সড়ক বিভাগ নিজের জায়গা অবৈধ দখলে রেখে জেলা পরিষদের জায়গা দখলের অপচেষ্টা।
- প্রকাশ : ১১:১২:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৫
- / 38
জাতীয় সাপ্তাহিক অন্যায়ের প্রতিবাদ।
আল আমিন মেহেরপুর।
মেহেরপুর-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের গাংনী উপজেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র বড়বাজার এলাকার নির্মাণ কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে গাংনী উপজেলাবাসীর দুর্ভোগ বেড়েছে। রাস্তার এই অংশে ছোট-বড় দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ব ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে একাধিকবার। তবুও সড়ক বিভাগ রাস্তা নির্মাণে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
জানা গেছে, সড়ক বিভাগের নিজস্ব জমি অজ্ঞাত কারণে প্রভাবশালী মহলের কাছে রেখে জেলা পরিষদের জমি দখলের অপচেষ্টা করছেন সড়ক বিভাগের সাব-ডিভিশনাল প্রকৌশলী (এসডি) মিজানুর রহমান। একটি সূত্র জানিয়েছে, গাংনী শহরের সড়ক বিভাগের জমিতে স্থাপিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য নোটিশ ও মাইকিং করা হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। ফলে কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ অবৈধ দখলে নিয়ে চারতলা ভবন নির্মাণ করে লক্ষ লক্ষ টাকা আয়ের উৎস বানিয়েছে একটি প্রভাবশালী মহল।
অভিযোগ রয়েছে, নিজস্ব জমি অবৈধ দখলমুক্ত না করেই এসডি মিজানুর রহমান ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জেলা পরিষদের জমি দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এ ঘটনায় জায়গার মালিকানা নির্ধারণে উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত টিম সোমবার দুপুরে গাংনী উপজেলা শহরে আসে।
তদন্ত টিমের নেতৃত্বে ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান। সদস্য হিসেবে ছিলেন মেহেরপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ল্যান্ড রেকর্ড ও অ্যাকুইজিশন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, মেহেরপুর জেলা পরিষদের প্রতিনিধি এবং মেহেরপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী। এসময় গাংনী বাজারের বিশিষ্টজন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
সাব-ডিভিশনাল প্রকৌশলী (এসডি) মিজানুর রহমান বলেন, “গাংনী উপজেলা শহরে আমরা যৌথভাবে তদন্ত করেছি। তদন্ত টিমের প্রধান রিপোর্ট লিখবেন এবং সেই রিপোর্টের প্রেক্ষিতে যত দ্রুত সম্ভব যৌথ পরিমাপ করে বিষয়টি চূড়ান্ত করার জন্য সুপারিশ করবেন। জেলা পরিষদের দাবি একটি প্লট, আর আমাদের দাবি আরেকটি প্লট। ওদের কাগজপত্র অনুযায়ী যা আছে, আমরা সেটা চাইনি। আমরা যা চাই, জেলা পরিষদ সেটা মানছে না। যৌথ পরিমাপ হলেই বোঝা যাবে জমি কার।”
তাকে প্রশ্ন করা হয়, নিজেদের জমি চাইলে জেলা পরিষদ কেন মানবে না? জবাবে তিনি বলেন, “আমরা আমাদের জমিই চাইছি, জেলা পরিষদকে আটকানোর বিষয় নয়। কিন্তু তারা যৌথ পরিমাপ করছে না।”
নিজস্ব জমি ফেলে রেখে জেলা পরিষদের জমি দখলের চেষ্টা কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে কথা বলার এখতিয়ার আমার নেই। এটা এখন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিষয়।”
উল্লেখ্য, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নিজস্ব জমি থাকা সত্ত্বেও সেখানে রাস্তা না করে জমি অযত্নে ফেলে রাখা হয়েছে। একটি সূত্র অভিযোগ করে জানিয়েছে, এসডি মিজান কোটি টাকা বাণিজ্য করে সড়ক বিভাগের জমি প্রভাবশালীদের বরাদ্দ দিয়েছেন। এসব ব্যবসায়ী ও মার্কেট মালিকদের রক্ষায় জমি উদ্ধার প্রক্রিয়া বন্ধ করেছেন তিনি।
এছাড়া এসডি মিজানের যোগসাজশে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কের নির্মাণকাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জহিরুল ট্রেডার্সের বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা জানান, প্রায় সাড়ে ৬শ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আঞ্চলিক মহাসড়কটি নির্মাণের পরপরই বিভিন্ন স্থানে দেবে গেছে এবং ফাটল দেখা দিয়েছে।










