১০:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভুয়া সনদে খাস জমি বন্দোবস্ত, ক্লিনিকের জমিও দখলের অভিযোগ

আক্কাস আলী খান রাজবাড়ী প্রতিনিধি।
  • প্রকাশ : ০২:৩৬:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 2

আক্কাস আলী খান রাজবাড়ী প্রতিনিধি,

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে ভুয়া ভূমিহীন সনদ তৈরি করে সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত নেওয়া এবং সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিকের জমি দখল করে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অবৈধ বন্দোবস্ত বাতিল, দখলকৃত সরকারি জমি উদ্ধার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের পদমদী কুড়িপাড়া (ঘোনারঘাট) এলাকার ৬ নম্বর পদমদী মৌজার বিএস ১২৭৮১ নম্বর দাগের বিএস ১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত প্রায় ১১ শতাংশ সরকারি খাস জমি রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০১১-১২ অর্থবছরে ওই জমি বন্দোবস্ত নেওয়ার জন্য তৎকালীন পদমদী গুচ্ছগ্রাম জেসিনাথ সোম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল সাত্তার মোল্লা, নবাবপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পদমদী জেসিনাথ সোম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ ফরিদ উদ্দিন শেখ, চরফরিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ আক্কাস আলী, কেতাব দেওয়ান ও সৌদি প্রবাসী আব্দুর রাজ্জাকের নামে ভূমিহীন সনদ তৈরি করা হয়।

পরবর্তীতে প্রভাব খাটিয়ে পাঁচটি বন্দোবস্ত কেসের মাধ্যমে ওই সরকারি খাস জমি নিজেদের নামে বন্দোবস্ত নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। আবেদনে কেস নম্বর হিসেবে ৮১/১১-১২, ৮২/১১-১২, ৮৪/১১-১২, ৮৫/১১-১২ ও ৮৬/১১-১২ উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্তদের একজন কেতাব দেওয়ান সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত নেওয়ার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিকের জমিরও কিছু অংশ দখল করেছেন। সেখানে দোকানঘর নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। এতে ক্লিনিকের পরিবেশ ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানায় নেওয়া এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের জমি দখল করা হলে স্থানীয় জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন, অবৈধভাবে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট বন্দোবস্ত কেস বাতিল এবং দখলকৃত সরকারি জমি উদ্ধার করে সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী বলেন, সরকারি জমি জালিয়াতির মাধ্যমে বন্দোবস্ত নেওয়া এবং কমিউনিটি ক্লিনিকের জায়গা দখলের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন। প্রশাসনের কাছে আমরা সুবিচার প্রত্যাশা করছি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি।

তবে অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তদন্তের পরই অভিযোগগুলোর সত্যতা ও দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

Please Share This Post in Your Social Media

ভুয়া সনদে খাস জমি বন্দোবস্ত, ক্লিনিকের জমিও দখলের অভিযোগ

প্রকাশ : ০২:৩৬:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আক্কাস আলী খান রাজবাড়ী প্রতিনিধি,

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে ভুয়া ভূমিহীন সনদ তৈরি করে সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত নেওয়া এবং সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিকের জমি দখল করে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অবৈধ বন্দোবস্ত বাতিল, দখলকৃত সরকারি জমি উদ্ধার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের পদমদী কুড়িপাড়া (ঘোনারঘাট) এলাকার ৬ নম্বর পদমদী মৌজার বিএস ১২৭৮১ নম্বর দাগের বিএস ১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত প্রায় ১১ শতাংশ সরকারি খাস জমি রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০১১-১২ অর্থবছরে ওই জমি বন্দোবস্ত নেওয়ার জন্য তৎকালীন পদমদী গুচ্ছগ্রাম জেসিনাথ সোম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল সাত্তার মোল্লা, নবাবপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পদমদী জেসিনাথ সোম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ ফরিদ উদ্দিন শেখ, চরফরিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ আক্কাস আলী, কেতাব দেওয়ান ও সৌদি প্রবাসী আব্দুর রাজ্জাকের নামে ভূমিহীন সনদ তৈরি করা হয়।

পরবর্তীতে প্রভাব খাটিয়ে পাঁচটি বন্দোবস্ত কেসের মাধ্যমে ওই সরকারি খাস জমি নিজেদের নামে বন্দোবস্ত নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। আবেদনে কেস নম্বর হিসেবে ৮১/১১-১২, ৮২/১১-১২, ৮৪/১১-১২, ৮৫/১১-১২ ও ৮৬/১১-১২ উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্তদের একজন কেতাব দেওয়ান সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত নেওয়ার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিকের জমিরও কিছু অংশ দখল করেছেন। সেখানে দোকানঘর নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। এতে ক্লিনিকের পরিবেশ ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানায় নেওয়া এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের জমি দখল করা হলে স্থানীয় জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন, অবৈধভাবে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট বন্দোবস্ত কেস বাতিল এবং দখলকৃত সরকারি জমি উদ্ধার করে সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী বলেন, সরকারি জমি জালিয়াতির মাধ্যমে বন্দোবস্ত নেওয়া এবং কমিউনিটি ক্লিনিকের জায়গা দখলের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন। প্রশাসনের কাছে আমরা সুবিচার প্রত্যাশা করছি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি।

তবে অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তদন্তের পরই অভিযোগগুলোর সত্যতা ও দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।