০৯:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

করিমগঞ্জে যুবক অপহরণ ও নির্যাতনের মামলায় মূল আসামী কারাগারে, নিরাপত্তাহীন- তায় ভুক্তভোগী পরিবার।

মোঃ মুজাহিদুল ইসলামঃ
  • প্রকাশ : ১০:১০:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 18

জাতীয় সাপ্তাহিক অন্যায়ের প্রতিবাদ।

মোঃ মুজাহিদুল ইসলামঃ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মো. রায়হান নামে এক যুবককে অপহরণ ও পৈশাচিক নির্যাতনের মামলার প্রধান আসামি রাকিব আকুঞ্জিকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। কিশোরগঞ্জ জেলা আদালতে আসামী স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে বিচারক তাদের আবেদন নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন। আসামিরা কারাগারে গেলেও বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী রায়হান ও তার পরিবার।

অভিযোগ উঠেছে, আসামীরা জামিনে বেরিয়ে আসলে মামলা তুলে নিতে বাদী ও ভিকটিমকে প্রাণে মেরে ফেলতে পারে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৬ নভেম্বর করিমগঞ্জ উপজেলার জগৎসাবাড়ি গ্রামে তুচ্ছ ঘটনার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এর একপর্যায়ে মরহুম আব্দুল করিমের ছেলে মো. রায়হানকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায় প্রতিপক্ষ। অপহরণের পর তাকে একটি গোপন স্থানে আটকে রেখে দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

এই ঘটনায় মো. জালাল (৪৮) বাদী হয়ে করিমগঞ্জ থানায় ১নং আসামি রাকিব আকুঞ্জিসহ ৭ জন এজাহারভুক্ত এবং অজ্ঞাত আরও ২/৩ জনের বিরুদ্ধে ৬ নং মামলাটি দায়ের করেন।
এবিষয়ে মামলার বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা করিমগঞ্জ থানার এসআই ফজলুল হক জানান, এলাকা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই বর্বরোচিত হামলা ও অপহরণের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে এবং আমরা সব দিক খতিয়ে দেখছি।”

এঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রায়হানের ওপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী ইতিপূর্বে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।তবে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তারা বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। ভিকটিম রায়হানের স্বজনদের আশঙ্কা, আসামিরা যদি কোনোভাবে জামিনে বেরিয়ে আসে, তবে মামলার বাদী ও ভিকটিমকে হত্যা করা হতে পারে।

এ বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত শেষ করে দ্রুতই আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে যাতে প্রকৃত অপরাধীরা কঠোর শাস্তি পায়।

Please Share This Post in Your Social Media

করিমগঞ্জে যুবক অপহরণ ও নির্যাতনের মামলায় মূল আসামী কারাগারে, নিরাপত্তাহীন- তায় ভুক্তভোগী পরিবার।

প্রকাশ : ১০:১০:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

জাতীয় সাপ্তাহিক অন্যায়ের প্রতিবাদ।

মোঃ মুজাহিদুল ইসলামঃ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মো. রায়হান নামে এক যুবককে অপহরণ ও পৈশাচিক নির্যাতনের মামলার প্রধান আসামি রাকিব আকুঞ্জিকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। কিশোরগঞ্জ জেলা আদালতে আসামী স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে বিচারক তাদের আবেদন নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন। আসামিরা কারাগারে গেলেও বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী রায়হান ও তার পরিবার।

অভিযোগ উঠেছে, আসামীরা জামিনে বেরিয়ে আসলে মামলা তুলে নিতে বাদী ও ভিকটিমকে প্রাণে মেরে ফেলতে পারে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৬ নভেম্বর করিমগঞ্জ উপজেলার জগৎসাবাড়ি গ্রামে তুচ্ছ ঘটনার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এর একপর্যায়ে মরহুম আব্দুল করিমের ছেলে মো. রায়হানকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায় প্রতিপক্ষ। অপহরণের পর তাকে একটি গোপন স্থানে আটকে রেখে দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

এই ঘটনায় মো. জালাল (৪৮) বাদী হয়ে করিমগঞ্জ থানায় ১নং আসামি রাকিব আকুঞ্জিসহ ৭ জন এজাহারভুক্ত এবং অজ্ঞাত আরও ২/৩ জনের বিরুদ্ধে ৬ নং মামলাটি দায়ের করেন।
এবিষয়ে মামলার বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা করিমগঞ্জ থানার এসআই ফজলুল হক জানান, এলাকা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই বর্বরোচিত হামলা ও অপহরণের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে এবং আমরা সব দিক খতিয়ে দেখছি।”

এঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রায়হানের ওপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী ইতিপূর্বে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।তবে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তারা বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। ভিকটিম রায়হানের স্বজনদের আশঙ্কা, আসামিরা যদি কোনোভাবে জামিনে বেরিয়ে আসে, তবে মামলার বাদী ও ভিকটিমকে হত্যা করা হতে পারে।

এ বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত শেষ করে দ্রুতই আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে যাতে প্রকৃত অপরাধীরা কঠোর শাস্তি পায়।