০৮:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বালিয়াকান্দিতে শারদীয় দূর্গা উৎসবে ১৫৮টি মন্ডবে হবে দূর্গা পূজা

আক্কাস আলী খান রাজবাড়ী প্রতিনিধি।
  • প্রকাশ : ০২:০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 2

আক্কাস আলী খান রাজবাড়ী, প্রতিনিধি,

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের বড় উৎসব শারদীয় দূর্গা উৎসবে এবছেরে ১৫৮টি মন্ডবে দূর্গা পুজা অনুষ্ঠিত হবে।

উপজেলা প্রশাসনের হিসাব মতে জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলায় এবার ১৫৮টি পূজা মন্ডবে শারদীয় দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। ইতি মধ্যে মন্ডবগুলোতে প্রতিমা তৈরী কাজ পুরোদমে চলছে। পূজোকে ঘিরে মন্ডব কমিটির নের্তৃবৃন্দরা পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা সহ সাজসজ্জার কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে।

ইতিমধ্যে উপজেলার ১৫৮টি পূজা মন্ডব কর্তৃপক্ষদের নিয়ে নির্বিগ্নে পূজা সম্পন্ন করতে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ প্রস্তুতিমুলক আলোচনা সভা করেছেন।

ওই প্রস্তুতি সভায় সরকারি নির্দ্দেশনার পাশাপাশি পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে সকল মন্ডবে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, নিরাপত্তা তদারকির জন্য সেচ্ছাসেবক কমিটি গঠন, উচ্চ শব্দে মাইক না বাজানো, নামাজের সময় ঢাক-বাদ্যযন্ত্র ধীরে বাজানো সহ বেশ কিছু পরামর্শ দেয়া হয়।

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক নীতিশ চন্দ্র মন্ডল বলেন, “এবার বালিয়াকান্দি উপজেলায় ১৫৮টি মন্ডবে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজাকে ঘিরে ইতিমধ্যে প্রতিটি মন্ডবে প্রতিমা তৈরি, সাজসজ্জা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে যাতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে পারেন, সে বিষয়ে আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।”

পরিষদের সদস্য সচিব সহদেব বিশ্বাস বলেন, “পূজা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে প্রতিটি মন্ডব কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য মন্ডবে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও স্বেচ্ছাসেবক কমিটি গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উচ্চ শব্দে মাইক না বাজানো এবং নামাজের সময় ঢাক-ঢোল ও অন্যান্য বাদ্যযন্ত্রের শব্দ কম রাখার জন্য বলা হয়েছে। পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সৌহার্দ্য বজায় রেখে এবারও বালিয়াকান্দিতে শারদীয় দুর্গাপূজা সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশাবাদী।”

এরমধ্যে ইসলামপুর ইউনিয়নে ১০টা মন্ডবে, বহরপুর ইউনিয়নে ২৫টা মন্ডবে, নবাবপুর ইউনিয়নে ২০টা মন্ডবে, বালিয়াকান্দি সদর ইউনিয়নে ২১টা মন্ডবে, জামালপুর ইউনিয়নে ২৮টা মন্ডবে, জঙ্গল ইউনিয়নে ৪৯টা মন্ডবে ও নারুয়া ইউনিয়নে ৫টা মন্ডবে দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
পূজাকে ঘিরে ইতিমধ্যে মন্ডবে মন্ডবে বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রব তালুকদার এর নির্দ্দেশনায় বালিয়াকান্দি থানা পুলিশ মন্ডবগুলো পরিদর্শন সহ খোঁজ খবর রাখছেন।

উপজেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক নের্তৃবৃন্দ সহ সকলের সহযোগীতায় এবার ধর্মীয় ভাবগাম্ভির্য বজায় রেখে নির্বিগ্নে পূজা সম্পন্ন করতে সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রব তালুকদার বলেন, “শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলার প্রতিটি পূজামন্ডবের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন মন্ডব পরিদর্শন করে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। পূজা চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা ও নজরদারি থাকবে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।”

