ইবনে সিনায় রুশ কিশোরীকে যৌন হয়রানি, ওয়ার্ডবয় গ্রেপ্তার
- প্রকাশ : ০৮:৫৫:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
- / 41
ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রাশিয়ার এক কিশোরী (১৫) যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় হাসপাতালটি এক ওয়ার্ডবয়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আট ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর কল্যাণপুরে ইবনে সিনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। পরে ১৩ ফেব্রুয়ারি ওই কিশোরীর মা মিরপুর মডেল থানায় মামলা করলে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম আবুল কাশেম। তিনি ওই হাসপাতালে কর্মচারী।
বাংলাদেশে একটি প্রকল্পে কর্মরত ওই রুশ কিশোরীর মায়ের অভিযোগ, বগলে ফোড়া হওয়ায় মেয়েকে আট ফেব্রুয়ারি ঢাকায় এনে ওই হাসপাতালে ভর্তি করেন। মেয়ের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন ছিল।
সেদিন কেবিনে এসে একজন চিকিৎসক ও একজন নার্স মেয়ের ফোড়া পরীক্ষার সময় নীল গাউন পরা এক ব্যক্তি ঢুকে দূরে দাঁড়িয়ে সব দেখেন। তবে চিকিৎসক ও নার্স তাকে চলে যেতে বলেননি। চিকিৎসক ও নার্স চলে যাওয়ার প্রায় ১০ মিনিট পর নীল গাউন পরা আবুল কাশেম একা কেবিনে আসেন। চিকিৎসক না হলেও তিনি মেয়ের কাপড় খুলে ফোড়ার জায়গাটি আবার দেখতে চান।
এতে মেয়ে বিব্রতবোধ করলেও তিনি কাপড় উন্মুক্ত করে শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দিয়ে দেখেন। ওই রাতে কাশেম পাঁচ বার নানা অজুহাতে ফোড়ার জায়গায় হাত দেন ও দেখতে চান।
এজাহারে ওই রুশ নারী আরও বলেন, সর্বশেষ ভোরের দিকে কাশেম আরেকবার কেবিনে এসে গুগল অনুবাদের সাহায্যে তাকে (কিশোরীর মা) বাইরে যেতে বলেন এবং মেয়ে ব্যথা পেলে বা প্রয়োজনে ডাকবেন বলে জানান।
তখন তিনি অসৎ উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে চিৎকার করে সবাইকে ডাকেন। কাশেম তার হাত শক্ত করে ধরায় তিনি ব্যথা পান। দুজন নার্স এসে সবকিছু দেখলেও কিছু বলেননি। উল্টো তাকে (কাশেম) ক্ষমা করে দিতে বলেন। পরে তিনি হাসপাতালের লোকজনকে ডেকে ঘটনা জানান এবং লিখিত অভিযোগ দেন। পরে তিনি মেয়েকে হাসপাতালটি থেকে নিয়ে বনানীর একটি ক্লিনিকে ভর্তি করেন এবং সেখানেই তার অস্ত্রোপচার হয়। সে এখনো চিকিৎসাধীন। তার মেয়ে এখনও আঁতকে ওঠে এবং মাঝে মাঝে কাঁদে।
এ ব্যাপারে ইবনে সিনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইনচার্জ নূরে আলম সবুজ সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালের এক কর্মচারী ওই কাজ করেছেন। তার ব্যক্তিগত বিষয়ের দায় আমাদের নয়। যেহেতু মামলা হয়েছে, এখন বিষয়টি পুলিশ দেখবে।
সাংবাদিক আশফাক ও স্ত্রীর জামিন মেলেনিসাংবাদিক আশফাক ও স্ত্রীর জামিন মেলেনি
মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাসির হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি এখন কারাগারে আছেন। সার্বিক ঘটনায় ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোনো গাফিলতি আছে কি না, তা-ও দেখা হচ্ছে।




















