০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পশ্চিমাদের ইচ্ছেমতো সব আর চলতে দেওয়া যাবে না: কিউবার প্রেসিডেন্ট

সারাবাংলা২৪নিউজ ডেস্ক,ঢাকা
  • প্রকাশ : ০৩:০৮:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • / 92
আন্তজার্তিক ডেস্ক, 
একেকটি দেশ বেশ সমৃদ্ধশালী। এ কারণে নিজেদের ইচ্ছেমতো কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্বকে চালাচ্ছে তাদের হাতের ইশারায়। কিন্তু আর বেশি দিন এই নিয়ম চলতে দেওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ কানেল। তিনি বলেন, বিশ্ব ব্যবস্থার নিয়মের খেলাটা এখনই ঘুরিয়ে দেওয়া উচিত গ্লোবাল সাউথের নেতাদের।
কিউবার রাজধানী হাভানায় জি-৭৭ প্লাস চীন সম্মেলনের উদ্বোধনের সময় মিগুয়েল দিয়াজ কানেল বলেন, ‘আজ উন্নয়নশীল দেশগুলো অপমানজনক অসম বাণিজ্য থেকে শুরু করে বিধ্বংসী জলবায়ু পরিবর্তন পর্যন্ত বহুমাত্রিক সংকটের প্রধান শিকার। সব সময়ই নিজেদের ইচ্ছেমতো বিশ্ব পরিচালনা করেছে পশ্চিমারা। এবার সাউথের নেতাদের উচিত এই খেলাটা ঘুরিয়ে দেওয়া। পশ্চিমাদের ইচ্ছেমতো আর সব চলতে দেওয়া যাবে না।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার অনলাইনে বলা হয়েছে, উদীয়মান দেশগুলোর জনসংখ্যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ। নেতারা বলছেন, এমন এক সময় এই সম্মেলন হচ্ছে, যখন ইউক্রেন যুদ্ধকে ইস্যু বানিয়ে পশ্চিমারা বিশ্বকে ভাগ করে ফেলেছে, জলবায়ু ও বিশ্বের আর্থিক কাঠামো হুমকির মুখে পড়েছে।
গত শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩) জি-৭৭ প্লাস চীন জোটের সম্মেলন শুরু হয়েছে। এতে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার ৩০ জনের বেশি রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এ সম্মেলনে বলেন, জি-৭৭ এর উদ্যোগে বিশ্বের অনেক দেশে দারিদ্র কমানো গেছে। এরপরও বিশ্বে এখনো রয়ে গেছে ক্ষুধা, মুদ্রাস্ফীতি, জলবায়ু বিপর্যয় ও ঋণ। মিলছে না সহায়তা। কথা একদম পরিষ্কার, উন্নয়নশীল দেশগুলোকে এগিয়ে নেওয়া যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, সংকটে পড়া দেশগুলোর অর্থনীতি এগিয়ে নিয়ে যেতে বিশ্ববাসীকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
জি-৭৭ জোটের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, ১৯৬৪ সালে গ্লোবাল সাউথের ৭৭টি দেশ তাদের সম্মিলিত অর্থনৈতিক স্বার্থকে প্রকাশ ও প্রচার করতে এবং যৌথ আলোচনার পরিধি বাড়াতে ব্লকটি প্রতিষ্ঠা করেছিল।
এবারের সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা, ভেনেজুয়েলার নিকোলাস মাদুরো, কলম্বিয়ার গুস্তাভো পেত্রো, আর্জেন্টিনার আলবার্তো ফার্নান্দেজ, ফিলিস্তিনি নেতা মাহমুদ আব্বাস, অ্যাঙ্গোলার জোয়াও লরেঙ্কো এবং মোজাম্বিকের প্রেসিডেন্ট ফলিপে নুসি।
সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির নেতা লি শি। তিনি বলেন, তাঁর দেশ সবসময় সাউথ-সাউথ সহযোগিতাকেই বেশি প্রাধান্য দিয়ে এসেছে। ফার্নান্দেজ বলেন, করোনা ভাইরাসই দেখিয়ে দিয়ে গেছে বিশ্বে কতটা অসমতা রয়েছে। করোনার ৯০ ভাগ টিকা ১০টি দেশের হাতে রয়েছে।
শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এই বৈঠক শেষ হওয়ার কথা। কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ বলেন, ক্রমবর্ধমান একচেটিয়া, অন্যায্য, অন্যায় ও লুণ্ঠনকারী বিশ্ব ব্যবস্থা পরিবর্তনের অধিকারের বার্তা নিয়েই এবারের সম্মেলন শেষ হবে। এরই মধ্যে একটি খসড়া প্রকাশ পেয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলো এখন অনেক বাধা এবং একটি নতুন অর্থনৈতিক বিশ্ব ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বানের মুখোমুখি।
নিউইয়র্কে কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হচ্ছে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন। এর আগেই হলো জি৭৭ প্লাস চীন সম্মেলন।

