১১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভুল পথ পরিহার করিতে হইবে

সারাবাংলা২৪নিউজ ডেস্ক,ঢাকা
  • প্রকাশ : ০৯:৪৬:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২০
  • / 84

সম্পাদকীয় 

এই উপমহাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি হইল, ক্ষমতাসীন দলগুলি গুন্ডা পোষণ করে। এই সকল গুন্ডারও জানা থাকে, তাহাদের জন্য ‘সাত খুন মওকুফ’। ফলে সমাজে যত অন্যায়, যত অপরাধ, যত দখলবাজি হইয়া থাকে তাহা প্রত্যক্ষভাবে করিয়া থাকে সরকারি দলের ছত্রছায়ায় থাকা লোকেরা। আমাদের এই ভূমিতে এহেন সংস্কৃতি আমরা দেখিয়া আসিতেছি ব্রিটিশ শাসন অবসানের পর ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশের মানুষের হাতে ক্ষমতা আসিবার পর হইতেই। গণরাজনীতির পরিবর্তে প্রাসাদ রাজনীতিই মুখ্য হইয়া উঠে। ১৯৫১ সাল হইতেই একের পর এক প্রধানমন্ত্রী প্রেসিডেন্ট পদে পরিবর্তন হইতে থাকে। ইহাই পথ করিয়া দেয় সেনাপতি আইয়ুব খানকে গদি দখল করিবার। তাহার হাতেই তৈরি হইল সরকারের পেটোয়া বাহিনী কুখ্যাত এনএসএফ। সরকারের মদতপুষ্ট মাত্র দুই-চার জন দাপাইয়া বেড়াইত বিশ্ববিদ্যালয়। তাহারা ক্যানটিনের খাবার খাওয়ার পর হাজার হাজার ছাত্রের জুটিত ডাইলের পানি। প্রশাসন চলিত কনভেনশন মুসলিম লীগের অনুসারীদের খেয়ালখুশিতে।
এক পর্যায়ে আসিয়া আমাদের দেশ স্বাধীন হইলেও এই সংস্কৃতির কোনো পরিবর্তন হয় নাই। বরং আজ ইহা আরো বিস্তৃত হইয়াছে। আজও আমরা লক্ষ করি, উপমহাদেশের নেতারা ক্ষমতায় টিকিয়া থাকিবার জন্য এই ভুলটি করিয়া থাকেন। এইখানে নেতারা যাহা বলেন, তাহার কিছুই বাস্তবায়িত হয় না। যদি তাহাদের কথার শতকরা ১ ভাগও বাস্তবায়িত হইত তাহা হইলেও দেশ বদলাইয়া যাইত। তাহারা রাজধানীতে বসিয়া দেশের যেই চিত্র দেখিতে চাহেন বা দেখাইতে চাহেন তাহা হইতে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখিতে পাওয়া যায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলে। সরকারি দলের দাপটের কাছে আইনকানুন যেন মুখ থুবড়াইয়া পড়ে। এই সকল সরকারপুষ্ট ব্যক্তিরা যখন অপরাধ করে, তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দিলেও তাহারা অপরাধস্থলে যাইতে সাহস করেন না। অথচ যাহারা ক্ষমতায় থাকেন তাহারা পূর্বেও একই দৃশ্য দেখিয়াছেন, দুর্বৃত্তায়ন দেখিয়াছেন; কিন্তু ক্ষমতার স্বাদ গ্রহণ করিবামাত্র সেই কথা দিব্বি ভুলিয়া বসিয়া আছেন! সিরাজউদ্দৌলা নাটকের একটি সংলাপ আছে। বাংলার নবাব মৃত্যুর পূর্বমুহূর্তে বলিতেছেন, ‘যদি আর জন্মে পলাশীতে আসার সুযোগ হয়, তাহলে আবার আমি মিরজাফরকে বিশ্বাস করব।’ জ্ঞানীজনেরা বলেন, এই সংলাপের মাধ্যমে বুঝানো হইয়াছে বারংবার একই ভুল করিবার কথা; বারংবার ভুল লোকের হাতে শক্তি তুলিয়া দেওয়ার কথা।
সুতরাং এই ভুল পথ পরিহার করিতে হইবে। তাহা হইলেই কেবল নিজের কল্যাণ, দেশের কল্যাণ মানুষের কল্যাণ সম্ভব। শুধু এই ধরনের মদত দেওয়া বন্ধ করিলে আইনশৃঙ্খলা চৌকিদার দ্বারা রক্ষা করাও সম্ভব হইবে বলিয়া আমরা মনে করি; কিন্তু এই ভুল হইতে ক্ষমতাসীন দলগুলি যতদিন মুক্ত না হইবে, ততদিন একটি দেশের সত্যিকারের মুক্তি আশা করা যায় না। দেশ ও দেশের মানুষ কেবল নয়নজলেই ভাসিতে থাকিবে।
সূত্রঃ ইত্তেফাক  

