রামমূর্তি বিতর্কে সরব গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানা , সম্প্রীতি রক্ষায় প্রশাসনের আহ্বান….
- প্রকাশ : ০২:৫৪:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
- / 4
আখতারুজ্জামান সোহাগ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অভিযোগ নিয়ে তদন্তের দাবি • সম্প্রীতি রক্ষায় প্রশাসনের আহ্বান • মূর্তি নির্মাণ বন্ধে প্রতিবাদ
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে একদিকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখার আহ্বানে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে, অন্যদিকে একই সময়ে রামমূর্তি নির্মাণের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে স্থানীয় একটি সংগঠন। একই দিনে দুটি ভিন্নধর্মী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ায় বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত সম্প্রীতি সমাবেশে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। সমাবেশে বক্তারা উপজেলার ২ নম্বর হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্র গ্রামের শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালি মন্দিরের সভাপতি হরিদাস চন্দ্র তরনীদাসকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন বক্তব্য ও অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, কোনো অভিযোগ বা বিতর্ককে কেন্দ্র করে যাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট না হয়, সেজন্য প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। তারা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) সোহানুর রহমান সোহাগ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল ইয়াসা রহমান তাপাদার, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুস সামাদ মণ্ডল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমির আবু বক্কর সিদ্দিক, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশফেকুর রহমান রিপন এবং উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি দিলিপ চন্দ্র সাহা।
সমাবেশে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে একই সময়ে পলাশবাড়ী পৌরসভার চৌমাথা ফ্লাইওভারের নিচে বিশাল আকৃতির রামমূর্তি নির্মাণের বিরোধিতা করে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। “গাইবান্ধা পলাশবাড়ীর সাধারণ জনগণ” ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বক্তারা দাবি করেন, প্রস্তাবিত মূর্তি নির্মাণ স্থানীয়ভাবে বিতর্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি করতে পারে। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
সমাবেশে বক্তারা মূর্তি নির্মাণ উদ্যোগের সঙ্গে হরিদাস চন্দ্র তরনীদাসের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে ঘটনার তদন্ত দাবি করেন। তাদের বক্তব্য, যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনমত, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং সম্প্রীতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
প্রতিবাদ সমাবেশে মুহম্মদ তারিফুর রহমান, মারজুক ও আইনুল হক বক্তব্য রাখেন। পরে অংশগ্রহণকারীরা মূর্তি নির্মাণ বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একই দিনে সম্প্রীতি রক্ষার আহ্বান এবং রামমূর্তি নির্মাণের বিরোধিতায় পৃথক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়া পলাশবাড়ীর সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। তবে উভয় পক্ষই প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনানুগ পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করায় শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো অভিযোগ বা বিতর্কের বিষয়ে আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।




















