ভাইরাল চীনা যুবকের বিয়ের ঘটনায় বেরিয়ে এলো বাস্তবতা
- প্রকাশ : ০৭:৩০:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
- / 2
কৃষ্ণ কুমার কুন্ডু জেলা প্রতিনিধ নীলফামারী।
নীলফামারীর সদর উপজেলার সংগলশী এলাকায় চীনা নাগরিকের সঙ্গে এক তরুণীর বিয়ে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘১০ লাখ টাকার বিনিময়ে ৩ বছরের চুক্তিতে বিয়ে’ সংক্রান্ত দাবি সঠিক নয় বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিকভাবে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, চীনা নাগরিক লিয়াউ জিচুন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নুর মোহাম্মদ নাম ধারণ করেন এবং ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক কোর্ট অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে ওই তরুণীকে বিয়ে করেন।
জানা যায়, কনে সদর উপজেলার সংগলশী এলাকার বাসিন্দা জুয়েল হোসেনের মেয়ে মোছা. মাইশা আক্তার জুঁই। বর চীনা নাগরিক লিয়াউ বেইরুর ছেলে লিয়াউ জিচুন, যিনি বর্তমানে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর নুর মোহাম্মদ নামে পরিচিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুন উভয় পরিবারের সম্মতিতে কোর্ট অ্যাফিডেভিটের (হলফনামা) মাধ্যমে বিয়ের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। বিয়েতে ৩ লাখ ২৫১ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় এবং নগদ ৫ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। পরে গত ১৮ জুন পারিবারিকভাবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মাইশা আক্তার জুঁই উত্তরা ইপিজেডে অবস্থিত মেইগো বিডি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। সেখানে কর্মরত এক ব্যক্তির মাধ্যমে চীনা নাগরিক লিয়াউ জিচুনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গত কয়েকদিন ধরে ‘১০ লাখ টাকার বিনিময়ে ৩ বছরের চুক্তিতে বিয়ে’ শিরোনামে বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। তবে স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধান করে এমন কোনো চুক্তির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
কনের পরিবারের পক্ষ থেকেও এ ধরনের কোনো চুক্তির বিষয় নিশ্চিত করা হয়নি। স্থানীয়রা জানান, এটি একটি পারিবারিক ও পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে সম্পন্ন হওয়া বিয়ে। সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত চুক্তিভিত্তিক বিয়ের তথ্য বিভ্রান্তিকর এবং ভিত্তিহীন বলে তারা দাবি করেন। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।



















