১০:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলোচিত ৮২ ফুট উচ্চতার রাম মূর্তি ও মন্দির প্রতিষ্ঠাতা হরিদাস গ্রেপ্তার

আখতারুজ্জামান সোহাগ গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি।
  • প্রকাশ : ০১:৫৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
  • / 16

আখতারুজ্জামান সোহাগ গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি।

সিআইডির মামলায় ডিবির অভিযান, পাঁচ ব্যাংক ও চার এমএফএস হিসাবে কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য

হুন্ডির মাধ্যমে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার এবং ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার বেশি অর্থ মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালী মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরনীদাসকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির আবেদনের পর দায়ের হওয়া মামলার ভিত্তিতে গাইবান্ধা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারের পর হরিদাস চন্দ্রকে ঢাকায় এনে মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ডিএসবি গাইবান্ধার তথ্য ও সিআইডির নির্দেশনায় গত ২ জুলাই অভিযোগটির অনুসন্ধান শুরু হয়। অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ পাওয়া যায়, ব্যবসার আড়ালে সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে হুন্ডি কার্যক্রম পরিচালনা করে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার এবং মানিলন্ডারিং করা হয়েছে।

সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, অভিযুক্তের নামে থাকা পাঁচটি ব্যাংক হিসাব ও চারটি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাব বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে মোট ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা জমা এবং ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৬৫ হাজার ৫২৮ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন ব্যক্তি ব্যবসাবহির্ভূতভাবে এসব হিসাবে নগদ অর্থ জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে মো. সুজন নামে এক ব্যক্তি ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্তের একাধিক হিসাবে ২ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা জমা দেন। তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক সন্দেহ, এই অর্থ হুন্ডি লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে।

সিআইডির ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ও তার সহযোগীরা অপরাধলব্ধ অর্থ বিভিন্ন উপায়ে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থের প্রকৃত উৎস, মালিকানা ও অবস্থান গোপন করার চেষ্টা করেছেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে নামে-বেনামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ গড়ে তোলার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে তদন্ত এখনও চলমান এবং তদন্ত শেষে প্রকৃত তথ্য ও অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এর আগে, রোববার (১২ জুলাই) রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫) এর ৪(২) ধারায় হরিদাস চন্দ্র তরনীদাসসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়।

মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে এ ঘটনায় আরও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

আলোচিত ৮২ ফুট উচ্চতার রাম মূর্তি ও মন্দির প্রতিষ্ঠাতা হরিদাস গ্রেপ্তার

প্রকাশ : ০১:৫৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

আখতারুজ্জামান সোহাগ গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি।

সিআইডির মামলায় ডিবির অভিযান, পাঁচ ব্যাংক ও চার এমএফএস হিসাবে কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য

হুন্ডির মাধ্যমে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার এবং ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার বেশি অর্থ মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালী মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরনীদাসকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির আবেদনের পর দায়ের হওয়া মামলার ভিত্তিতে গাইবান্ধা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারের পর হরিদাস চন্দ্রকে ঢাকায় এনে মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ডিএসবি গাইবান্ধার তথ্য ও সিআইডির নির্দেশনায় গত ২ জুলাই অভিযোগটির অনুসন্ধান শুরু হয়। অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ পাওয়া যায়, ব্যবসার আড়ালে সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে হুন্ডি কার্যক্রম পরিচালনা করে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার এবং মানিলন্ডারিং করা হয়েছে।

সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, অভিযুক্তের নামে থাকা পাঁচটি ব্যাংক হিসাব ও চারটি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাব বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে মোট ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা জমা এবং ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৬৫ হাজার ৫২৮ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন ব্যক্তি ব্যবসাবহির্ভূতভাবে এসব হিসাবে নগদ অর্থ জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে মো. সুজন নামে এক ব্যক্তি ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্তের একাধিক হিসাবে ২ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা জমা দেন। তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক সন্দেহ, এই অর্থ হুন্ডি লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে।

সিআইডির ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ও তার সহযোগীরা অপরাধলব্ধ অর্থ বিভিন্ন উপায়ে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থের প্রকৃত উৎস, মালিকানা ও অবস্থান গোপন করার চেষ্টা করেছেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে নামে-বেনামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ গড়ে তোলার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে তদন্ত এখনও চলমান এবং তদন্ত শেষে প্রকৃত তথ্য ও অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এর আগে, রোববার (১২ জুলাই) রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫) এর ৪(২) ধারায় হরিদাস চন্দ্র তরনীদাসসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়।

মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে এ ঘটনায় আরও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।