Please Share This Post in Your Social Media

পশ্চিমাদের ইচ্ছেমতো সব আর চলতে দেওয়া যাবে না: কিউবার প্রেসিডেন্ট

প্রকাশ : ০৩:০৮:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩
আন্তজার্তিক ডেস্ক, 
একেকটি দেশ বেশ সমৃদ্ধশালী। এ কারণে নিজেদের ইচ্ছেমতো কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্বকে চালাচ্ছে তাদের হাতের ইশারায়। কিন্তু আর বেশি দিন এই নিয়ম চলতে দেওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ কানেল। তিনি বলেন, বিশ্ব ব্যবস্থার নিয়মের খেলাটা এখনই ঘুরিয়ে দেওয়া উচিত গ্লোবাল সাউথের নেতাদের।
কিউবার রাজধানী হাভানায় জি-৭৭ প্লাস চীন সম্মেলনের উদ্বোধনের সময় মিগুয়েল দিয়াজ কানেল বলেন, ‘আজ উন্নয়নশীল দেশগুলো অপমানজনক অসম বাণিজ্য থেকে শুরু করে বিধ্বংসী জলবায়ু পরিবর্তন পর্যন্ত বহুমাত্রিক সংকটের প্রধান শিকার। সব সময়ই নিজেদের ইচ্ছেমতো বিশ্ব পরিচালনা করেছে পশ্চিমারা। এবার সাউথের নেতাদের উচিত এই খেলাটা ঘুরিয়ে দেওয়া। পশ্চিমাদের ইচ্ছেমতো আর সব চলতে দেওয়া যাবে না।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার অনলাইনে বলা হয়েছে, উদীয়মান দেশগুলোর জনসংখ্যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ। নেতারা বলছেন, এমন এক সময় এই সম্মেলন হচ্ছে, যখন ইউক্রেন যুদ্ধকে ইস্যু বানিয়ে পশ্চিমারা বিশ্বকে ভাগ করে ফেলেছে, জলবায়ু ও বিশ্বের আর্থিক কাঠামো হুমকির মুখে পড়েছে।
গত শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩) জি-৭৭ প্লাস চীন জোটের সম্মেলন শুরু হয়েছে। এতে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার ৩০ জনের বেশি রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এ সম্মেলনে বলেন, জি-৭৭ এর উদ্যোগে বিশ্বের অনেক দেশে দারিদ্র কমানো গেছে। এরপরও বিশ্বে এখনো রয়ে গেছে ক্ষুধা, মুদ্রাস্ফীতি, জলবায়ু বিপর্যয় ও ঋণ। মিলছে না সহায়তা। কথা একদম পরিষ্কার, উন্নয়নশীল দেশগুলোকে এগিয়ে নেওয়া যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, সংকটে পড়া দেশগুলোর অর্থনীতি এগিয়ে নিয়ে যেতে বিশ্ববাসীকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
জি-৭৭ জোটের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, ১৯৬৪ সালে গ্লোবাল সাউথের ৭৭টি দেশ তাদের সম্মিলিত অর্থনৈতিক স্বার্থকে প্রকাশ ও প্রচার করতে এবং যৌথ আলোচনার পরিধি বাড়াতে ব্লকটি প্রতিষ্ঠা করেছিল।
এবারের সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা, ভেনেজুয়েলার নিকোলাস মাদুরো, কলম্বিয়ার গুস্তাভো পেত্রো, আর্জেন্টিনার আলবার্তো ফার্নান্দেজ, ফিলিস্তিনি নেতা মাহমুদ আব্বাস, অ্যাঙ্গোলার জোয়াও লরেঙ্কো এবং মোজাম্বিকের প্রেসিডেন্ট ফলিপে নুসি।
সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির নেতা লি শি। তিনি বলেন, তাঁর দেশ সবসময় সাউথ-সাউথ সহযোগিতাকেই বেশি প্রাধান্য দিয়ে এসেছে। ফার্নান্দেজ বলেন, করোনা ভাইরাসই দেখিয়ে দিয়ে গেছে বিশ্বে কতটা অসমতা রয়েছে। করোনার ৯০ ভাগ টিকা ১০টি দেশের হাতে রয়েছে।
শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এই বৈঠক শেষ হওয়ার কথা। কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ বলেন, ক্রমবর্ধমান একচেটিয়া, অন্যায্য, অন্যায় ও লুণ্ঠনকারী বিশ্ব ব্যবস্থা পরিবর্তনের অধিকারের বার্তা নিয়েই এবারের সম্মেলন শেষ হবে। এরই মধ্যে একটি খসড়া প্রকাশ পেয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলো এখন অনেক বাধা এবং একটি নতুন অর্থনৈতিক বিশ্ব ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বানের মুখোমুখি।
নিউইয়র্কে কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হচ্ছে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন। এর আগেই হলো জি৭৭ প্লাস চীন সম্মেলন।