১১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
এসএসসি রেজাল্টের পর একজন সচেতন অভিভাবক হিসেবে আপনার কর্তব্য
সারাবাংলা২৪নিউজ ডেস্ক,ঢাকা
- প্রকাশ : ০২:৪৩:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২০
- / 92
শফিকুল ইসলাম
আপনার ছেলে/মেয়ে,ভাই/বোন,ভাগিনা/ভাগিনী বা অন্য জিপিএ ৫ পায় নি অথবা ফেল করেছে।
এমতাবস্থায় আপনি তাকে বাড়িতে উঠতে দিবেন না,তোর মতো ছেলে/মেয়ে……..দরকার নাই,ওমুক এতো ভাল করেছে আর তুই এমন করেছিস, তোকে আর পড়াশোনাই করাবো না,তুই বাড়ি থেকে বের হ, গার্মেন্টস এ যা, সারা বছর এই করছো সেই করছো আর এখন এর চেয়ে ভাল আর কি হবে?, পড়াশোনার বালাই নাই,সারাদিন বান্ধব নিয়ে আড্ডা,ইত্যাদি নানা ভাষায় আমরা গালাগালি করে থাকেন বা তাদের উপর হাতও তুলে থাকেন।
এতে কি লাভ??
দেখুন এই ওরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকে।খুব লজ্জা হয় তার। সে তার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছে কিন্তু কোনো একটা কারনে হয়তো জিপিএ ৫ পাই নি । এতে করে সে খুব ভেঙে পড়ে। তার অন্তর দুঃখ-কষ্টে চৌচির হয়ে যায়। আজ সে নিজেকে নিজে পচন্ড অপরাধী বোধ করছে। । সেটা যে জিপিএ ৫ পাইনি সেও আবার যে ফেল করেছে বা আশানুরূপ রেজাল্ট পায় নি। যদি পড়াশোনা না করে থাকে তাহলে শুধরানোর শপথ সে মনে মনে করে ফেলে।মানসিক অনুশোচনা সে করতে থাকে।
এমতাবস্থায় যখন আবার পরিবার থেকে এরকম চাপ দেয়া হয় তখন সে আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এসবের প্রভাব বিভিন্নভাবে পরিলক্ষিত হয়। যেমনঃ
-তারা আত্মহত্যার মত পথ বেঁচে নেয়।
-বাড়ি ছেড়ে চলে যায়
-পড়াশোনার প্রতি অনীহা (যেহেতু এত পরিশ্রম করে আশানুরূপ ফল পায় নি)
-বিভিন্ন মাদকদ্রব্যে আসক্তি।
-তার মধ্যে হতাশা বেড়ে যায়।
আসলে এভাবে গালাগালি করে বা রাগ দেখিয়ে আপনি উপরের উল্লেখিত ফল ছাড়া আর কিছুই পাবেন না।
একজন সচেতন গার্ডিন হিসেবে এই মুহুর্তে আপনার কর্তব্যঃ
এটাই একমাত্র সময় যা আপনার ছেলে /মেয়েকে ভিন্ন পথে পা বাড়াতে সাহায্য করবে।
এই মুহুর্তে আপনি তার পাশে দাঁড়ান, তাকে উৎসাহ দিন। এটা একটা এক্সিডেন্ট ছাড়া আর কিছুই নয়,তুমি সামনে অনেক ভাল করবে, ব্যর্থতাই সাফল্যের চাবিকাঠি এসব বলুন, ব্যর্থতার পরে সফলতা পেয়েছে এরকম কয়েকটা গল্প শুনান৷
এখন বলতে পারেন এসব করলে কি লাভ হবে?
দেখুন এই মুহুর্তে আপনার একটু ভালবাসা আপনার ছেলে/মেয়ের জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে।
যেমন সে যদি পড়াশোনা না করে থাকে আপনার এ উৎসাহে নতুন করে ভাল করে পড়ার প্রতিজ্ঞা করবে। আগে কম পড়াশোনা করলে এখন বেশি পড়াশোনা করার মনমানসিকতা তৈরী হবে। কারন সে ভাববে আমি এতো খারাপ করেছি এর পরেও আমাকে এরকম উৎসাহ দেয়া হচ্ছে সুতরাং আমাকে ভাল রেজাল্ট করতেই হবে।
এতে করে তার জীবনটাই পাল্টে যেতে পারে। সুতরাং এই মুহুর্তে আপনি আপনার সন্তানের পাশে দাঁড়ান। তাদেরকে আরও ভালবাসুন, তার ব্যর্থতার কারন গুলো জানার চেষ্টা করুন,সেখানে আপনার কি ঘাটতি ছিল সেটাও খুঁজে বের করুন।
এখন আসি, জিপিএ ৫ পেতেই হবে???
আমি আমার কথাই বলি, আমি জিপিএ ৫ পাই নি কোন পরিক্ষায়।
এসএসসি জিপিএ ৪.৫০ আর এইচএসসি জিপিএ ৪.৪২। আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ,জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছিলাম তাও মাত্র ২ মাস পড়াশোনা করে যেখানে সবাই পড়েছে ৪ মাস।ঢাবিতে পাশ করেছিলাম (২৬৩০তম) যেখানে শত শত জিপিএ ৫ রা ফেল করেছে।
আর অনার্সে ভর্তি হওয়ার পর এসএসসি ৫ শুধু আলমারিতেই ভাল মানাবে।
তাই আপনার সন্তান কতটুকু জানে,বেসিক বিষয়ের প্রতি তার কতটুকু দক্ষতা সেদিকে খেয়াল করুন।
আমি আবার বলছি, এই মুহুর্তে আপনি আপনার সন্তানের পাশে দাঁড়ান।











