০১:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালিকানাধীন জায়গার জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণে আওয়ামী লীগে নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ।

জেলা প্রতিনিধি-গোপালগঞ্জ।
  • প্রকাশ : ০১:৫৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • / 9

জাতীয় সাপ্তাহিক অন্যায়ের প্রতিবাদ।

জেলা প্রতিনিধি-গোপালগঞ্জ।

অবৈধ ভাবে জোর করে রাস্তা নির্মাণে বাধা দিলে নেতা রিয়াজুল হক কোমল প্রতিপক্ষকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। জেলার মুকসুদপুর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ঝুটিগ্রাম পূর্ব পাড়ায় মালিকানাধীন জায়গার উপর দিয়া জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণ করে লাভবান হতে চাইছেন আওয়ামী লীগ নেতা রিয়াজুল হক কমল। তিনি বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি অলিউল হক হিরু মিয়ার ছেলে।

জায়গার মালিক জিল্লুর রহমান ভুট্টো বলেন, পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগে সরকারের আমলে গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি অ্যাড. আতিয়ার রহমানের আপন ভাগনে ও বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রিয়াজুল হক কমল ঝুটিগ্রাম দাখিল মাদ্রাসা হতে জোরপূর্বক আমার জায়গার উপর দিয়ে নিজ পিতা এবং সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অলিউল হক হিরু মিয়ার বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ করে।

তখন আমি রাস্তা নির্মাণ কাজে বাধা দিলে, রিয়াজুল হক,কমল ও তার ভাই কাজলসহ পরিবারের সদস্যরা আমাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে। এক পর্যায়ে শরীকদের উপস্থিতি, চাপ ও পরামর্শে রিয়াজুল হক কমল ও আমি মৌখিকভাবে এওয়াজ বদলের মাধ্যমে রাস্তা নির্মাণে সম্মত হই। মৌখিক এওজ বদলের শর্ত মোতাবেক, দাখিল মাদ্রাসা হতে অলিউল হক হিরু মিয়ার বাড়ী পর্যন্ত উত্তর পাশ দিয়ে রাস্তা নির্মাণের জন্য আমি প্রয়োজন মতো জায়গা ছেড়ে দেবো এবং পশ্চিম পাশ দিয়ে রাস্তা বা অন্য কোনো স্থাপনা নির্মাণ করার জন্য রিয়াজুল হক কোনো জায়গা ছেড়ে দিতে বাধ্য থাকবে।

শর্ত মোতাবেক সে সময় আমি রাস্তা নির্মাণের জন্য আমার মালিকানাধীন ঝুটিগ্রাম মৌজার ৫৪৫ নং খতিয়ানভুক্ত ৭৬০ দাগের কমপক্ষে ১০০ হাত দৈর্ঘ্য ও দুই হাত প্রশস্ত জায়গা ছেড়ে দিলেও, রিয়াজুল হক কমল তার জায়গা ছাড়তে চাইছে না। অনেক দেনদরবার করেও রিয়াজুল হক কমলকে এওয়াজ বদলের শর্ত মানানো সম্ভব হয় নাই। এদিকে জানা গেছে,আওয়ামী লীগে নেতা কমল এওয়াজ বদলের শর্ত না মানায় গত ২৭ মার্চ তারিখে জিল্লুর রহমান ভুট্টো বসত বাড়ীর উত্তর পাশে নিজ জায়গা পুনরুদ্ধার কল্পে দখল নিতে গেলে কমল গং বাধা প্রদান করে।

এ ঘটনার পর রিয়াজুল হক কমল ও জিল্লুর রহমান ভুট্টো মুকসুদপুর থানায় পালটা পাল্টি অভিযোগ করেন। থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসল তথ্য জানতে পেরে তারা উভয় পক্ষকে এওয়াজ বদলের শর্ত মানতে অনুরোধ করে। তবে রিয়াজুল হক কমল কোনো শর্ত মানতে আগ্রহী নন বলে সবাইকে সাফ জানিয়ে দেন। এ ব্যাপারে জানার জন্য রিয়াজুল হক কমলের সাথে বারবার আলাপ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। জায়গা নিয়ে সমস্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে জায়গার মালিক জিল্লুর রহমান আরও বলেন, আমার পিতা বেঁচে নাই।

