১০:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভূমি জোনিং ও সুরক্ষা আইন, ২০২৪’-এর খসড়া উন্মুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক | সারাবাংলাটোয়েন্টিফোরনিউজ.কম
  • প্রকাশ : ১১:৩৩:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / 68

ভূমির অপরিকল্পিত ব্যবহার রোধ এবং সুরক্ষায় ‘ভূমি জোনিং ও সুরক্ষা আইন, ২০২৪’ নামে নতুন একটি আইনের খসড়া প্রস্তাব প্রণয়ন করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়।
শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) আইন মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিক পোর্টালে আইনের খসড়া আপলোড করা হয়েছে। ই–মেইল কিংবা চিঠির মাধ্যমে এ আইনের বিষয়ে মতামত জানানো যাবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, আবাসন বাড়িঘর তৈরি, উন্নয়নমূলক কাজ, শিল্পকারখানা স্থাপন, রাস্তাঘাট নির্মাণ এবং প্রাকৃতিক কারণে প্রতিনিয়ত ভূমির প্রকৃতি ও শ্রেণিগত ব্যবহারের পরিবর্তন হচ্ছে। আবার দেশের বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষিজমি, বনভূমি, টিলা, পাহাড় ও জলাশয় বিনষ্ট হয়ে খাদ্যশস্য উৎপাদনের নিমিত্তে কৃষিজমির পরিমাণ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে এবং পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এ ধরনের জরুরি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উল্লেখিত আইনটি জরুরি হয়ে পড়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ আইনের উদ্দেশ্য হচ্ছে, অপরিকল্পিতভাবে নগরায়ণ, আবাসন, বাড়িঘর তৈরি, উন্নয়নমূলক কার্যক্রম, শিল্পকারখানা ও রাস্তাঘাট নির্মাণ রোধ করা; ভূমির শ্রেণি বা প্রকৃতি ধরে রেখে পরিবেশ রক্ষা ও খাদ্যশস্য উৎপাদন অব্যাহত রাখা। এর পাশাপাশি কৃষিজমি, বনভূমি, টিলা, পাহাড়, নদী, খালবিল ও জলাশয় সুরক্ষাসহ ভূমির পরিকল্পিত ও সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা। এবং ভূমির ব্যবহার নিশ্চিত করে পরিকল্পিত জোনিংয়ের মাধ্যমে ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহারে রাষ্ট্রীয় অনুশাসন নিশ্চিত করা। এ আইনের মূল বিধানগুলোর মধ্যে রয়েছে ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, ভূসংস্থান এবং উদ্দিষ্ট ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে জমিকে স্বতন্ত্র অঞ্চলে নিখুঁতভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্থল মূল্যায়নের মাধ্যমে, সরকার ডিজিটাল ল্যান্ড জোনিং ম্যাপ তৈরি করছে। ল্যান্ড জোনিং ম্যাপ তৈরি সংশ্লিষ্ট ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতায় চলমান প্রকল্পটির নাম ‘মৌজা ও প্লটভিত্তিক জাতীয় ডিজিটাল ভূমি জোনিং প্রকল্প।
আইনের খসড়ায় ভূমি জোনিংয়ের জন্য ১০টি শ্রেণিবিন্যাসের প্রস্তাব করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে আবাদি, আবাসিক, বাণিজ্যিক, জলাভূমি, নদী, বন, পাহাড়, রাস্তা, শিল্প ও ধর্মীয় স্থান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ আইনে নির্ধারিত ভূমি ব্যবহারবিধি লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রয়েছে। দণ্ডের মধ্যে জরিমানা থেকে শুরু করে কারাদণ্ড পর্যন্ত রয়েছে, যা শ্রেণিবহির্ভূতভাবে ভূমির অবৈধ ব্যবহার এবং অবৈধ ভূমি দখল রোধে সরকারের অঙ্গীকার। এ আইনের অধীনে অনধিক দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক পাঁচ লাখ টাকার অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