Please Share This Post in Your Social Media

ভুল পথ পরিহার করিতে হইবে

প্রকাশ : ০৯:৪৬:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২০

সম্পাদকীয় 

এই উপমহাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি হইল, ক্ষমতাসীন দলগুলি গুন্ডা পোষণ করে। এই সকল গুন্ডারও জানা থাকে, তাহাদের জন্য ‘সাত খুন মওকুফ’। ফলে সমাজে যত অন্যায়, যত অপরাধ, যত দখলবাজি হইয়া থাকে তাহা প্রত্যক্ষভাবে করিয়া থাকে সরকারি দলের ছত্রছায়ায় থাকা লোকেরা। আমাদের এই ভূমিতে এহেন সংস্কৃতি আমরা দেখিয়া আসিতেছি ব্রিটিশ শাসন অবসানের পর ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশের মানুষের হাতে ক্ষমতা আসিবার পর হইতেই। গণরাজনীতির পরিবর্তে প্রাসাদ রাজনীতিই মুখ্য হইয়া উঠে। ১৯৫১ সাল হইতেই একের পর এক প্রধানমন্ত্রী প্রেসিডেন্ট পদে পরিবর্তন হইতে থাকে। ইহাই পথ করিয়া দেয় সেনাপতি আইয়ুব খানকে গদি দখল করিবার। তাহার হাতেই তৈরি হইল সরকারের পেটোয়া বাহিনী কুখ্যাত এনএসএফ। সরকারের মদতপুষ্ট মাত্র দুই-চার জন দাপাইয়া বেড়াইত বিশ্ববিদ্যালয়। তাহারা ক্যানটিনের খাবার খাওয়ার পর হাজার হাজার ছাত্রের জুটিত ডাইলের পানি। প্রশাসন চলিত কনভেনশন মুসলিম লীগের অনুসারীদের খেয়ালখুশিতে।
এক পর্যায়ে আসিয়া আমাদের দেশ স্বাধীন হইলেও এই সংস্কৃতির কোনো পরিবর্তন হয় নাই। বরং আজ ইহা আরো বিস্তৃত হইয়াছে। আজও আমরা লক্ষ করি, উপমহাদেশের নেতারা ক্ষমতায় টিকিয়া থাকিবার জন্য এই ভুলটি করিয়া থাকেন। এইখানে নেতারা যাহা বলেন, তাহার কিছুই বাস্তবায়িত হয় না। যদি তাহাদের কথার শতকরা ১ ভাগও বাস্তবায়িত হইত তাহা হইলেও দেশ বদলাইয়া যাইত। তাহারা রাজধানীতে বসিয়া দেশের যেই চিত্র দেখিতে চাহেন বা দেখাইতে চাহেন তাহা হইতে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখিতে পাওয়া যায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলে। সরকারি দলের দাপটের কাছে আইনকানুন যেন মুখ থুবড়াইয়া পড়ে। এই সকল সরকারপুষ্ট ব্যক্তিরা যখন অপরাধ করে, তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দিলেও তাহারা অপরাধস্থলে যাইতে সাহস করেন না। অথচ যাহারা ক্ষমতায় থাকেন তাহারা পূর্বেও একই দৃশ্য দেখিয়াছেন, দুর্বৃত্তায়ন দেখিয়াছেন; কিন্তু ক্ষমতার স্বাদ গ্রহণ করিবামাত্র সেই কথা দিব্বি ভুলিয়া বসিয়া আছেন! সিরাজউদ্দৌলা নাটকের একটি সংলাপ আছে। বাংলার নবাব মৃত্যুর পূর্বমুহূর্তে বলিতেছেন, ‘যদি আর জন্মে পলাশীতে আসার সুযোগ হয়, তাহলে আবার আমি মিরজাফরকে বিশ্বাস করব।’ জ্ঞানীজনেরা বলেন, এই সংলাপের মাধ্যমে বুঝানো হইয়াছে বারংবার একই ভুল করিবার কথা; বারংবার ভুল লোকের হাতে শক্তি তুলিয়া দেওয়ার কথা।
সুতরাং এই ভুল পথ পরিহার করিতে হইবে। তাহা হইলেই কেবল নিজের কল্যাণ, দেশের কল্যাণ মানুষের কল্যাণ সম্ভব। শুধু এই ধরনের মদত দেওয়া বন্ধ করিলে আইনশৃঙ্খলা চৌকিদার দ্বারা রক্ষা করাও সম্ভব হইবে বলিয়া আমরা মনে করি; কিন্তু এই ভুল হইতে ক্ষমতাসীন দলগুলি যতদিন মুক্ত না হইবে, ততদিন একটি দেশের সত্যিকারের মুক্তি আশা করা যায় না। দেশ ও দেশের মানুষ কেবল নয়নজলেই ভাসিতে থাকিবে।
সূত্রঃ ইত্তেফাক