০৮:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাংশায় প্রবাসীর স্ত্রী হত্যা মামলায় এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আক্কাস আলী খান রাজবাড়ী প্রতিনিধি।
  • প্রকাশ : ০১:০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 3

আক্কাস আলী খান রাজবাড়ী প্রতিনিধি,

রাজবাড়ীর পাংশায় কাতারপ্রবাসীর স্ত্রী রুনা খাতুন (৩০) হত্যা মামলায় মিলন শেখ (২৭) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজবাড়ী বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ইউসুফ হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মিলন শেখ পাংশা উপজেলার মুচিদহ খামারডাঙ্গী গ্রামের খলিল শেখের ছেলে। নিহত রুনা খাতুন একই গ্রামের কাতারপ্রবাসী আনিসুর রহমানের স্ত্রী।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৯ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে পড়েন রুনা। রাত দেড়টার দিকে তার ছেলে হুসাইনের কান্নায় মেয়ে সিনহার ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় বিদ্যুতের আলোতে মিলনকে দেখতে পেয়ে সিনহা তার মায়ের কথা জানতে চায়। মিলন তাকে জানায়, তার মা বাড়িতে নেই। পরে সিনহা ভাইকে কোলে নিয়ে মাকে ডাকতে ডাকতে বারান্দায় এলে মিলন তার মুখ চেপে ধরে চিৎকার করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

একপর্যায়ে সিনহার মুখ ছেড়ে দিলে মিলনসহ আরও দুজন দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে সিনহা উঠানে গিয়ে তার মাকে মাটিতে দুই পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। সেখানে রুনা খাতুনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে রুনা খাতুনকে বাড়ির উঠানে ফেলে দুই পা দড়ি দিয়ে বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত একটি রেডমি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনও নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় ২০২৩ সালের ২০ আগস্ট নিহতের বড় ভাই মো. রায়হান বিশ্বাস বাদী হয়ে পাংশা থানায় মিলন শেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

রায়ের পর বাদী রায়হান বিশ্বাস বলেন, ছোট বোনের হত্যাকারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায়ে তিনি সন্তুষ্ট। তবে মামলার অন্য আসামিদেরও সঠিক বিচার প্রত্যাশা করেন তিনি।

অন্যদিকে মিলনের স্ত্রী চম্পা খাতুন দাবি করেন, তার স্বামী নির্দোষ। তিনি বলেন, দুই সন্তান নিয়ে এখন কীভাবে চলবেন তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলেও জানান তিনি।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ নাজমুল হাসান বলেন, ‘আসামি ন্যায়বিচার পাননি। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।’ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) অ্যাডভোকেট আইয়ুব আলী খান বলেন, মামলায় তিন আসামির মধ্যে একজনের রায় বুধবার হয়েছে। অপর দুজনের বিচার শিশু আদালতে চলমান। আদালতের এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।

Please Share This Post in Your Social Media

পাংশায় প্রবাসীর স্ত্রী হত্যা মামলায় এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

প্রকাশ : ০১:০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আক্কাস আলী খান রাজবাড়ী প্রতিনিধি,

রাজবাড়ীর পাংশায় কাতারপ্রবাসীর স্ত্রী রুনা খাতুন (৩০) হত্যা মামলায় মিলন শেখ (২৭) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজবাড়ী বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ইউসুফ হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মিলন শেখ পাংশা উপজেলার মুচিদহ খামারডাঙ্গী গ্রামের খলিল শেখের ছেলে। নিহত রুনা খাতুন একই গ্রামের কাতারপ্রবাসী আনিসুর রহমানের স্ত্রী।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৯ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে পড়েন রুনা। রাত দেড়টার দিকে তার ছেলে হুসাইনের কান্নায় মেয়ে সিনহার ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় বিদ্যুতের আলোতে মিলনকে দেখতে পেয়ে সিনহা তার মায়ের কথা জানতে চায়। মিলন তাকে জানায়, তার মা বাড়িতে নেই। পরে সিনহা ভাইকে কোলে নিয়ে মাকে ডাকতে ডাকতে বারান্দায় এলে মিলন তার মুখ চেপে ধরে চিৎকার করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

একপর্যায়ে সিনহার মুখ ছেড়ে দিলে মিলনসহ আরও দুজন দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে সিনহা উঠানে গিয়ে তার মাকে মাটিতে দুই পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। সেখানে রুনা খাতুনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে রুনা খাতুনকে বাড়ির উঠানে ফেলে দুই পা দড়ি দিয়ে বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত একটি রেডমি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনও নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় ২০২৩ সালের ২০ আগস্ট নিহতের বড় ভাই মো. রায়হান বিশ্বাস বাদী হয়ে পাংশা থানায় মিলন শেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

রায়ের পর বাদী রায়হান বিশ্বাস বলেন, ছোট বোনের হত্যাকারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায়ে তিনি সন্তুষ্ট। তবে মামলার অন্য আসামিদেরও সঠিক বিচার প্রত্যাশা করেন তিনি।

অন্যদিকে মিলনের স্ত্রী চম্পা খাতুন দাবি করেন, তার স্বামী নির্দোষ। তিনি বলেন, দুই সন্তান নিয়ে এখন কীভাবে চলবেন তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলেও জানান তিনি।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ নাজমুল হাসান বলেন, ‘আসামি ন্যায়বিচার পাননি। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।’ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) অ্যাডভোকেট আইয়ুব আলী খান বলেন, মামলায় তিন আসামির মধ্যে একজনের রায় বুধবার হয়েছে। অপর দুজনের বিচার শিশু আদালতে চলমান। আদালতের এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।