শিশু রামিসা হত্যা: মাদক, জুয়া ও নৈতিক অবক্ষয়ের অন্ধকারে ডুবে থাকা সোহেল রানার ভয়ঙ্কর উত্থান
- প্রকাশ : ০২:৩৮:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
- / 8
আখতারুজ্জামান সোহাগ :
রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া সোহেল রানাকে ঘিরে বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরেই মাদক, অনলাইন জুয়া ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিল সে। ঋণের বোঝা, পারিবারিক কলহ ও সামাজিক অবক্ষয়ের ধারাবাহিকতায় একসময় সে গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় এসে আত্মগোপন করে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সোহেল রানার বাড়ি নাটোরের মহেশচন্দ্রপুর এলাকায়। সেখানে সে রিকশা মেরামতের কাজ করত। প্রায় এক দশক আগে তার প্রথম বিয়ে হয় এবং সেই সংসারে একটি সন্তানও রয়েছে। তবে ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ ওঠার পর প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ ঘটে। পরে প্রায় তিন বছর আগে পাশের গ্রামে দ্বিতীয় বিয়ে করে সে।
স্থানীয়রা জানান, মাদকাসক্তি ও অনলাইন জুয়ার কারণে ধীরে ধীরে বেপরোয়া হয়ে ওঠে সোহেল। জুয়ার ঋণে জর্জরিত হয়ে বিভিন্ন মানুষের কাছে দেনায় পড়ে যায় সে। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরাও তাকে প্রত্যাখ্যান করেন। সোহেলের ছোট বোন জলি বেগম জানান, “মাদক, জুয়া ও নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ায় প্রায় তিন বছর আগে পরিবার থেকেই তাকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘদিন তার সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ ছিল না।”
পরিবার ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সোহেল ঢাকায় এসে মিরপুরের পল্লবীতে একটি ফ্ল্যাটে সাবলেট হিসেবে থাকতে শুরু করে স্ত্রীকে নিয়ে। জানা গেছে, একই গ্রামের সাদ্দাম ও হানিফ নামের দুই ব্যক্তি তার থাকা ও কাজের ব্যবস্থা করে দেন। তাদের সুপারিশ করেছিলেন কামাল নামের আরেক গ্রামবাসী।
ফ্ল্যাটটির কেয়ারটেকার মনির জানান, পরিচিতদের অনুরোধে প্রথমে নিজের গ্যারেজে মিস্ত্রি হিসেবে কাজ দিয়েছিলেন সোহেলকে। কিন্তু মাত্র ১৫ দিনের মাথায় কাজে অনিয়ম ও ফাঁকিবাজির কারণে তাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরে কেয়ারটেকারের অনুরোধেই ভাড়াটিয়া মাসুদ তাদের বাসায় সোহেলকে সাবলেট দেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পল্লবীতে ওঠার আগেও বিহারি ক্যাম্প এলাকার একটি বাসায় সাবলেট থাকত সোহেল ও তার স্ত্রী। কিন্তু সেখানে নিয়মিত ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সেবনের কারণে বাড়ির মালিক অতিষ্ঠ হয়ে তাদের বাসা ছাড়তে বাধ্য করেন। ওই বাড়ির মালিক বলেন, “দুই মাস থাকার সময় তার ইয়াবাসক্তি ও অস্বাভাবিক আচরণে আমরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলাম।”
পুলিশের দাবি, গ্রাম থেকে শুরু করে রাজধানী পর্যন্ত সর্বত্রই অপরাধপ্রবণ ও মাদকাসক্ত জীবনযাপনে নিমজ্জিত ছিল সোহেল রানা। সেই অন্ধকার জীবনযাত্রার ভয়াবহ পরিণতি হিসেবে পল্লবীতে নিষ্পাপ শিশু রামিসা নৃশংসতার শিকার হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা শিশু হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।