মা ঢাকায় অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন। আমার একমাত্র ভাই বিদেশে থাকেন। এ অবস্থায় আমাকে একা পেয়ে কমল গং বিভিন্নভাবে হয়রানি করে। আমার খালু মরহুম এম. মনসুর আলী জীবদ্দশায় ২২ বছর গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালনকালে আমি তার একনিষ্ঠ কর্মী ছিলাম। এখনও আমি বিএনপির একজন কর্মী। এ কারণে আওয়ামী লীগ নেতা কমল আমাকে বিগত সময়ে বারবার লাঞ্ছিত ও হয়রানি করেছে ক্ষমতার অপব্যবহার করে।

জায়গা দখল করে রাস্তা নির্মাণে বাধা দিলে এক পর্যায়ে সে শরীকদের এনে আমাকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। পরে শরীকদের চাপে এবং কমল গংদের উপর্যুপরি হুমকিতে ভীত হয়ে এওয়াজ বদলের মৌখিক শর্তে জায়গা ছাড়তে রাজি হই আমি। কিন্তু রাস্তা নির্মান কাজ শেষ হওয়ার পর কমল এওয়াজ বদলের শর্ত মানতে আগ্রহ প্রকাশ না করায় আমার বিশেষ ক্ষতি সাধন হয়েছে। গত নভেম্বর মাসে রিয়াজুল হক কমল, তার ভাই কাজল, স্ত্রী শাহেলা শালু,বোন শিল্পী ও রুহী এবং আত্মীয় তুলসী মিলে আমাকে লাঞ্ছিত করে।

সে সময় আমার ইতালি প্রবাসী বড়ো ভাই বাংলাদেশে এসে আলোচনা সাপেক্ষে সমস্যার সমাধান করার প্রস্তাব দিলেও, কমল আলোচনা সভায় উপস্থিত হন নাই। গত ২৭ মার্চ তারিখে, কমল ও তার দোসররা আমার জায়গার উপর নির্মিত রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। এরপর আমি মুকসুদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।

বিষয়টি নিয়ে বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কার্যক্রমহীন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির মোল্লার সাথে আলাপ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা আছে। রিয়াজুল হক কমল আত্মীয় সূত্রে আমার ভাতিজা। তবে তাকে অনুরোধ করলেও সে আমার কোনো কথা শোনে না। মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনের নিকট সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি জিল্লুর রহমান ভুট্টোর নিকট থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মালিকানাধীন জমিতে রাস্তা বা কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে এওয়াজ বদলের শর্ত থাকলে তা উভয় পক্ষের মেনে চলা উচিত।

Please Share This Post in Your Social Media

মালিকানাধীন জায়গার জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণে আওয়ামী লীগে নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ।

প্রকাশ : ০১:৫৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় সাপ্তাহিক অন্যায়ের প্রতিবাদ।

জেলা প্রতিনিধি-গোপালগঞ্জ।

অবৈধ ভাবে জোর করে রাস্তা নির্মাণে বাধা দিলে নেতা রিয়াজুল হক কোমল প্রতিপক্ষকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। জেলার মুকসুদপুর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ঝুটিগ্রাম পূর্ব পাড়ায় মালিকানাধীন জায়গার উপর দিয়া জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণ করে লাভবান হতে চাইছেন আওয়ামী লীগ নেতা রিয়াজুল হক কমল। তিনি বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি অলিউল হক হিরু মিয়ার ছেলে।

জায়গার মালিক জিল্লুর রহমান ভুট্টো বলেন, পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগে সরকারের আমলে গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি অ্যাড. আতিয়ার রহমানের আপন ভাগনে ও বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রিয়াজুল হক কমল ঝুটিগ্রাম দাখিল মাদ্রাসা হতে জোরপূর্বক আমার জায়গার উপর দিয়ে নিজ পিতা এবং সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অলিউল হক হিরু মিয়ার বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ করে।

তখন আমি রাস্তা নির্মাণ কাজে বাধা দিলে, রিয়াজুল হক,কমল ও তার ভাই কাজলসহ পরিবারের সদস্যরা আমাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে। এক পর্যায়ে শরীকদের উপস্থিতি, চাপ ও পরামর্শে রিয়াজুল হক কমল ও আমি মৌখিকভাবে এওয়াজ বদলের মাধ্যমে রাস্তা নির্মাণে সম্মত হই। মৌখিক এওজ বদলের শর্ত মোতাবেক, দাখিল মাদ্রাসা হতে অলিউল হক হিরু মিয়ার বাড়ী পর্যন্ত উত্তর পাশ দিয়ে রাস্তা নির্মাণের জন্য আমি প্রয়োজন মতো জায়গা ছেড়ে দেবো এবং পশ্চিম পাশ দিয়ে রাস্তা বা অন্য কোনো স্থাপনা নির্মাণ করার জন্য রিয়াজুল হক কোনো জায়গা ছেড়ে দিতে বাধ্য থাকবে।

