০১:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশজুড়ে চলমান মৃদু শৈত্যপ্রবাহ থাকছে আরও কিছু দিন

নিজেস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
  • প্রকাশ : ০১:৫৬:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৪
  • / 104

দেশজুড়ে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। সঙ্গে আছে ঘন কুয়াশা। ভোর ও গভীর রাতে তাপমাত্রা কমে এলে শুরু হয় কুয়াশা বৃষ্টি। আছে কনকনে ঠান্ডা বাতাসও। সূর্যেরও দেখা মেলে না। আকাশ থাকে গোমড়ামুখো হয়ে। এমন আবহাওয়া থেকে সহসা মুক্তি মিলছে না বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
শনিবার থেকে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা রাজধানী। সূর্যের দেখা মেলেনি রোববারও। এর মধ্যে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আর উত্তরের হাওয়া শীতের অনুভূতি তীব্র করে তুলেছে। পৌষের শেষভাগে এমন শীত আর কুয়াশাচ্ছন্ন দিন আরও কিছু থাকবে। সপ্তাহের শেষে বৃষ্টির পর পরিস্থিতি সহনীয় হবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
রোববার সকালে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আজিজুর রহমান বলেন, এরকম আবহাওয়া আরও চার-পাঁচ দিন থাকবে। বৃহস্পতি-শুক্রবারে কিছুটা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির পরে কুয়াশার ভাব কমবে। তাপমাত্রাও কমে শীত কিছুটা বাড়বে। ঢাকায় শৈত্যপ্রবাহ না থাকলেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
কনকন ঠান্ডায় রাজধানীতে বিরাজ করছে জবুথবু অবস্থা। মানুষের চলাফেরায় সমস্যা হচ্ছে। শিশু ও বয়স্করা কাতর হয়ে পড়ছেন শীতে। ঘন কুয়াশার কারণে উত্তরাঞ্চলগামী রাতের ট্রেনগুলোর শিডিউল বিপর্যয় ঘটায় বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। তবে বিমান চলাচল ছিলো স্বাভাবিক।
রোববার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে উত্তরাঞ্চলগামী ট্রেন রংপুর এক্সপ্রেস বিমানবন্দর স্টেশনে পৌঁছার কথা ছিলো। তবে সেটি প্লাটফর্মে এসে পৌঁছায় সকাল পৌনে ১১টায়। ফলে বিমানবন্দর স্টেশানে তৈরি হয় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। এমন দুর্ভোগ কয়েকদিন ধরেই চলছে, জানালেন অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা।
রেল কর্তৃপক্ষ বলছেন, গত দুদিন ধরে উত্তরাঞ্চলে ঘন কুয়াশা থাকায় কম গতিতে চলছে রাতের ট্রেন। সেই সঙ্গে বাড়তি নিরাপত্তার কারণে কমলাপুর পৌঁছাতে প্রতিটি ট্রেনেরই কমপক্ষে দুই ঘণ্টার শিডিউল বিপর্যয় চলছে।
স্টেশনের কর্তারা জানালেন, কুয়াশাময় চলাচলে যাত্রীদের নিরাপত্তাই সবচেয়ে আসল কথা।
শীত বাড়ায় কষ্ট বেড়েছে শ্রম ও কর্মজীবী মানুষের। অফিসগামী মানুষকেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে অনেক বেশি। শিক্ষার্থীদেরও একই অবস্থা। আর ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্তরা ভিড় করছেন সব হাসপাতালে। সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে রোটা ভাইরাসের প্রদুর্ভাব।
সকালে রাজধানীর জিরো পয়েন্ট এলাকায় রিকশাচালক মকবুল হোসেন বলেন, শীতের কষ্ট গায়ে সইলেও পেটে সয় না। একদিন কাজে না বের হইলে পেট চালানো মুশকিল। এমন শীতে রিকশা চালাইতেও হাত পা অবশ হয়ে আসে। গরিব হয়ে আছি বিপদে; আমাদের শীতও আটকায় না, পেটও মানে না।
রাজধানীর হাইকোর্ট মাজার এলাকায় রাস্তার পাশে শুয়েছিলেন বায়েজিদ নামের একজন। তিনি জানান, মাঝেমধ্যে বিত্তবানরা দুই একটা কম্বল দিয়ে যান। সেগুলো মুড়িয়েই কোনোভাবেই শীত নিবারণ করার চেষ্টা করেন তারা। তবে এখন যে শীত পড়ছে এসব কম্বলে তা কমাতে পারে না।
এ সময়ে যতটা সম্ভব ঘরের ভেতর থাকা এবং শরীরকে সব সময় গরম রাখার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি সব সময় গরম খাবার খাওয়া, গরম পানি পান করার কথা বলছেন তারা। বাসা-বাড়ির জানাল অল্প খোলা রাখা, ধুলা-বালির সংস্পর্শ এড়াতে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শও দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
রোববার সকাল ছয়টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি এ মৌসুমে সর্বনিম্ন ছিলো। শুক্রবার রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার ছিলো ১৩.৩ ডিগ্রি।
১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারির আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং এটি কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগে সাময়িকভাবে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
এ সময় সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। দেশের অনেক জায়গায় দিনে ঠান্ডা পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে। এই সময়ের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা কিছু কিছু জায়গায় থেকে প্রশমিত হতে পারে।
সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। সোমবার ঢাকায় সূর্যাস্ত ভোর ছয়টা ৪৪ মিনিটে এবং ঢাকায় সূর্যোদয় সন্ধ্যা পাঁচটা ৩২ মিনিটে। এদিন সর্বনিম্ম তাপমাত্রা ছিল দিনাজপুরে আট দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর সর্বোচ্চ ছিল টেকনাফে ২৭ দশমিক এক ডিগ্রি সেলসিয়াস।

