প্রশাসন নিরব : কুমিল্লার দাউদকান্দিতে চলছে রমরমা জুয়ার আসর।
- প্রকাশ : ১১:৩৩:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 39
জাতীয় সাপ্তাহিক অন্যায়ের প্রতিবাদ।
নিজস্ব প্রতিবেদক।
প্রতিদিন ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকার জুয়া
সর্বস্ব হারাচ্ছে স্বল্প আয়ের মানুষ
জানেন না পুলিশ সুপার
অনুমতি দেওয়া হয়নি—জেলা প্রশাসক
কুমিল্লার দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজার ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন আকবর আলী খান কারিগরি ও বাণিজ্য কলেজের পাশের একটি ভবনে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে রমরমা জুয়ার আসর। জানা যায়, ‘ফাইজ ভিলা’র ৬ষ্ঠ তলার ছাদে প্রতিদিন বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এই জুয়ার মহড়া।

স্থানীয়রা একাধিকবার প্রশাসনকে জানালেও অজ্ঞাত কারণে এ বিষয়ে প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে প্রশাসনের নীরব ভূমিকা।
জুয়ার নেশায় সর্বশান্ত হয়ে পড়ছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। রিকশা চালক, দিনমজুর, বেকার তরুণসহ অনেকেই এক রাতের মধ্যে লাখো টাকা হারাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, এই নেশায় জড়িয়ে পড়েছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও। সন্ধ্যা নামলেই বই-খাতা ছেড়ে শিক্ষার্থীরা ভিড় করছে এই জুয়ার আসরে। এতে শিক্ষার পরিবেশ ভেঙে পড়ছে এবং গড়ে উঠছে বখে যাওয়া তরুণদের গ্যাং সংস্কৃতি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাণিজ্য মেলার নামে জেলা জুড়ে লটারির টিকিট বিক্রি করেও চলছে জুয়ার প্রচার। এতে স্বল্প আয়ের মানুষ নিঃস্ব হচ্ছে, পরিবারে দেখা দিচ্ছে অশান্তি।
প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, এই জুয়ার আসর পরিচালনায় গিয়াসউদ্দিন, শাহাজাহান, নজরুল, রিয়াজুলসহ কয়েকজন জড়িত রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে মাদকসহ নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকারও। জুয়ার আসর বন্ধ করতে বলা হলে তারা উল্টো উগ্র আচরণ করেন।
এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক জানান, জুয়ার কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে কুমিল্লার পুলিশ সুপার বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই, আপনার মাধ্যমে শুনলাম। ঠিকানাটা লিখে দেন, খোঁজখবর নিচ্ছি।”
এদিকে সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এখনই লাগাম টানা না হলে বিপথে যাবে যুবসমাজ এবং সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসবে খেটে খাওয়া পরিবারগুলো।




















