১১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
কপিরাইট আইন :চাই প্রচারণা ও সচেতনতা
সারাবাংলা২৪নিউজ ডেস্ক,ঢাকা
- প্রকাশ : ০৭:২৩:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২০
- / 89
অনলাইন ডেস্ক
গতকাল ছিল বিশ্ব মেধাসম্পদ দিবস। দেশে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বিবেচনা করিয়া এই বত্সর দিবসটি অনলাইন কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হইয়াছে। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল—‘ইনোভেট ফর আ গ্রিন ফিউচার’। অর্থাত্ সবুজ ভবিষ্যতের জন্য উদ্ভাবন করুন। বিশ্বে ২০৪০ সালের জ্বালানি চাহিদা ও পরিবেশ সুরক্ষায় একটি সবুজ ভবিষ্যত্ গড়িয়া তুলিতে হইলে নূতন নূতন উদ্ভাবনীশক্তি ও মেধাসম্পদ সৃষ্টি অপরিহার্য। বাংলাদেশে গবেষণা ও উন্নয়নশিল্প বিকাশে দেশের বিজ্ঞানী, গবেষক, সৃজনশীল কর্মী, সফটওয়ারশিল্পী প্রমুখ ব্যক্তির অবদান রাখা একান্ত দরকার। এই সকল সৃষ্টিশীল মানুষের আর্থিক অধিকার নিশ্চিত করিবার জন্যই দরকার কপিরাইট আইনের বাস্তবায়ন। বাংলাদেশে কপিরাইট আইন প্রণীত হইয়াছে ২০০০ সালে। ২০০৫ সালে আইনটির সংশোধন করা হয়; কিন্তু দুঃখের বিষয় হইল, এই আইনটি সম্পর্কে অনেকের ধারণা অস্পষ্ট। ফলে অনেকে আইনি সুরক্ষা ও অধিকার হইতে বঞ্চিত হইতেছেন।
ঢাকার কপিরাইট অফিসের কার্যক্রম শুরু হয় ষাটের দশকে; কিন্তু আজও বেশির ভাগ সৃজনশীল মেধাসম্পদের কপিরাইট নিবন্ধন করা হইতেছে না। এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট লোকজনের অনাগ্রহ উদ্বেগজনক। ষাটের দশক হইতে ২০০৯ সাল পর্যন্ত নিবন্ধনকৃত মেধাসম্পদের সংখ্যা মাত্র ৯ হাজার ৯৬১। অবশ্য ২০১৭ সালে কপিরাইট আইনে ছয়টি বিষয়ে নিবন্ধন হইয়াছে ৩ হাজার ১৩৪টি কর্ম। কপিরাইট কোনো মননশীল ও সৃজনশীল কর্মের জন্য ইহার স্রষ্টাকে স্বত্ব প্রদান এবং বিনা অনুমতিতে এই সৃষ্টকর্মের যে কোনো ধরনের অনুলিপি, অনু্বাদ, পুনর্মুদ্রণ, বিক্রয়, প্রচার ইত্যাদি নিষিদ্ধ করিয়া থাকে। আমরা দেখিতে পাই, অমর একুশে বইমেলায় অনেক লেখকের বই বা বইয়ের অংশবিশেষ অন্যজনের নামে বাজারজাতের অভিযোগ উঠে। লেখকের অনুমতি ছাড়া অন্য ভাষার গ্রন্থ অনুবাদের ঘটনাও ঘটে। কপিরাইটের সংস্কৃতি বজায় থাকিলে ইহা আর সম্ভব হইবে না। এইজন্য যে কোনো বইয়ের শুধু ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড বুক নাম্বার বা আইএসবিএন নিলেই চলিবে না, বইটির কপিরাইট নিবন্ধন করাও জরুরি। লেখকরা যে সম্মানী হইতে বঞ্চিত হন, কপিরাইট নিবন্ধন থাকিলে তাহার সুযোগও কমিয়া যাইবে। শুধু বই নহে, সংগীত, চলচ্চিত্র, চিত্রকলা, অডিও-ভিডিও, ফটোগ্রাফ, ভাস্কর্য, সফটওয়্যার, ই-মেইল, ওয়েবসাইট, বেতার ও টেলিভিশন সম্প্রচার ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি বা মেধা সম্পদের কপিরাইট নিবন্ধন থাকা আবশ্যক।
১৯৮৬ সালে আন্তর্জাতিক বার্ন কনভেনশনের মাধ্যমে মেধাস্বত্বের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার ট্রিপ চুক্তিতে এই কনভেনশন অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বাংলাদেশ এই সংস্থার সদস্য হওয়ায় এই চুক্তি মানিয়া চলিতে বাধ্য। সেই আলোকে প্রণীত আমাদের কপিরাইট আইনের ১০৩ ধারা অনুযায়ী প্রণয়ন করা হইয়াছে কপিরাইট রুলস ২০০৬। এমনকি গঠিত হইয়াছে টাস্কফোর্সও। এই অবস্থায় আমাদের কপিরাইট অবস্থা এতটা নাজুক হইবার কথা নহে। যে কোনো কপিরাইটের মেয়াদ থাকে স্বত্বাধিকারীর মৃত্যুর পর ৬০ বত্সর পর্যন্ত। এই আইন অমান্য করিলে অনূর্ধ্ব চার বত্সরের কারাদণ্ড ও ২ লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান রহিয়াছে। চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে ইহা পাঁচ বত্সর ও ৫ লক্ষ টাকা। অতএব, এই ব্যাপারে আমাদের সকল পক্ষের সচেতনতা দরকার। আইনটি সম্পর্কে প্রচারণার পাশাপাশি কপিরাইট সোসাইটি গঠনের প্রয়োজনীয়তাও অনস্বীকার্য।

















