১১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
রাবি শিক্ষার্থীদের ঈদ ভাবনা-২
সারাবাংলা২৪নিউজ ডেস্ক,ঢাকা
- প্রকাশ : ০২:৩৬:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২০
- / 93
রাবিয়ানদের কিছু কথা
কোভিড-১৯ যা করোনা ভাইরাস নামে পরিচিত – সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমের শিরোনামে প্রাধান্য বিস্তার করেছে।
করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার আশংকায় দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ও।কোয়ারেন্টাইনে থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভুতির কিছু কথা জানিয়েছেন, সে বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরছেন আমাদের রাবি প্রতিবেদক সাদ্দাম হুসাইন
রবিউল ইসলাম
ইসলামের ইতিহাস বিভাগ, রাবি
প্রকৃতির কাছে মানুষ বড় অসহায়।
করোনায় তা স্পষ্ট।
অনেক দিন থেকে বাড়িতে বন্দী হয়ে আছি। বাড়িতে, বলতে গেলে একটা একঘেয়ে বৈচিত্র্যহীন জীবন পার করছি।
এর বাইরে আমার আর কোন জগৎ নাই। সমস্ত কামনা- বাসনা এটুকু তে কেন্দ্রীভূত।
পরিবার বলতে আমি আর মা। মা একটি বেসরকারী ক্লিনিকয়ের নার্স। উনি বাড়িতে মাঝে মাঝে আসেন। মা কে নিয়ে খুব টেনশনে থাকি। মা কে হারাবো না তো? কিন্তু দেশের এমন পরিস্থিতিতে তো উনাকে কাজ করতেই হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে যেহেতু রান্না করে খেতাম, তাই বাড়িতে একা রান্না করে খাইতে সমস্যা হচ্ছে না।
অসুবিধে একাকিত্বে। একাকিত্ব কাটানোর জন্য, মন কে ভালো রাখার জন্য গপ্প, উপন্যাস পড়ি, মুভি দেখি।
বিকাল হলে গ্রামের ফাঁকা রাস্তা ধরে হাঁটতে হাঁটতে চলে যাই অনেকদূর।
আর রাতে চুপচাপ পুকুর পাড়ে বসে থাকা।
এভাবে আর কত দিন? ক্যাম্পাস কে খুব মনে পড়ে। ফিরতে চাই মতিহারের সবুজ চত্বরে।
ইসরাত জাহান তামান্না
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, রাবি
প্রকৃতি আজ ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। প্রকৃতির এই ভয়ঙ্কর রূপে বেঁচে থাকাটা একটা আশ্চর্য লাগছে।
গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ১৮ মার্চ থেকে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়।হঠাৎ করেই এই ভাবে সব কিছু থমকে যায় যে,সবাই বাসায় চলে আসি।
অনেক স্বপ্ন পরিশ্রম করে স্বপ্নের রাবিকে নিজের ক্যাম্পাস হিসেবে পেয়ে গর্বিত। গত দুই মাস যাবত গৃহবন্দী, শুরুতে যখন শুনেছিলাম করোনা ভাইরাসের জন্য সবকিছু লকডাউন হবে বিষয় নিয়ে তখন সিরিয়াস ছিলাম না । ভেবেছিলাম সবকিছু তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে প্রকৃতি দেখে খুব অসহায় লাগছে, জানিনা কবে ঠিক হবে। মাত্র দুই মাসে ক্যাম্পাস জীবনের অভিজ্ঞতা খুব সীমিত । তবে ভালোবাসি রাবিকে, প্রানের ক্যাম্পাসকে। বলতে চাই You are always in my thoughts
Even When I am not thinking.
