উদ্যোক্তা ও সমিতির সদস্যদের মাঝে ঋণ বিতরণ: প্রথম জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসে গ্রামীণ উন্নয়নের বার্তা
- প্রকাশ : ০২:১৫:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
- / 9
জাতীয় সাপ্তাহিক অন্যায়ের প্রতিবাদ।
এইচ,এম আওলাদ জেলা প্রতিনিধি-গোপালগঞ্জ।
***********************
“উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রথমবারের মতো জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উদযাপন করেছে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিস (বিআরডিবি)। দিবসটি উপলক্ষে র্যালি, আলোচনা সভা, বৃক্ষের চারা বিতরণ এবং প্রায় ২০ লাখ ২৪ হাজার টাকার ঋণের চেক বিতরণ করা হলেও প্রশ্ন উঠেছে—এসব ঋণ ও উন্নয়ন কর্মসূচির প্রকৃত সুফল কতটা পৌঁছাবে প্রান্তিক মানুষের কাছে?
রবিবার (৬ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি উপজেলা চত্বর থেকে বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল আলম। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. হোসেন মিয়া। আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা শাখা বিএনপির সভাপতি শেখ সালাহ উদ্দিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাকিবুল ইসলাম, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা দেবাশীষ বাছার, টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা প্রকাশ চক্রবর্তী।
বক্তারা বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে পল্লী উন্নয়ন কার্যক্রমের বিকল্প নেই। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং টেকসই গ্রামীণ উন্নয়নে বিআরডিবির বিভিন্ন কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। অনুষ্ঠানে ১০০ জন উপকারভোগীর মধ্যে মোট ২০০টি ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এছাড়া পাঁচজন উদ্যোক্তার মধ্যে মোট ৯ লাখ ৬৯ হাজার টাকা উদ্যোক্তা ঋণ এবং ২০ জন সমিতির সদস্যের মধ্যে ১০ লাখ ৫৫ হাজার টাকা ক্ষুদ্র ঋণের চেক বিতরণ করা হয়। অর্থাৎ মোট ২০ লাখ ২৪ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের মতে, কেবল ঋণ বিতরণ করলেই গ্রামীণ অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসে না। অতীতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ঋণের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার না হওয়া, কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থতা এবং প্রকৃত উদ্যোক্তার পরিবর্তে প্রভাবশালীদের সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ বিভিন্ন সময় সামনে এসেছে। ফলে এবারের বিতরণকৃত ঋণ প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছেছে কি না এবং অর্থ উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগ হচ্ছে কি না—তা নিয়মিত তদারকি করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া উদ্যোক্তা নির্বাচন, ঋণ অনুমোদনের মানদণ্ড, পরবর্তী পর্যায়ে তদারকি এবং ঋণগ্রহীতাদের ব্যবসায়িক সফলতার হার সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হলে কর্মসূচির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও নিশ্চিত হবে বলে মত সংশ্লিষ্টদের।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিআরডিবির কর্মকর্তা-কর্মচারী, সমিতির সদস্য, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। গ্রামীণ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে প্রথমবারের মতো জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন নিঃসন্দেহে ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে বিতরণকৃত ঋণের যথাযথ ব্যবহার, নিয়মিত তদারকি এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার দৃশ্যমান উন্নয়নই শেষ পর্যন্ত এই কর্মসূচির সফলতার প্রকৃত মানদণ্ড হয়ে উঠবে।




















