০৯:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিজেলের দাম বাড়ায় কৃষি উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

আক্কাস আলী খান রাজবাড়ী প্রতিনিধি।
  • প্রকাশ : ০১:১০:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 3

আক্কাস আলী খান রাজবাড়ী প্রতিনিধি,

জ্বালানি তেলের বাজারে ডিজেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষি উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন রাজবাড়ীর হাজারো কৃষক। পাঁচ মাসের মধ্যে দুই দফা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সেচ, জমি চাষ, ফসল কাটাসহ পরিবহন ব্যয় বাড়তে পারে বলে মনে করছেন কৃষকরা। তবে চলতি আমন মৌসুমে এর তেমন প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজবাড়ী সদর উপজেলার চন্দনী এলাকার কৃষক সরজিৎ কুমার বলেন, আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা অনেকটাই জ্বালানি-নির্ভর। জমি চাষ থেকে শুরু করে ফসল বাজারজাতকরণ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে ডিজেলচালিত যন্ত্র ও যানবাহন ব্যবহার করা হয়। ফলে ডিজেলের দাম বাড়লে কৃষি উৎপাদন ব্যয়ও বাড়বে।

কৃষক আনিসুর রহমান ও আব্দুর রাজ্জাক শেখ বলেন, পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর ও কম্বাইন হারভেস্টারের মতো কৃষিযন্ত্র ডিজেলচালিত। ফলে জমি প্রস্তুত, চাষাবাদ ও ফসল কাটার প্রতিটি ধাপেই অতিরিক্ত খরচ হবে। পাশাপাশি মাঠ থেকে উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে পরিবহন ব্যয়ও বাড়বে। এতে কৃষক ন্যায্যমূল্য না পেলে লোকসানের মুখে পড়তে পারেন।

কৃষক আব্বাস আলী বলেন, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এক দফা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। আবার সোমবার থেকে লিটারে ২০ টাকা করে দাম বেড়েছে। এভাবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকলে কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে কৃষক চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। তাই কৃষকের বিষয়টিও সরকারকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

কৃষক মকবুল শেখ বলেন, উৎপাদন খরচ বাড়লেও সেই অনুপাতে কৃষক যদি ফসলের দাম না পান, তাহলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। একই সঙ্গে পরিবহন ব্যয় বাড়লে সার, বীজ ও কীটনাশকের দামও বাড়তে পারে। এতে কৃষকের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে।

এদিকে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি আমন মৌসুমে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব তুলনামূলক কম হবে। কারণ আমন ধান মূলত বৃষ্টিনির্ভর হওয়ায় এ সময়ে সেচের প্রয়োজন কম।

রাজবাড়ী সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ জনি খান বলেন, রবি মৌসুমে সেচের চাহিদা বেশি থাকে। বিশেষ করে পেয়াজ ও পাট চাষে সেচের জন্য বেশি ডিজেল প্রয়োজন হয়। তবে বর্তমানে আমন মৌসুম চলছে এবং এ মৌসুমে তেমন সেচের প্রয়োজন হয় না। বর্তমানে অধিকাংশ ধানক্ষেতে পর্যাপ্ত পানি রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, উৎপাদন খরচ কমাতে কৃষকদের সৌরচালিত সেচ পাম্প ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ডিজেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করে এ অঞ্চলের কৃষকদের জন্য কৃষি প্রণোদনা বাড়ানোর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রতন কুমার ঘোষ বলেন, “ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে কৃষির বিভিন্ন পর্যায়ে উৎপাদন খরচ কিছুটা বাড়তে পারে। তবে চলতি আমন মৌসুমে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম হবে। কারণ আমন ধান মূলত বৃষ্টিনির্ভর এবং বর্তমানে অধিকাংশ জমিতে পর্যাপ্ত পানি রয়েছে।

তবে রবি মৌসুমে সেচের প্রয়োজন বেশি হওয়ায় তখন ডিজেলেরব মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কৃষকের উৎপাদন ব্যয়ে পড়তে পারে। কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমাতে সৌরচালিত সেচ পাম্পসহ আধুনিক ও সাশ্রয়ী কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় প্রয়োজনীয় প্রণোদনা ও সরকারি সহায়তা বাড়ানোর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।”