Please Share This Post in Your Social Media

দেশজুড়ে চলমান মৃদু শৈত্যপ্রবাহ থাকছে আরও কিছু দিন

প্রকাশ : ০১:৫৬:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৪

দেশজুড়ে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। সঙ্গে আছে ঘন কুয়াশা। ভোর ও গভীর রাতে তাপমাত্রা কমে এলে শুরু হয় কুয়াশা বৃষ্টি। আছে কনকনে ঠান্ডা বাতাসও। সূর্যেরও দেখা মেলে না। আকাশ থাকে গোমড়ামুখো হয়ে। এমন আবহাওয়া থেকে সহসা মুক্তি মিলছে না বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
শনিবার থেকে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা রাজধানী। সূর্যের দেখা মেলেনি রোববারও। এর মধ্যে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আর উত্তরের হাওয়া শীতের অনুভূতি তীব্র করে তুলেছে। পৌষের শেষভাগে এমন শীত আর কুয়াশাচ্ছন্ন দিন আরও কিছু থাকবে। সপ্তাহের শেষে বৃষ্টির পর পরিস্থিতি সহনীয় হবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
রোববার সকালে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আজিজুর রহমান বলেন, এরকম আবহাওয়া আরও চার-পাঁচ দিন থাকবে। বৃহস্পতি-শুক্রবারে কিছুটা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির পরে কুয়াশার ভাব কমবে। তাপমাত্রাও কমে শীত কিছুটা বাড়বে। ঢাকায় শৈত্যপ্রবাহ না থাকলেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
কনকন ঠান্ডায় রাজধানীতে বিরাজ করছে জবুথবু অবস্থা। মানুষের চলাফেরায় সমস্যা হচ্ছে। শিশু ও বয়স্করা কাতর হয়ে পড়ছেন শীতে। ঘন কুয়াশার কারণে উত্তরাঞ্চলগামী রাতের ট্রেনগুলোর শিডিউল বিপর্যয় ঘটায় বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। তবে বিমান চলাচল ছিলো স্বাভাবিক।
রোববার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে উত্তরাঞ্চলগামী ট্রেন রংপুর এক্সপ্রেস বিমানবন্দর স্টেশনে পৌঁছার কথা ছিলো। তবে সেটি প্লাটফর্মে এসে পৌঁছায় সকাল পৌনে ১১টায়। ফলে বিমানবন্দর স্টেশানে তৈরি হয় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। এমন দুর্ভোগ কয়েকদিন ধরেই চলছে, জানালেন অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা।
রেল কর্তৃপক্ষ বলছেন, গত দুদিন ধরে উত্তরাঞ্চলে ঘন কুয়াশা থাকায় কম গতিতে চলছে রাতের ট্রেন। সেই সঙ্গে বাড়তি নিরাপত্তার কারণে কমলাপুর পৌঁছাতে প্রতিটি ট্রেনেরই কমপক্ষে দুই ঘণ্টার শিডিউল বিপর্যয় চলছে।
স্টেশনের কর্তারা জানালেন, কুয়াশাময় চলাচলে যাত্রীদের নিরাপত্তাই সবচেয়ে আসল কথা।
শীত বাড়ায় কষ্ট বেড়েছে শ্রম ও কর্মজীবী মানুষের। অফিসগামী মানুষকেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে অনেক বেশি। শিক্ষার্থীদেরও একই অবস্থা। আর ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্তরা ভিড় করছেন সব হাসপাতালে। সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে রোটা ভাইরাসের প্রদুর্ভাব।
সকালে রাজধানীর জিরো পয়েন্ট এলাকায় রিকশাচালক মকবুল হোসেন বলেন, শীতের কষ্ট গায়ে সইলেও পেটে সয় না। একদিন কাজে না বের হইলে পেট চালানো মুশকিল। এমন শীতে রিকশা চালাইতেও হাত পা অবশ হয়ে আসে। গরিব হয়ে আছি বিপদে; আমাদের শীতও আটকায় না, পেটও মানে না।
রাজধানীর হাইকোর্ট মাজার এলাকায় রাস্তার পাশে শুয়েছিলেন বায়েজিদ নামের একজন। তিনি জানান, মাঝেমধ্যে বিত্তবানরা দুই একটা কম্বল দিয়ে যান। সেগুলো মুড়িয়েই কোনোভাবেই শীত নিবারণ করার চেষ্টা করেন তারা। তবে এখন যে শীত পড়ছে এসব কম্বলে তা কমাতে পারে না।
এ সময়ে যতটা সম্ভব ঘরের ভেতর থাকা এবং শরীরকে সব সময় গরম রাখার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি সব সময় গরম খাবার খাওয়া, গরম পানি পান করার কথা বলছেন তারা। বাসা-বাড়ির জানাল অল্প খোলা রাখা, ধুলা-বালির সংস্পর্শ এড়াতে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শও দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
রোববার সকাল ছয়টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি এ মৌসুমে সর্বনিম্ন ছিলো। শুক্রবার রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার ছিলো ১৩.৩ ডিগ্রি।
১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারির আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং এটি কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগে সাময়িকভাবে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
এ সময় সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। দেশের অনেক জায়গায় দিনে ঠান্ডা পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে। এই সময়ের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা কিছু কিছু জায়গায় থেকে প্রশমিত হতে পারে।
সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। সোমবার ঢাকায় সূর্যাস্ত ভোর ছয়টা ৪৪ মিনিটে এবং ঢাকায় সূর্যোদয় সন্ধ্যা পাঁচটা ৩২ মিনিটে। এদিন সর্বনিম্ম তাপমাত্রা ছিল দিনাজপুরে আট দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর সর্বোচ্চ ছিল টেকনাফে ২৭ দশমিক এক ডিগ্রি সেলসিয়াস।