ভূমি জোনিং ও সুরক্ষা আইন, ২০২৪’-এর খসড়া উন্মুক্ত

প্রকাশ : ১১:৩৩:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

ভূমির অপরিকল্পিত ব্যবহার রোধ এবং সুরক্ষায় ‘ভূমি জোনিং ও সুরক্ষা আইন, ২০২৪’ নামে নতুন একটি আইনের খসড়া প্রস্তাব প্রণয়ন করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়।
শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) আইন মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিক পোর্টালে আইনের খসড়া আপলোড করা হয়েছে। ই–মেইল কিংবা চিঠির মাধ্যমে এ আইনের বিষয়ে মতামত জানানো যাবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, আবাসন বাড়িঘর তৈরি, উন্নয়নমূলক কাজ, শিল্পকারখানা স্থাপন, রাস্তাঘাট নির্মাণ এবং প্রাকৃতিক কারণে প্রতিনিয়ত ভূমির প্রকৃতি ও শ্রেণিগত ব্যবহারের পরিবর্তন হচ্ছে। আবার দেশের বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষিজমি, বনভূমি, টিলা, পাহাড় ও জলাশয় বিনষ্ট হয়ে খাদ্যশস্য উৎপাদনের নিমিত্তে কৃষিজমির পরিমাণ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে এবং পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এ ধরনের জরুরি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উল্লেখিত আইনটি জরুরি হয়ে পড়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ আইনের উদ্দেশ্য হচ্ছে, অপরিকল্পিতভাবে নগরায়ণ, আবাসন, বাড়িঘর তৈরি, উন্নয়নমূলক কার্যক্রম, শিল্পকারখানা ও রাস্তাঘাট নির্মাণ রোধ করা; ভূমির শ্রেণি বা প্রকৃতি ধরে রেখে পরিবেশ রক্ষা ও খাদ্যশস্য উৎপাদন অব্যাহত রাখা। এর পাশাপাশি কৃষিজমি, বনভূমি, টিলা, পাহাড়, নদী, খালবিল ও জলাশয় সুরক্ষাসহ ভূমির পরিকল্পিত ও সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা। এবং ভূমির ব্যবহার নিশ্চিত করে পরিকল্পিত জোনিংয়ের মাধ্যমে ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহারে রাষ্ট্রীয় অনুশাসন নিশ্চিত করা। এ আইনের মূল বিধানগুলোর মধ্যে রয়েছে ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, ভূসংস্থান এবং উদ্দিষ্ট ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে জমিকে স্বতন্ত্র অঞ্চলে নিখুঁতভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্থল মূল্যায়নের মাধ্যমে, সরকার ডিজিটাল ল্যান্ড জোনিং ম্যাপ তৈরি করছে। ল্যান্ড জোনিং ম্যাপ তৈরি সংশ্লিষ্ট ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতায় চলমান প্রকল্পটির নাম ‘মৌজা ও প্লটভিত্তিক জাতীয় ডিজিটাল ভূমি জোনিং প্রকল্প।
আইনের খসড়ায় ভূমি জোনিংয়ের জন্য ১০টি শ্রেণিবিন্যাসের প্রস্তাব করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে আবাদি, আবাসিক, বাণিজ্যিক, জলাভূমি, নদী, বন, পাহাড়, রাস্তা, শিল্প ও ধর্মীয় স্থান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ আইনে নির্ধারিত ভূমি ব্যবহারবিধি লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রয়েছে। দণ্ডের মধ্যে জরিমানা থেকে শুরু করে কারাদণ্ড পর্যন্ত রয়েছে, যা শ্রেণিবহির্ভূতভাবে ভূমির অবৈধ ব্যবহার এবং অবৈধ ভূমি দখল রোধে সরকারের অঙ্গীকার। এ আইনের অধীনে অনধিক দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক পাঁচ লাখ টাকার অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।