Please Share This Post in Your Social Media

বালিয়াকান্দিতে শারদীয় দূর্গা উৎসবে ১৫৮টি মন্ডবে হবে দূর্গা পূজা

প্রকাশ : ০২:০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

আক্কাস আলী খান রাজবাড়ী, প্রতিনিধি,

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের বড় উৎসব শারদীয় দূর্গা উৎসবে এবছেরে ১৫৮টি মন্ডবে দূর্গা পুজা অনুষ্ঠিত হবে।

উপজেলা প্রশাসনের হিসাব মতে জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলায় এবার ১৫৮টি পূজা মন্ডবে শারদীয় দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। ইতি মধ্যে মন্ডবগুলোতে প্রতিমা তৈরী কাজ পুরোদমে চলছে। পূজোকে ঘিরে মন্ডব কমিটির নের্তৃবৃন্দরা পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা সহ সাজসজ্জার কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে।

ইতিমধ্যে উপজেলার ১৫৮টি পূজা মন্ডব কর্তৃপক্ষদের নিয়ে নির্বিগ্নে পূজা সম্পন্ন করতে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ প্রস্তুতিমুলক আলোচনা সভা করেছেন।

ওই প্রস্তুতি সভায় সরকারি নির্দ্দেশনার পাশাপাশি পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে সকল মন্ডবে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, নিরাপত্তা তদারকির জন্য সেচ্ছাসেবক কমিটি গঠন, উচ্চ শব্দে মাইক না বাজানো, নামাজের সময় ঢাক-বাদ্যযন্ত্র ধীরে বাজানো সহ বেশ কিছু পরামর্শ দেয়া হয়।

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক নীতিশ চন্দ্র মন্ডল বলেন, “এবার বালিয়াকান্দি উপজেলায় ১৫৮টি মন্ডবে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজাকে ঘিরে ইতিমধ্যে প্রতিটি মন্ডবে প্রতিমা তৈরি, সাজসজ্জা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে যাতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে পারেন, সে বিষয়ে আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।”

পরিষদের সদস্য সচিব সহদেব বিশ্বাস বলেন, “পূজা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে প্রতিটি মন্ডব কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য মন্ডবে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও স্বেচ্ছাসেবক কমিটি গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উচ্চ শব্দে মাইক না বাজানো এবং নামাজের সময় ঢাক-ঢোল ও অন্যান্য বাদ্যযন্ত্রের শব্দ কম রাখার জন্য বলা হয়েছে। পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সৌহার্দ্য বজায় রেখে এবারও বালিয়াকান্দিতে শারদীয় দুর্গাপূজা সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশাবাদী।”

এরমধ্যে ইসলামপুর ইউনিয়নে ১০টা মন্ডবে, বহরপুর ইউনিয়নে ২৫টা মন্ডবে, নবাবপুর ইউনিয়নে ২০টা মন্ডবে, বালিয়াকান্দি সদর ইউনিয়নে ২১টা মন্ডবে, জামালপুর ইউনিয়নে ২৮টা মন্ডবে, জঙ্গল ইউনিয়নে ৪৯টা মন্ডবে ও নারুয়া ইউনিয়নে ৫টা মন্ডবে দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
পূজাকে ঘিরে ইতিমধ্যে মন্ডবে মন্ডবে বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রব তালুকদার এর নির্দ্দেশনায় বালিয়াকান্দি থানা পুলিশ মন্ডবগুলো পরিদর্শন সহ খোঁজ খবর রাখছেন।

উপজেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক নের্তৃবৃন্দ সহ সকলের সহযোগীতায় এবার ধর্মীয় ভাবগাম্ভির্য বজায় রেখে নির্বিগ্নে পূজা সম্পন্ন করতে সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রব তালুকদার বলেন, “শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলার প্রতিটি পূজামন্ডবের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন মন্ডব পরিদর্শন করে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। পূজা চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা ও নজরদারি থাকবে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।”