০৭:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভিজিডি ও মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

‎ মোঃ আবু সালেহ।
  • প্রকাশ : ০১:০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 20

জাতীয় সাপ্তাহিক অন্যায়ের প্রতিবাদ। 

‎ মোঃ আবু সালেহ।

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় ভিজিডি চাউল বিতরণ ও মাতৃত্বকালীন ভাতা কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসিমা খাতুনের বিরুদ্ধে।অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গাংনী উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে সরকারিভাবে অসহায় ও দুস্থ মানুষের জন্য প্রতি মাসে ভিজিডির আওতায় জনপ্রতি ৩০ কেজি করে চাল বরাদ্দ আসে। তবে প্রকৃত উপকারভোগীদের বাদ দিয়ে ভুয়া নামের তালিকা তৈরি করে এসব চাল বিতরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

‎‎ভিজিডি চাউল বিতরণের সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার ওপর থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে যোগসাজশে ভুয়া তালিকা তৈরি করে শত শত বস্তা চাল আত্মসাৎ করছেন। ভাতা ভোগীদের নামের তালিকা চাইলে সাংবাদিকদের নানা অজুহাতে মাসের পর মাস ঘোরাতে থাকেন।

‎‎এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, নাসিমা খাতুন যোগদানের পর থেকেই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে যোগসাজশে মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড প্রকৃত অসহায় ও দুস্থ নারীদের না দিয়ে আর্থিক উৎকোচের বিনিময়ে প্রভাবশালী ও বিত্তবানদের মধ্যে বিতরণ করে আসছেন।

‎‎নাসিমা খাতুনের বাড়ি গাংনী উপজেলায় হওয়ায় তিনি দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে অবস্থান করে আত্মীয়তা ও প্রভাব খাটিয়ে অফিস পরিচালনা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
‎‎দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিয়মিতভাবে অফিসে উপস্থিত না থাকলেও স্টাফদের কাছ থেকে প্রায়শই শোনা যায়, তিনি জেলা মিটিংয়ে আছেন- এভাবেই চলছে তার কর্মকাণ্ড।

‎‎সরকারিভাবে গাংনী উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মাধ্যমে দুস্থ নারীদের জন্য তিন মাস মেয়াদি সেলাই প্রশিক্ষণ, ব্লক-বাটিক ও বিউটিশিয়ান প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু রয়েছে। প্রতিটি ট্রেডে ৩০ জন করে মোট ৯০ জন নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা থাকলেও সরেজমিনে দেখা গেছে, কোনো কোনো ট্রেডে মাত্র ১৫ জন এবং কোথাও ২০ জন নারী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

‎‎অভিযোগ রয়েছে, কাগজে-কলমে ৩০ জন করে ৯০ জনের উপস্থিতি দেখিয়ে যাতায়াত ভাতা ও সম্মানীর টাকা উত্তোলন করা হলেও অনুপস্থিত নারীদের টাকা তাদের না দিয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নিজেই আত্মসাৎ করছেন।
‎‎এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসিমা খাতুন বলেন, চাউল বিতরণে কোনো অনিয়ম হয়নি।

যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বলেন, চাউল বিতরণে অনিয়মের বিষয়ে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

ভিজিডি ও মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

প্রকাশ : ০১:০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

জাতীয় সাপ্তাহিক অন্যায়ের প্রতিবাদ। 

‎ মোঃ আবু সালেহ।

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় ভিজিডি চাউল বিতরণ ও মাতৃত্বকালীন ভাতা কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসিমা খাতুনের বিরুদ্ধে।অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গাংনী উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে সরকারিভাবে অসহায় ও দুস্থ মানুষের জন্য প্রতি মাসে ভিজিডির আওতায় জনপ্রতি ৩০ কেজি করে চাল বরাদ্দ আসে। তবে প্রকৃত উপকারভোগীদের বাদ দিয়ে ভুয়া নামের তালিকা তৈরি করে এসব চাল বিতরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

‎‎ভিজিডি চাউল বিতরণের সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার ওপর থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে যোগসাজশে ভুয়া তালিকা তৈরি করে শত শত বস্তা চাল আত্মসাৎ করছেন। ভাতা ভোগীদের নামের তালিকা চাইলে সাংবাদিকদের নানা অজুহাতে মাসের পর মাস ঘোরাতে থাকেন।

‎‎এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, নাসিমা খাতুন যোগদানের পর থেকেই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে যোগসাজশে মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড প্রকৃত অসহায় ও দুস্থ নারীদের না দিয়ে আর্থিক উৎকোচের বিনিময়ে প্রভাবশালী ও বিত্তবানদের মধ্যে বিতরণ করে আসছেন।

‎‎নাসিমা খাতুনের বাড়ি গাংনী উপজেলায় হওয়ায় তিনি দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে অবস্থান করে আত্মীয়তা ও প্রভাব খাটিয়ে অফিস পরিচালনা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
‎‎দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিয়মিতভাবে অফিসে উপস্থিত না থাকলেও স্টাফদের কাছ থেকে প্রায়শই শোনা যায়, তিনি জেলা মিটিংয়ে আছেন- এভাবেই চলছে তার কর্মকাণ্ড।

‎‎সরকারিভাবে গাংনী উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মাধ্যমে দুস্থ নারীদের জন্য তিন মাস মেয়াদি সেলাই প্রশিক্ষণ, ব্লক-বাটিক ও বিউটিশিয়ান প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু রয়েছে। প্রতিটি ট্রেডে ৩০ জন করে মোট ৯০ জন নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা থাকলেও সরেজমিনে দেখা গেছে, কোনো কোনো ট্রেডে মাত্র ১৫ জন এবং কোথাও ২০ জন নারী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

‎‎অভিযোগ রয়েছে, কাগজে-কলমে ৩০ জন করে ৯০ জনের উপস্থিতি দেখিয়ে যাতায়াত ভাতা ও সম্মানীর টাকা উত্তোলন করা হলেও অনুপস্থিত নারীদের টাকা তাদের না দিয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নিজেই আত্মসাৎ করছেন।
‎‎এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসিমা খাতুন বলেন, চাউল বিতরণে কোনো অনিয়ম হয়নি।

যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বলেন, চাউল বিতরণে অনিয়মের বিষয়ে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।