শর্ত মোতাবেক সে সময় আমি রাস্তা নির্মাণের জন্য আমার মালিকানাধীন ঝুটিগ্রাম মৌজার ৫৪৫ নং খতিয়ানভুক্ত ৭৬০ দাগের কমপক্ষে ১০০ হাত দৈর্ঘ্য ও দুই হাত প্রশস্ত জায়গা ছেড়ে দিলেও, রিয়াজুল হক কমল তার জায়গা ছাড়তে চাইছে না। অনেক দেনদরবার করেও রিয়াজুল হক কমলকে এওয়াজ বদলের শর্ত মানানো সম্ভব হয় নাই। এদিকে জানা গেছে,আওয়ামী লীগে নেতা কমল এওয়াজ বদলের শর্ত না মানায় গত ২৭ মার্চ তারিখে জিল্লুর রহমান ভুট্টো বসত বাড়ীর উত্তর পাশে নিজ জায়গা পুনরুদ্ধার কল্পে দখল নিতে গেলে কমল গং বাধা প্রদান করে।

এ ঘটনার পর রিয়াজুল হক কমল ও জিল্লুর রহমান ভুট্টো মুকসুদপুর থানায় পালটা পাল্টি অভিযোগ করেন। থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসল তথ্য জানতে পেরে তারা উভয় পক্ষকে এওয়াজ বদলের শর্ত মানতে অনুরোধ করে। তবে রিয়াজুল হক কমল কোনো শর্ত মানতে আগ্রহী নন বলে সবাইকে সাফ জানিয়ে দেন। এ ব্যাপারে জানার জন্য রিয়াজুল হক কমলের সাথে বারবার আলাপ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। জায়গা নিয়ে সমস্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে জায়গার মালিক জিল্লুর রহমান আরও বলেন, আমার পিতা বেঁচে নাই।

মা ঢাকায় অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন। আমার একমাত্র ভাই বিদেশে থাকেন। এ অবস্থায় আমাকে একা পেয়ে কমল গং বিভিন্নভাবে হয়রানি করে। আমার খালু মরহুম এম. মনসুর আলী জীবদ্দশায় ২২ বছর গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালনকালে আমি তার একনিষ্ঠ কর্মী ছিলাম। এখনও আমি বিএনপির একজন কর্মী। এ কারণে আওয়ামী লীগ নেতা কমল আমাকে বিগত সময়ে বারবার লাঞ্ছিত ও হয়রানি করেছে ক্ষমতার অপব্যবহার করে।

জায়গা দখল করে রাস্তা নির্মাণে বাধা দিলে এক পর্যায়ে সে শরীকদের এনে আমাকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। পরে শরীকদের চাপে এবং কমল গংদের উপর্যুপরি হুমকিতে ভীত হয়ে এওয়াজ বদলের মৌখিক শর্তে জায়গা ছাড়তে রাজি হই আমি। কিন্তু রাস্তা নির্মান কাজ শেষ হওয়ার পর কমল এওয়াজ বদলের শর্ত মানতে আগ্রহ প্রকাশ না করায় আমার বিশেষ ক্ষতি সাধন হয়েছে। গত নভেম্বর মাসে রিয়াজুল হক কমল, তার ভাই কাজল, স্ত্রী শাহেলা শালু,বোন শিল্পী ও রুহী এবং আত্মীয় তুলসী মিলে আমাকে লাঞ্ছিত করে।

সে সময় আমার ইতালি প্রবাসী বড়ো ভাই বাংলাদেশে এসে আলোচনা সাপেক্ষে সমস্যার সমাধান করার প্রস্তাব দিলেও, কমল আলোচনা সভায় উপস্থিত হন নাই। গত ২৭ মার্চ তারিখে, কমল ও তার দোসররা আমার জায়গার উপর নির্মিত রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। এরপর আমি মুকসুদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।

বিষয়টি নিয়ে বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কার্যক্রমহীন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির মোল্লার সাথে আলাপ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা আছে। রিয়াজুল হক কমল আত্মীয় সূত্রে আমার ভাতিজা। তবে তাকে অনুরোধ করলেও সে আমার কোনো কথা শোনে না। মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনের নিকট সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি জিল্লুর রহমান ভুট্টোর নিকট থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মালিকানাধীন জমিতে রাস্তা বা কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে এওয়াজ বদলের শর্ত থাকলে তা উভয় পক্ষের মেনে চলা উচিত।