Please Share This Post in Your Social Media

ডিজেলের দাম বাড়ায় কৃষি উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

প্রকাশ : ০১:১০:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আক্কাস আলী খান রাজবাড়ী প্রতিনিধি,

জ্বালানি তেলের বাজারে ডিজেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষি উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন রাজবাড়ীর হাজারো কৃষক। পাঁচ মাসের মধ্যে দুই দফা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সেচ, জমি চাষ, ফসল কাটাসহ পরিবহন ব্যয় বাড়তে পারে বলে মনে করছেন কৃষকরা। তবে চলতি আমন মৌসুমে এর তেমন প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজবাড়ী সদর উপজেলার চন্দনী এলাকার কৃষক সরজিৎ কুমার বলেন, আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা অনেকটাই জ্বালানি-নির্ভর। জমি চাষ থেকে শুরু করে ফসল বাজারজাতকরণ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে ডিজেলচালিত যন্ত্র ও যানবাহন ব্যবহার করা হয়। ফলে ডিজেলের দাম বাড়লে কৃষি উৎপাদন ব্যয়ও বাড়বে।

কৃষক আনিসুর রহমান ও আব্দুর রাজ্জাক শেখ বলেন, পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর ও কম্বাইন হারভেস্টারের মতো কৃষিযন্ত্র ডিজেলচালিত। ফলে জমি প্রস্তুত, চাষাবাদ ও ফসল কাটার প্রতিটি ধাপেই অতিরিক্ত খরচ হবে। পাশাপাশি মাঠ থেকে উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে পরিবহন ব্যয়ও বাড়বে। এতে কৃষক ন্যায্যমূল্য না পেলে লোকসানের মুখে পড়তে পারেন।

কৃষক আব্বাস আলী বলেন, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এক দফা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। আবার সোমবার থেকে লিটারে ২০ টাকা করে দাম বেড়েছে। এভাবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকলে কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে কৃষক চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। তাই কৃষকের বিষয়টিও সরকারকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

কৃষক মকবুল শেখ বলেন, উৎপাদন খরচ বাড়লেও সেই অনুপাতে কৃষক যদি ফসলের দাম না পান, তাহলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। একই সঙ্গে পরিবহন ব্যয় বাড়লে সার, বীজ ও কীটনাশকের দামও বাড়তে পারে। এতে কৃষকের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে।

এদিকে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি আমন মৌসুমে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব তুলনামূলক কম হবে। কারণ আমন ধান মূলত বৃষ্টিনির্ভর হওয়ায় এ সময়ে সেচের প্রয়োজন কম।

রাজবাড়ী সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ জনি খান বলেন, রবি মৌসুমে সেচের চাহিদা বেশি থাকে। বিশেষ করে পেয়াজ ও পাট চাষে সেচের জন্য বেশি ডিজেল প্রয়োজন হয়। তবে বর্তমানে আমন মৌসুম চলছে এবং এ মৌসুমে তেমন সেচের প্রয়োজন হয় না। বর্তমানে অধিকাংশ ধানক্ষেতে পর্যাপ্ত পানি রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, উৎপাদন খরচ কমাতে কৃষকদের সৌরচালিত সেচ পাম্প ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ডিজেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করে এ অঞ্চলের কৃষকদের জন্য কৃষি প্রণোদনা বাড়ানোর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রতন কুমার ঘোষ বলেন, “ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে কৃষির বিভিন্ন পর্যায়ে উৎপাদন খরচ কিছুটা বাড়তে পারে। তবে চলতি আমন মৌসুমে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম হবে। কারণ আমন ধান মূলত বৃষ্টিনির্ভর এবং বর্তমানে অধিকাংশ জমিতে পর্যাপ্ত পানি রয়েছে।

তবে রবি মৌসুমে সেচের প্রয়োজন বেশি হওয়ায় তখন ডিজেলেরব মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কৃষকের উৎপাদন ব্যয়ে পড়তে পারে। কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমাতে সৌরচালিত সেচ পাম্পসহ আধুনিক ও সাশ্রয়ী কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় প্রয়োজনীয় প্রণোদনা ও সরকারি সহায়তা বাড়ানোর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।”