যাই হোক, এবার আসি lockdown জীবন-যাপনে এ। আমরা লকডাউন জীবন – যাপনে অভ্যস্ত না। শুরুতে নিজেকে মানিয়ে নিতে অনেক কষ্ট হয়েছে। নানা বাহানা দিয়ে বাহিরে যেতে চেয়েছি। কিছুদিন পর যখন বুঝতে পেরেছি করোনার ভয়াবহতা, এখন সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব পালন করছি,এবং আশে পাশের মানুষদের সচেতন করার চেষ্টা করেছি। শিক্ষা গ্রহনের কারণে দীর্ঘদিন বাইরে থাকার ফলে তেমন বাসায় সময় দেয়া হয়ে উঠেনি।
কিন্তু এই করোনা কালীন সময়ে
পরিবারের সাথে ভালো সময় কাটাচ্ছি, নানাকাজে বাবা-মা কে সহয়তা করছি। ভাই-বোন আড্ডা দিচ্ছি, খুনসুটি লেগেই আছে। ছোটবেলা থেকেই মাছ ধরার প্রিয় শখ, অবসর সময়ে মাছ ধরি, গল্প-উপন্যাসের বই পড়ছি। ফেসবুকে বন্ধুদের সাথে আড্ডাও হচ্ছে । আশা রাখি খুব অল্প সময়েই ফিরবো সবুজ মতিহার চত্বরে।
রাত পোহালে সকাল হবে
নতুন সপ্ন উঁকি দিবে
ডাকবে পাখি উঠবে সুরুজ
পরবে কাজের ধুম৷
সুস্থ শহর ব্যস্ত জীবন
শুরু হবে নতুন দিন
কাইসার আহমেদ জিসান
দর্শন বিভাগ, রাবি
কখনো ভাবি নি যে আজকের এই অত্যাধুনিক যুগে এসেও এমন দিন পার করতে হবে।করোনা ইস্যু তে ভার্সিটি বন্ধ হবে প্রথম প্রথম ভালই লাগছিল, কিন্তু একবারো ভাবিনি যে পৃথিবীটা এমন স্থবির হয়ে যাবে।আজকের এই বন্দি জীবন পার করতে গিয়ে অনুভব করতে পারছি খাঁচায় বন্দি থাকা পাখি আর চিড়িয়াখানায় বন্দি থাকা ঐ নিরীহ প্রানি গুলার জীবন।অন্ধকারের কারনে যেমন আলোর মূল্য বুঝা যায় ঠিক তেমনি এই দিন গুলো পার করতে গিয়ে স্বাভাবিক দিন গুলোর মূল্য বুঝতে পারছি।আমাদের জীবনটা অনেকটা অস্বাভাবিক হয় গেলেও স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে প্রকৃতির রুপ।নতুন রুপে যেন সাজঁতে শুরু করেছে পৃথিবীর প্রান-প্রকৃতি।তবে দিনকে দিন পরিস্থিতি খারাপ থেকে খারাপের দিকেই যাচ্ছে,কেও বলতেও পারছে না এর শেষ কোথায়।কথায় যেমন আছে হোপ নেভার ডাইস তেমনি সব কিছু আবার ঠিক হয়ে যাবে খুব শীগ্রই আবার আমরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব এই আশা নিয়েই বেঁচে আছি।
তানজিনা আক্তার
দর্শন বিভাগ, রাবি
প্রায় দুই মাস ধরে করোনার প্রকোপে গৃহ বন্দী জীবন পার করছি। পরিস্থিতি এমন হবে ভাবতেও পারি নি। কোয়ারেন্টাইন এর সময়ের জন্য প্রস্ততি নেওয়া হয়নি। তারপর ও সবসময় চেষ্টা করি ভালো কাজে সময়টা পার করার জন্য ।পরিবারকে যথেষ্ট সময় দিতে পারছি । বিশেষ করে মার কাজে সাহায্য করতে পারছি। ইফতার ও সেহেরি তৈরি করতে সাহায্য করতে পারছি।তাছাড়া ভাগ্নে ওভাইয়া ছোটবোনদের সাথে আড্ডা গল্প গান হৈচৈ পরিবারের সবার সাথে সেহেরি ও ইফতার সব মিলিয়ে সময়টা দারুন কাটছে বলা যায়।তাছাড়া আমার ছোট বোন ও ভাগ্নে কে পড়াইতেছি ।ওদেরকে পড়াইতে বেশ ভালোই লাগছে । বেশ ভালোই সময়টা কাটছে বলা যায়।
সাজল হোসাইন বাপ্পি
ইতিহাস বিভাগ,রাবি
করোনা ভাইরাস প্রকোপে চিন্তিত পৃথিবী,প্রতিদিন মৃত্যুর মিছিলে নিস্তব্ধ পৃথিবীর মানুষ যে খান থেকে বাদ যাইনি প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ।গত দুই মাস ধরে ক্যাম্পাস থেকে শত মাইল দূরে বাড়িতে অবস্থান করছি। বাড়িতে অবস্থান করার সুবাদে সময়টা ভালোই যাচ্ছে। পরিবারকে যথেষ্ট পরিমাণ সময় দিতে পারছি, তাদের বিভিন্ন কাজে সাহায্য করতে পেরে নিজেকে আত্মবিশ্বাসী মনে হয়। অনেকদিন ছুটির কারণে অনেকদিন পরে পরিবারের সাথে সবগুলা রোজা পালন করে সেহরি ও ইফতারের আনন্দটা ভাগ করতে পেরে ভালই লাগছে। পরিবারকে দেওয়া পর যেইটুকু সময় পাই তা বই পড়ে শেষ করি, বিশেষ করে গল্প,উপন্যাস,ভ্রমণকাহিনী ইতিমধ্যে জাফর ইকবাল স্যার,হুমায়ুন স্যার এবং জসীমউদ্দীনের কিছু বই শেষ হয়েছে। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমার জায়গা থেকে মানুষকে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। করোনা কে ভয় নয় আত্মবিশ্বাসী হোন ঘরে থাকুন সুস্থ থাকুন।ইনশাআল্লাহ একদিন আমরাই নতুন পৃথিবীকে দেখব,যেখানে থাকবে না করোনা নামক ভয়।
















