১০:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মন্ত্রী সভায় কুমিল্লার চমক! গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে তিন মন্ত্রী, জেলাজুড়ে আনন্দের বন্যা।

হৃদয় চন্দ্র দাস, কুমিল্লা:
  • প্রকাশ : ০১:৪৭:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 14

জাতীয় সাপ্তাহিক অন্যায়ের প্রতিবাদ।

হৃদয় চন্দ্র দাস, কুমিল্লা:

​ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী নতুন সরকার গঠনে বড় ধরনের চমক দেখিয়েছে কুমিল্লা জেলা। নবগঠিত মন্ত্রিসভায় কুমিল্লা থেকে তিনজন প্রভাবশালী নেতা পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে স্থান পাওয়ায় জেলাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবের আমেজ। রাজনীতি সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ মনে করছেন, একসঙ্গে তিনজন মন্ত্রী পাওয়ার বিষয়টি জাতীয় রাজনীতিতে কুমিল্লার গুরুত্ব বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও কুমিল্লার প্রবীণ রাজনীতিবিদ হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন এবার মন্ত্রিসভায় বড় চমক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তাকে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য—এই তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

​রাজনীতির মাঠে ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত ইয়াছিন এবারের নির্বাচনে ধানের শীষের মনোনয়ন পাননি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেও দলীয় চেয়ারপার্সনের নির্দেশে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। তবে নিজের প্রার্থিতা বিসর্জন দিয়ে তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার সমন্বয়ক হিসেবে ছয়টি আসনে দলীয় প্রচারণায় দিনরাত পরিশ্রম করেন। অতীতে তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্ববায়ক এবং কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। দলের প্রতি তার এই আনুগত্য ও ত্যাগের মূল্যায়ন হিসেবেই তাকে একসঙ্গে তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন তৃনমূলের নেতাকর্মীরা।

কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্য জাকারিয়া তাহের সুমন পেয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে এই মন্ত্রণালয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ ও উদ্যমী নেতা হিসেবে পরিচিত সুমনকে এই দায়িত্ব দেওয়ায় বরুড়াবাসীসহ পুরো জেলায় উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, তার নেতৃত্বে কুমিল্লাসহ সারা দেশে দৃশ্যমান উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসন থেকে ছয়বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ দায়িত্ব পেয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি মুরাদনগরের মানুষের আস্থাভাজন হয়ে উঠেছেন। ছয়বারের এমপি হলেও এবারই প্রথম তিনি পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন। বর্ষীয়ান এই নেতাকে মন্ত্রিত্ব দেওয়ায় মুরাদনগরের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হলো।

মন্ত্রিসভায় কুমিল্লার এই নজিরবিহীন সাফল্যের খবরে জেলাজুড়ে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিলের খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও অভিনন্দনের ঝড় বইছে। সাধারণ ভোটার ও দলীয় কর্মীরা বলছেন, কুমিল্লার উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় এই তিন মন্ত্রী বড় ভূমিকা রাখবেন।
​কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের সাবেক এক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক জানান, “কুমিল্লা থেকে একসঙ্গে তিনজন পূর্ণ মন্ত্রী পাওয়া বিরল ঘটনা।

কৃষি, গৃহায়ন এবং ধর্মের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলো কুমিল্লার নেতাদের হাতে থাকায় আমরা আশাবাদী যে, এবার জেলার অবহেলিত দিকগুলোর উন্নয়ন হবে এবং জাতীয় পর্যায়ে কুমিল্লার প্রভাব আরও সুসংহত হবে।”​নতুন মন্ত্রীদের হাত ধরে কুমিল্লা উন্নয়নের মহাসড়কে আরও এগিয়ে যাবে—এমনটাই এখন জেলাবাসীর প্রত্যাশা।

Please Share This Post in Your Social Media

মন্ত্রী সভায় কুমিল্লার চমক! গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে তিন মন্ত্রী, জেলাজুড়ে আনন্দের বন্যা।

প্রকাশ : ০১:৪৭:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাতীয় সাপ্তাহিক অন্যায়ের প্রতিবাদ।

হৃদয় চন্দ্র দাস, কুমিল্লা:

​ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী নতুন সরকার গঠনে বড় ধরনের চমক দেখিয়েছে কুমিল্লা জেলা। নবগঠিত মন্ত্রিসভায় কুমিল্লা থেকে তিনজন প্রভাবশালী নেতা পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে স্থান পাওয়ায় জেলাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবের আমেজ। রাজনীতি সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ মনে করছেন, একসঙ্গে তিনজন মন্ত্রী পাওয়ার বিষয়টি জাতীয় রাজনীতিতে কুমিল্লার গুরুত্ব বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও কুমিল্লার প্রবীণ রাজনীতিবিদ হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন এবার মন্ত্রিসভায় বড় চমক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তাকে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য—এই তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

​রাজনীতির মাঠে ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত ইয়াছিন এবারের নির্বাচনে ধানের শীষের মনোনয়ন পাননি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেও দলীয় চেয়ারপার্সনের নির্দেশে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। তবে নিজের প্রার্থিতা বিসর্জন দিয়ে তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার সমন্বয়ক হিসেবে ছয়টি আসনে দলীয় প্রচারণায় দিনরাত পরিশ্রম করেন। অতীতে তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্ববায়ক এবং কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। দলের প্রতি তার এই আনুগত্য ও ত্যাগের মূল্যায়ন হিসেবেই তাকে একসঙ্গে তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন তৃনমূলের নেতাকর্মীরা।

কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্য জাকারিয়া তাহের সুমন পেয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে এই মন্ত্রণালয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ ও উদ্যমী নেতা হিসেবে পরিচিত সুমনকে এই দায়িত্ব দেওয়ায় বরুড়াবাসীসহ পুরো জেলায় উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, তার নেতৃত্বে কুমিল্লাসহ সারা দেশে দৃশ্যমান উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসন থেকে ছয়বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ দায়িত্ব পেয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি মুরাদনগরের মানুষের আস্থাভাজন হয়ে উঠেছেন। ছয়বারের এমপি হলেও এবারই প্রথম তিনি পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন। বর্ষীয়ান এই নেতাকে মন্ত্রিত্ব দেওয়ায় মুরাদনগরের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হলো।

মন্ত্রিসভায় কুমিল্লার এই নজিরবিহীন সাফল্যের খবরে জেলাজুড়ে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিলের খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও অভিনন্দনের ঝড় বইছে। সাধারণ ভোটার ও দলীয় কর্মীরা বলছেন, কুমিল্লার উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় এই তিন মন্ত্রী বড় ভূমিকা রাখবেন।
​কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের সাবেক এক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক জানান, “কুমিল্লা থেকে একসঙ্গে তিনজন পূর্ণ মন্ত্রী পাওয়া বিরল ঘটনা।

কৃষি, গৃহায়ন এবং ধর্মের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলো কুমিল্লার নেতাদের হাতে থাকায় আমরা আশাবাদী যে, এবার জেলার অবহেলিত দিকগুলোর উন্নয়ন হবে এবং জাতীয় পর্যায়ে কুমিল্লার প্রভাব আরও সুসংহত হবে।”​নতুন মন্ত্রীদের হাত ধরে কুমিল্লা উন্নয়নের মহাসড়কে আরও এগিয়ে যাবে—এমনটাই এখন জেলাবাসীর প্রত্যাশা।