কাস আলী খান
রাজবাড়ী প্রতিনিধি,
দেশের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৭ নম্বর ঘাটে টালি সুকানি (এফটিং সারেং) মোঃ হুমায়ুন কবিরের দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার আগেই তার থাকার কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ওই কক্ষে থাকা তার জামাকাপড়, চার্জার, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ব্যক্তিগত মালামাল আটকা পড়েছে। ফলে দায়িত্ব পালন ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ব্যবহারে বিড়ম্বনায় পড়েছেন তিনি।
দৌলতদিয়া ঘাট সূত্রে জানা গেছে, বিআইডব্লিউটিসির নারায়ণগঞ্জ পার্সোনেল ম্যানেজার (ফ্রিট) সারজিল হাসান (সজীব) স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে কর্মরত টালি সুকানি (এফটিং সারেং) মোঃ হুমায়ুন কবিরকে বদলি করা হয়। তার স্থলে মোঃ এরাদত আলীকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।
তবে হুমায়ুন কবিরের অভিযোগ, বদলির আদেশ কার্যকর হওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই মোঃ এরাদত আলী বাইরের লোকজন নিয়ে এসে তার থাকার কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, জামাকাপড় ও অন্যান্য ব্যক্তিগত সামগ্রী কক্ষের ভেতরে আটকা পড়ে।
মোঃ হুমায়ুন কবির বলেন, “আমি এখানে প্রায় ১১ মাস ধরে কর্মরত আছি। আমার দুই বছর এখানে থাকার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই আমাকে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে। বদলির চিঠিতে কবে এবং কখন নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই। তাছাড়া দায়িত্ব ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বুঝিয়ে দেওয়ার জন্যও সময় প্রয়োজন। এর আগেই আমার থাকার কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমার জামাকাপড়, চার্জার ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রুমের ভেতরে রয়েছে। ফলে আমি সমস্যায় পড়েছি। বর্তমানে ফেরিঘাট বন্ধ থাকলেও ৭ নম্বর ঘাটের ডিমান্ড নোটে এখনো আমিই স্বাক্ষর করছি। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি।”
এ ঘটনায় নিয়মবহির্ভূতভাবে দায়িত্ব গ্রহণের অভিযোগ তুলে তিনি বিআইডব্লিউটিসির মহাব্যবস্থাপক (মেরিন) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন বলেও জানান।
অভিযোগের বিষয়ে মোঃ এরাদত আলীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে ৭ নম্বর ফেরিঘাটের সারেং হিসেবে দাবি করেন। হুমায়ুন কবিরের থাকার কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে কোনো মন্তব্য না করে সামনাসামনি কথা বলার কথা জানান।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির পার্সোনেল ম্যানেজার সারজিস আলম বলেন, “বিষয়টি আমি জানি না। তবে এ ধরনের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। এ বিষয়ে ওই অঞ্চলের সহকারী মহাব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। অথবা হেড অফিসের মাধ্যমে আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে হবে।”
এদিকে, দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার আগেই কর্মরত সারেংয়ের থাকার কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগে দৌলতদিয়া ঘাটের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। বিষয়টি তদন্ত করে দায়িত্ব হস্তান্তর ও গ্রহণের নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ এবং আটকে থাকা ব্যক্তিগত মালামাল উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।



















