১০:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বাস্থ্যকর্মী মোজাহার আলীকে ঘিরে নতুন অভিযোগ

আক্কাস আলী খান রাজবাড়ী প্রতিনিধি।
  • প্রকাশ : ০১:৫৭:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • / 20

আক্কাস আলী খান রাজবাড়ী প্রতিনিধি।

কর্মস্থল টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। অথচ অধিকাংশ সময় অবস্থান করেন রাজবাড়ীর কালুখালীতে। নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না হয়েও মাস শেষে বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমটিইপিআই (স্বাস্থ্য সহকারী) মোজাহার আলী মোল্লার বিরুদ্ধে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বাসিন্দা মোজাহার আলী মোল্লা গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদানের পর থেকেই নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন না। মাঝে-মধ্যেই তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে কর্মস্থল থেকে অনুপস্থিত থাকেন। তবে অনিয়মিত উপস্থিতি সত্ত্বেও প্রতি মাসে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এর আগেও কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে কর্মরত অবস্থায় তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। পরে কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত থাকাকালে নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগে তদন্ত হয়। রাজবাড়ীর সিভিল সার্জনের তদন্ত শেষে প্রশাসনিক কারণে তাকে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, বদলির পরও তিনি কালুখালীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্নভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে পুনরায় কালুখালীতে বদলি হওয়ার জন্য বিভিন্ন মহলে তদবির করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ খাইরুল আলম বলেন, “মোজাহার আলী মোল্লা আমার অফিসে যোগদানের পর থেকে নিয়মিত অফিস করছেন না। তিনি মাঝেমধ্যেই নিয়মবহির্ভূতভাবে ছুটি কাটান। এ কারণে তাকে দুইবার শোকজ করা হয়েছে। তার বেতন বন্ধের বিষয়ে সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হবে।”

সূত্র জানায়, কুষ্টিয়ার তদন্ত প্রতিবেদন প্রায় এক বছর আগে এবং রাজবাড়ীর তদন্ত প্রতিবেদন প্রায় ছয় মাস আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শৃঙ্খলা শাখায় পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কেবল প্রশাসনিক কারণে বদলি করা হলেও অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।

কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একাধিক অভিযোগকারী কর্মকর্তা- কর্মচারী বলেন, “মোজাহার আলীকে আবার কালুখালীতে বদলি করা হলে কর্মপরিবেশ অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোজাহার আলী মোল্লার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

স্বাস্থ্যকর্মী মোজাহার আলীকে ঘিরে নতুন অভিযোগ

প্রকাশ : ০১:৫৭:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

আক্কাস আলী খান রাজবাড়ী প্রতিনিধি।

কর্মস্থল টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। অথচ অধিকাংশ সময় অবস্থান করেন রাজবাড়ীর কালুখালীতে। নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না হয়েও মাস শেষে বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমটিইপিআই (স্বাস্থ্য সহকারী) মোজাহার আলী মোল্লার বিরুদ্ধে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বাসিন্দা মোজাহার আলী মোল্লা গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদানের পর থেকেই নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন না। মাঝে-মধ্যেই তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে কর্মস্থল থেকে অনুপস্থিত থাকেন। তবে অনিয়মিত উপস্থিতি সত্ত্বেও প্রতি মাসে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এর আগেও কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে কর্মরত অবস্থায় তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। পরে কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত থাকাকালে নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগে তদন্ত হয়। রাজবাড়ীর সিভিল সার্জনের তদন্ত শেষে প্রশাসনিক কারণে তাকে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, বদলির পরও তিনি কালুখালীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্নভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে পুনরায় কালুখালীতে বদলি হওয়ার জন্য বিভিন্ন মহলে তদবির করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ খাইরুল আলম বলেন, “মোজাহার আলী মোল্লা আমার অফিসে যোগদানের পর থেকে নিয়মিত অফিস করছেন না। তিনি মাঝেমধ্যেই নিয়মবহির্ভূতভাবে ছুটি কাটান। এ কারণে তাকে দুইবার শোকজ করা হয়েছে। তার বেতন বন্ধের বিষয়ে সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হবে।”

সূত্র জানায়, কুষ্টিয়ার তদন্ত প্রতিবেদন প্রায় এক বছর আগে এবং রাজবাড়ীর তদন্ত প্রতিবেদন প্রায় ছয় মাস আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শৃঙ্খলা শাখায় পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কেবল প্রশাসনিক কারণে বদলি করা হলেও অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।

কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একাধিক অভিযোগকারী কর্মকর্তা- কর্মচারী বলেন, “মোজাহার আলীকে আবার কালুখালীতে বদলি করা হলে কর্মপরিবেশ অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোজাহার আলী মোল্লার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।