আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না, উন্নয়নের মাধ্যমে জবাব দেয়
- প্রকাশ : ০৪:২২:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
- / 48
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি একটি সন্ত্রাসী দল। তাদের সন্ত্রাসের শিকার আমাদের অনেক নেতাকর্মীসহ মা-বোনেরা। আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না, উন্নয়ন করে জবাব দেয়। আমরা জবাব দেই মানুষের কল্যাণে কাজ করে।
বুধবার সকালে গণভবনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এত চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আওয়ামী লীগ যে বারবার ক্ষমতায় আসবে, এটা কখনও কেউ ভাবতে পারেনি। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল, এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে।
১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট খুনিরা শিশু রাসেলকে (বঙ্গবন্ধুর ছোট ছেলে) পর্যন্ত হত্যা করেছিল। তারা চেয়েছিল যেন ভবিষ্যতে বঙ্গবন্ধুর রক্তের কেউ ক্ষমতায় আসতে না পারে। কিন্তু আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। আমি বার বার মৃত্যুকে কাছ থেকে দেখেছি।
১৯৮১ সালে দেশে ফেরার দিনের ‘ঝড়-ঝাপ্টা’ থাকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, দুই চোখ খুঁজে বেড়াচ্ছিল ভাইদের। আমি তো তাদের পাইনি, পেয়েছিলাম সারি সারি কবর। সে কবর ছুঁয়ে শপথ করেছিলাম, স্বাধীনতা ব্যর্থ হতে দেবো না। আমার এ যাত্রাপথ সহজ ছিল না। নানান রকম ষড়যন্ত্র চলেছিল, এখনও রয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, তাই মানুষের সমর্থন আর ভালোবাসাই আমাদের প্রেরণা। আমি অসংখ্যবার মৃত্যুকে মুখোমুখি দেখেছি। আমাকে মোকাবিলা করতে হয়েছে। আমাকে রক্ষায় অনেকে নিজের জীবন দিয়ে গেছেন।
২০০৯ সালে সরকার গঠনের সময় দেশের অবস্থা খুব খারাপ ছিলো উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বিধ্বস্ত অর্থনীতি, বিপর্যস্ত সমাজ ও বিশৃঙ্খল অবস্থা ছিল। সেগুলো কাটিয়ে উঠেই আমাদের উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় পথচলা। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে চললে যেকোনও অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়, আমরা সেটি করে দেখিয়েছি। বিশ্বে বাংলাদেশ আজ মর্যাদার আসনে বসতে পেরেছে।
বদলে যাওয়া বাংলাদেশের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের বাংলাদেশ বদলে যাওয়া বাংলাদেশ। এই দেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। আগে বিদেশের মানুষ বাংলাদেশের নাম শুনলে বলতো ভিক্ষা করে খায়, সাহায্য নিয়ে চলে। নেতিবাচক একটা ধারণা ছিল। আমার খুব কষ্ট হতো। কেন আমাদের অবহেলার চোখে দেখবে। দেশের ভাবমূর্তি পরিবর্তন করে যাতে বিশ্ববাসী সম্মানের চোখে দেখে সেই উদ্যোগে এগিয়েছি। এখন বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ একটা মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে।
এর আগে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে সকাল ১০টায় গণভবনে বৈঠকে বসেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা।
মনোনয়নপ্রত্যাশীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাব। ১৫৫৩ মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যাই প্রমাণ করে নারী জাগরণ ঘটেছে। তারাও এগিয়ে এসেছে। তবে এত প্রার্থীর মধ্যে ৪৮ জনকে বেছে নেওয়া কঠিন কাজ। আপনাদের (বেছে নিতে) দিলে তা আপনারা করতে পারবেন কি?
দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী বাছাইয়ে ৬ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দলীয় ফরম বিক্রি ও জমা নেয় আওয়ামী লীগ। সব মিলিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ১৫৫৩ জন। মোট সাত কোটি ৭৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে দলটি।
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের মধ্যে ৪৮টি আসনে মনোনয়ন দেবে আওয়ামী লীগ। ফলে প্রতিটি আসনের বিপরীতে মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৩২ জন।




















